খালেদা জিয়া মুক্ত আরো ৬ মাস

প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১১:৪৯:২১

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিত করে মুক্তির মেয়াদ আরো ছয় মাস বাড়ানো হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতের পর গতকাল মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। মুক্তির বর্ধিত মেয়াদে খালেদা জিয়া নিজ বাসায় চিকিৎসা গ্রহণ করবেন। এ সময় তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়। যদিও বিএনপির তরফ থেকে বারবার খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ দেয়ার দাবি জানানো হচ্ছিল। বিদেশে যেতে না দেয়ার সিদ্ধান্তকে দলটি ‘অমানবিক’ বলে উল্লেখ করেছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে দাখিলকৃত আবেদন এবং আইন ও বিচার বিভাগের আইনগত মতামতের আলোকে ‘দ্য কোড অব ক্রিমিন্যাল প্রসিডিউর’ এর ধারা-৪০১ (১) এ দেয়া ক্ষমতাবলে দু’টি শর্তে (বাসায় থেকে চিকিৎসা ও বিদেশ না যাওয়া) তার (খালেদা জিয়ার) দণ্ডাদেশ ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হলো।’ এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ আরো ছয় মাস বাড়ানো সংক্রান্ত ফাইলে মতামত দিয়ে তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
টানা ২৫ মাস কারাভোগের পর গত ২৫ মার্চ মুক্তি পান খালেদা জিয়া। পরিবারের আবেদনে সরকার নির্বাহী আদেশে তাকে মুক্তি দেয়। প্রথম দফা মুক্তির মেয়াদ শেষের দিকে চলে আসায় গত ২৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে তার স্থায়ী মুক্তি চেয়ে আবেদন করা হয়। সেই চিঠিতে খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার কথা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়। তাকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা করানোর বিষয়েও পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়। কিন্তু সরকার সেই দাবি বিবেচনায় নেয়নি।
বিএনপির সূত্রগুলো বলছে, করোনা নিয়ন্ত্রণে চলে এলে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার উদ্যোগ নেবে বিএনপি। যদি বিদেশে নিতে হয়, তাহলে দল কিংবা পরিবারের তরফ থেকে নতুন করে আবেদনও করা হতে পারে।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন বকশীবাজার আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ আদালত। রায় ঘোষণার পর খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী রাখা হয়। এরপর ৩০ অক্টোবর এ মামলায় আপিলে তার আরো পাঁচ বছরের সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করেন হাইকোর্ট। একই বছরের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন একই আদালত। রায়ে সাত বছরের কারাদণ্ড ছাড়াও খালেদা জিয়াকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরো ছয় মাস কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত। পরে কারাগারে থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) নেয়া হয় খালেদা জিয়াকে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা শেষে তাকে আবারো কারাগারে পাঠানো হয়। এভাবে কয়েক দফায় তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এবং হাসপাতাল থেকে কারাগারে নেয়া হয়।
মামলা দু’টিকে ষড়যন্ত্রমূলক আখ্যা দিয়ে বিএনপি নেতারা চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এর মধ্যে বিশ্বজুড়ে করোনার প্রাদুর্ভাব শুরু হলে বিএনপি নেতারা খালেদার মুক্তির জোর দাবি তোলেন। পরিবারের পক্ষ থেকেও তার মুক্তির জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানানো হয়। সেই প্রেক্ষাপটে খালেদা জিয়াকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেয় সরকার।

প্রজন্মনিউজ২৪/হবিব

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ