করোনার মধ্যে আমেরিকায় আরেক বিপদ, ‘ফায়ার টর্নেডোতে’ পুড়ে যাচ্ছে সব

প্রকাশিত: ১৮ অগাস্ট, ২০২০ ০৩:২১:৪৬

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে নাকাল গোটা বিশ্ব। বিশ্বের ২১৫টি দেশ ও অঞ্চল এই ভাইরাসের থাবায় বিপর্যস্ত। এর মধ্যে সবচেয়ে শোচনীয় অবস্থা আমেরিকার। ইতোমধ্যে দেশটিতে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ৫৬ লাখ ১২ হাজার। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৭১৬ জনের।

এর মধ্যেই দেশটিতে আরেক বিপদ দেখা দিয়েছে। আমেরিকার নর্দার্ন ক্যালিফোর্নিয়ায় বইছে ‘ফায়ার টর্নেডো’ বা অগ্নিঝড়। প্রবল বেড়ে হচ্ছে ঘূর্ণিঝড়। বইছে হাওয়া। আর সেই হাওয়ার সঙ্গে উড়ছে আগুন। সে আগুন ছড়িয়ে পড়ছে সবখানে। আগুন, ধোঁয়া আর ছাইয়ে বিপর্যস্ত সবাই। এলাকার ঘর-বাড়িগুলোকে রক্ষা করতে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নর্দার্ন ক্যালিফোর্নিয়ায় এমন ঘটনাই ঘটেছে। আকাশ ছেয়ে আছে ফায়ার ক্লাউড বা আগুন থেকে তৈরি মেঘে। গত সপ্তাহের শেষেই ওই অঞ্চলে সেই মেঘ তৈরি হয়েছে। লয়ালটন নামে এক ছোট শহরে সেই টর্নেডো দেখা যাচ্ছে।

ইতিমধ্যেই ফায়ার টর্নেডো নিয়ে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে সেখানে। জানা গেছে, যখন প্রবল বেগে হাওয়া আগুনের সংস্পর্শে আসে, তখনই এরকম ঘটনা ঘটে। আগুনের শিখা ঘুরে ঘুরে আকাশে দিকে উঠে যায় এই ধরনের টর্নেডোতে।

স্থানীয় পুলিশ এলাকা ফাঁকা করার নির্দেশনা জারি করেছে। ইতিমধ্যেই সেখানে জঙ্গলে আগুন জ্বলছে। লয়ালটনের অন্তত ২২ হাজার একর জায়গা ভস্মে পরিণত হয়েছে। চারপাশে শুধুই গরম আর শুকনো আবহাওয়া। ক্যালিফোর্নিয়ার পাশাপাশি নাভেদা থেকে ফায়ার সার্ভিসদের কর্মীদের ডেকে পাঠানো হয়েছে।

কী এই ফায়ার টর্নেডো?

যে অঞ্চলে প্রবল অগ্নিকাণ্ড হয়, তার মাথায় তৈরি হয় এক বিশেষ ধরনের মেঘ। আর সেই মেঘ হয় মারাত্মক, সেখান থেকে কী হতে পারে, তা বোঝা মুশকিল। আগুন থেকে যে বিপুল পরিমাণ তাপ নির্গত হয়, তা থেকেই তৈরি হয় এই মেঘ। আর তৈরি হয় প্রবল বেগের হাওয়া, যা ঘুরপাক খেতে খেতে এগোতে থাকে। আর সেই ঘূর্ণিঝড়ের প্রকোপে পড়তে পারে কয়েকশ মিটার এলাকা। গাছপালাও উপড়ে যেতে পারে।

এর আগে ২০০৩ সালে ক্যানবেরার দাবানল থেকে তৈরি হয়েছিল এমন একটি ফায়ার টর্নেডো। জ্বলে গিয়েছিল ৫শ’ বাড়ি, বেশ কয়েকজনের মৃত্যুও হয়েছিল সেই আগুনে। এছাড়া গত ডিসেম্বরে এমনই এক ঘটনায় মৃত্যু হয় এক ফায়ার সার্ভিস কর্মীর। সূত্র: কলকাতা২৪

প্রজন্মনিউজ২৪/ফরিদ

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ