করোনাকালে জামানতবিহীন ঋণ কমিয়ে দিয়েছে ব্যাংক

প্রকাশিত: ১৩ অগাস্ট, ২০২০ ০১:৩০:৪৮ || পরিবর্তিত: ১৩ অগাস্ট, ২০২০ ০১:৩০:৪৮

করোনায় মানুষের আয় কমে যাওয়ায় ঋণ পরিশোধ করতে পারকে কি ঋণগ্রহীতারা এ সন্দেহে  জামানতবিহীন  কমিয়ে দিয়েছে ব্যাংগুলো। ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা কমে যাওয়ায় ব্যাংকগুলো ভোক্তাঋণসহ জামানতবিহীন ঋণ আর আগের মতো ছাড় করছে না। এতে ব্যাংকের আয়ে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে জানিয়েছেন ব্যাংকাররা।

তারা বলেন, ব্যাংকের আয়ে বড় ধরনের অবদান রাখত ব্যক্তি পর্যায়ের ভোক্তাঋণ, ক্রেডিট কার্ডের ঋণসহ জামানতবিহীন ঋণ। এসব ঋণে ঝুঁকিও বেশি। আর ঝুঁকি বেশি হওয়ায় এসব ঋণ গ্রহীতাকে বাড়তি সুদ বা মুনাফা পরিশোধ করতে হয়। এ কারণেই বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় ক্রেডিট কার্ডের ঋণ সিঙ্গেল ডিজিট অর্থাৎ ৯ শতাংশের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। অর্থাৎ ভোক্তা ঋণ বাদে সব ধরনের ঋণের সুদহার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে।

ব্যাংকগুলো থেকে প্রাপ্ত পরিসংখ্যান মতে, ক্রেডিট কার্ডে ঋণের সুদহার এখনো ২০ থেকে ৩০ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, ব্যাংকের যে সেবার সুদহার সবচেয়ে বেশি তা থেকে ৫ শতাংশ বেশি নির্ধারণ করতে হবে ক্রেডিট কার্ডের সুদহার। ব্যাংকগুলো ক্রেডিট কার্ডের সুদহার বেশি নির্ধারণ করতে অপ্রচলিত একটি সেবার সুদহার ২০ শতাংশ নির্ধারণ করে। এ থেকে ৫ শতাংশ বাড়তি অর্থাৎ ২৫ শতাংশ হারে ক্রেডিট কার্ডের সুদহার নির্ধারণ করা হয়। এভাবেই ক্রেডিট কার্ডের বাড়তি সুদহার আদায় করা হয়। তেমনিভাবে ভোক্তাঋণ, কারঋণসহ অন্যান্য ভোক্তা ঋণে সুদহার বাড়তি নির্ধারণ করা হয়।

এমনই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে লাভবান খাত ভোক্তা ঋণ দিতে অনেকটা আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন ব্যাংকাররা। বুধবার বেসরকারি একটি ব্যাংকের এমডি জানিয়েছেন, এ মুহূর্তে ব্যাংকগুলো ঋণ দিয়ে ঝুঁকির মাত্রা বাড়াতে চাচ্ছে না। এক সময় ভোক্তা ঋণের প্রতি বেশি ঝোঁক ছিল ব্যাংকের। করোনার কারণে সব হিসাব পাল্টে গেছে। এখন জামানতবিহীন ঋণ দিয়ে কেউ ঝুঁকির মাত্রা বাড়াতে চাচ্ছে না। অনেকটা নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকে পড়ছে ব্যাংকগুলো।

 প্রজন্মনিউজ২৪/জহুরূল

 

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ