ফাহিম হত্যায় অভিযুক্ত কে এই হ্যাসপিল?

প্রকাশিত: ১৮ জুলাই, ২০২০ ০৫:০৬:১৭

রাইড শেয়ারিং অ্যাপ পাঠাওয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা স্বপ্নবাজ প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ফাহিম সালেহকে (৩৩) নির্মমভাবে হত্যায় জড়িত ব্যক্তি কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকান টাইরেস ডেভোন হ্যাসপিল (২১)। তিনি ফাহিমের ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। টেরেস ডেভোন হ্যাসপিল নিজেকে ‘উদ্যোক্তা’ হিসেবেও পরিচয় দিতেন।

যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে কোনো অপরাধী গ্রেফতার হলে সঙ্গে সঙ্গে তার বিস্তারিত পরিচয় জানানো হয় না। হ্যাসপিলের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম অনেকটা বজায় রাখছেন পুলিশ সদস্যরা।

এখন পর্যন্ত যেসব তথ্য পাওয়া গেছে তা থেকে বোঝা যাচ্ছে ২১ বছর বয়সী হ্যাসপিল রীতিমতো প্রতারক চরিত্রের ছেলে। তিনি ফাহিমের ১ লাখ ডলার চুরি করেছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম থেকে জানা গেছে। কিন্তু ফাহিম তার কাছে আরও অনেক ডলার পেতেন।

স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যায় এনওয়াইপিডি-এর গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান রডনি হ্যারিসন বলেন, ‘চুরি করা অর্থের পাশাপাশি হ্যাসপিল আরও বড় অঙ্কের অর্থ ভুক্তভোগীর থেকে ধার নিয়েছিলেন বলে আমরা ধারণা করছি।’

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হ্যাসপিল লং আইসল্যান্ড হাইস্কুল থেকে গ্রাজুয়েশন করেছেন। ডেইলি নিউজের একটি প্রতিবেদনে আবার বলা হয়েছে, এই গ্রাজুয়েশন শেষ করতে পারেননি হ্যাসপিল।

ফাহিমের সঙ্গে তিনি কাজ করার সুযোগ পান একটি প্রতিযোগিতা থেকে। ২০০৯ সালে প্র্যাঙ্ক ডায়াল নামের একটি মজার ওয়েবসাইট তৈরি করেন ফাহিম। সেই ওয়েবসাইটে কাজ করার জন্য ওয়েব ডিজাইনের প্রতিযোগিতায় টিকে যাওয়া হ্যাসপিলকে নিয়োগ দেন ফাহিম।

এবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হ্যাসপিল ফাহিমের অ্যাডভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানিতে চিফ অব স্টাফ হিসেবেও যোগ দেন। এর পাশাপাশি ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করছিলেন।

নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের লোয়ার ইস্ট সাইডে নিজের বিলাসবহুল বাসায় স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে খুন হন ফাহিম। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার হওয়া হ্যাসপিলকে ‘সেকেন্ডে ডিগ্রি মার্ডারে’ অভিযুক্ত করা হয়েছে।

ফাহিম প্রযুক্তি জগতে নিজের পথচলা শুরু করেন ওয়েব ডেভেলপার হিসেবে। এরপর ধীরে ধীরে নিজেকে ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। ২০১৫ থেকে ২০১৮ সালের মার্চ পর্যন্ত পাঠাওয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

ফাহিমের ব্যবসায়িক অ্যাকাউন্ট থেকে লাখ ডলার চুরি করেছিল এই হ্যাসপিল। বিষয়টি জেনেছিলেন ফাহিম। সেই অর্থ ফেরত দেওয়ার একটি সমঝোতা করে হ্যাসপিল ফাহিমের ফার্ম ছেড়েছিল। তবে পরবর্তীতে হ্যাসপিল চুরি করা অর্থ ফিরিয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার পালন করেনি।

তদন্ত কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, ফাহিমকে অনুসরণ করে নিনজা স্টাইলে কালো পোশাকে যে ব্যক্তি ওই ভবনের এলিভেটর দিয়ে ফাহিমের অ্যাপার্টমেন্টের সামনে পর্যন্ত গিয়েই আঘাত করেছে বলে সিসিটিভিতে দেখা গেছে, সেই ব্যক্তি অর্থাৎ ঘাতকটি হচ্ছে হ্যাসপিল। আর্থিক ফায়দা হাসিলের জন্যই ফাহিমকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে তদন্ত কর্মকর্তারা মনে করছেন। তবে এমন নৃশংসতার নেপথ্যে কারও মদদ রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে ফাহিমের লাশ আজকের মধ্যে পাওয়া গেলে কাল দাফন করা হবে।

প্রজন্মনিউজ২৪/ওসমান

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন





ব্রেকিং নিউজ