নৌকা-ধানের শীষে ঢাকা-৫-এ ভোটের হাওয়া

প্রকাশিত: ২৭ জুলাই, ২০২০ ১২:২২:০০

 

ডেমরা-দনিয়া-মাতুয়াইল নিয়ে গঠিত ঢাকা-৫ সংসদীয় আসনে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। গত ৬ মে সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুর রহমান মোল্লার মৃত্যুতে এই আসনটি শূন্য হয়ে যায়। তবে এখনও নির্বাচনের তারিখ কিংবা তফসিল ঘোষণা করেনি নির্বাচন কমিশন।

এরইমধ্যে আসনটি উপনির্বাচনে প্রতিদন্দ্বিতার জন্য নিজেদের অস্তিত্বের জানান দিতে মাঠে বিভিন্নভাবে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় এবং দোয়া চেয়ে পোস্টার ব্যানার সেটে তারা উপনির্বাচনের প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে নিজেদের উপস্থিতির জানান দিচ্ছেন।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গেলো নির্বাচনে এই আসনের আওয়ামী লীগের টিকিট পেয়েছিলেন হাবিবুর রহমান মোল্লা ও কাজী মনিরুল ইসলাম মনু। শেষ দিকে আওয়ামী সভানেত্রী বয়ঃজেষ্ঠ্যতা বিবেচনায় মোল্লাকেই দলীয় মনোনয়ন দেন এবং মনিরুল দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে বলেন। নেত্রীর নির্দেশে সাড়া দিয়ে মনিরুল দলের সিদ্ধান্তে আস্থা রেখে দলীয় প্রার্থীর হয়ে কাজ করেন। তবে এবার তিনি আশাবাদী। গেলো নির্বাচনে এতো বড় ত্যাগের পুরস্কার নেত্রী এবার হয়তো তার হাতেই তুলে দেবেন।

জানতে চাইলে যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী মনিরুল ইসলাম মনু ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘গেলো বছর আমাদের দুজনকেই টিকিট দেয়া হয়। শেষ দিকে নেত্রী ডেকে বলেন, তিনি (হাবিবুর রহমান মোল্লা) বয়ঃজেষ্ঠ এবং এবারই শেষ নির্বাচন করবেন। তাই হাবিবুর রহমানকে মনোনয়ন দেয়া হয়। তিনি মারা যাওযার কারণে এই আসনটি শূন্য হয়। বঙ্গবন্ধুর নিবেদিত সৈনিক হিসেবে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মনে করছেন, এবার আমার হক, আমাকেই মনোনয়ন দেয়া হবে। নেত্রীর কাছেও আমার করজোরে প্রার্থনা, তিনি গেলোবারের ত্যাগের বিনিময়ে এবার আমার প্রাপ্য পুরস্কার আমায় দেবেন।’

এই আসনের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি মনোনয়ন পেলে ইনশাল্লাহ নির্বাচিত হয়ে এখানকার শিক্ষা ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করবো। মাদক নির্মূল করবো। কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করবো। রি-অ্যাডমিশন ব্যবস্থা বন্ধে সংসদে দাবি তুলবো। এছাড়া এখানে কোনও সরকারি স্কুল-কলেজ নেই। আমি দুটি সরকারি স্কুল ও একটি সরকারি কলেজ করার চেষ্টা করবো।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই আসনে অন্তত ৩০ লক্ষ মানুষের বাস। ভোটার আছে অন্তত ৫ লক্ষ।

কাজী মনিরুল ইসলাম মনু ছাড়াও যাত্রবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুন উর রশিদ, ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম মাসুদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কামরুল হাসান রিপন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটির সাবেক সদস্য নেহরীন মোস্তফা দিশি, ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মোল্লা দলীয় মনোনয়ন চাইতে পারেন।

কামরুল হাসান রিপন ব‌লেন, ‘এ এলাকার জনসাধারণ এখনও অবহেলিত। কাঁচা রাস্তা, ড্রেনেজ সিস্টেমে সমস্যা আছে। অনেক কারখানা বর্জ্য ফেলে পরিবেশ নষ্ট করছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিবেশদূষণ রোধ করতে চাই। সব সমস্যা যাচাই-বাছাই করে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সমাধান করা হবে।’

আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের উপস্থিতি বোঝা গেলেও বিএনপি ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের দৃশ্যমান কোনও কার্যক্রম এখনও চোখে পড়ছে না। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই দলগুলোর মনোনয়নপ্রত্যাশীরাও ভেতরে ভেতরে নিবার্চনী মাঠ তৈরির চেষ্টা করছেন। দলের লবিং শক্ত করতে দৌড়ঝাঁপ করছেন। আসনটিতে গেল একাদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী ছিলেন নবী উল্লাহ নবী। এবার এই আসনে তিনিসহ সাবেক এমপি সালাউদ্দিন আহম্মেদ, তানভীর আহমেদ রবিন ও অধ্যক্ষ সেলিম ভুইয়া মনোনয়ন চাইতে পারেন। এছাড়া জাতীয় পার্টি থেকে আব্দুস সবুর আসুসহ একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশীর নামও শোনা যাচ্ছে।

একসময় এটি ঢাকা-৪ আসনের আওতাভুক্ত ছিলো। তখন এই আসনে বিএনপি থেকে নির্বাচন করতেন দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতা সালাহউদ্দিন আহম্মেদ। এখানকার সংসদ সদস্যও ছিলেন তিনি। তার হাত ধরে এখানে অসংখ্য নেতা তৈরি হয়েছে। সেকারণে এই আসনটির ওপর তার হক ও প্রভাব দুইই অন্যদের চেয়ে বেশি বলে মনে করা হয়। তিনি নিজেও মনেপ্রাণে আসনটিতে পুনরায় নির্বাচন করে বিজয়ী হতে চান। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, আসন্ন উপনির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের দৌড়ে সালাহউদ্দিন আহম্মেদই এগিয়ে আছেন। এমনকি তরুণ নেতৃত্বের কথা মাথায় রেখে তার ছেলে তানভীর আহম্মেদ রবিনকেও মনোনয়ন দিতে পারে বিএনপি।

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ