রাখাইনে সেনা অভিযানের ভয়ে ফের পালাচ্ছে হাজারো মানুষ

প্রকাশিত: ২৯ জুন, ২০২০ ১২:০৮:১৬

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আবারও হাজার হাজার মানুষ বসতভিটা ফেলে গ্রাম ছেড়ে পালাচ্ছে। সেনাবাহিনীর অভিযানের পরিকল্পনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় এক প্রশাসক চিঠি দিয়ে গ্রামবাসীকে সরে যেতে বলায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে মিয়ানমার সরকারের তরফ থেকে গত শনিবার জানানো হয়েছে, ওই চিঠি প্রত্যাহার করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

এই অবস্থায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। গতকাল রোববার এক বিবৃতিতে বিশ্ব সংস্থাটি মিয়ানমারের সব পক্ষকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে এবং বেসামরিক লোক ও বেসামরিক স্থাপনাগুলোর সুরক্ষায় সব পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণ করার ও জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায়।

 

এ ছাড়া অভিযানের খবরে গত শনিবার উদ্বেগ প্রকাশ করে মিয়ানমারে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার দূতাবাস।

 

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের হাতে আসা একটি চিঠি থেকে জানা গেছে, রাখাইনে স্থানীয় একজন প্রশাসক গ্রামগুলোর নেতাদের সতর্ক করেন যে সেনাবাহিনী বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে দমনে অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা করছে। এই চিঠির বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করেছেন মিয়ানমারের প্রাদেশিক সরকারের মন্ত্রী কর্নেল মিন থান।

চিঠিতে স্বাক্ষর করেন রাচিডংয়ের প্রশাসক অং মাইন্ট থিন। তিনি গ্রামের নেতাদের উদ্দেশে লেখেন, তাঁকে জানানো হয়েছে যে রাচিডংয়ের কিয়াউকতান গ্রাম ও আশপাশের এলাকায় বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো আস্তানা গেড়েছে। ওই গ্রামগুলোয় সাফাই অভিযান চালানো হবে। এই অভিযানের সময় সেনাসদস্যদের সঙ্গে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির লড়াই শুরু হয়ে গেলে গ্রাম থেকে সাময়িক সময়ের জন্য সরে যাওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়। ওই চিঠির তথ্য প্রকাশের পর থেকেই গ্রাম ছাড়তে শুরু করে হাজার হাজার মানুষ।

তবে রাখাইন রাজ্যের সীমান্ত ও নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী মিন থান রয়টার্সকে বলেছেন, তাঁর মন্ত্রণালয় থেকেই নির্দেশটি গিয়েছিল। মিয়ানমার সরকারের যে তিনটি মন্ত্রণালয় সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে, সেগুলোর একটি এই মন্ত্রণালয়। তিনি বলেন, চিঠিতে ভুল তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। অনেকগুলো গ্রামে নয়, মাত্র কয়েকটি গ্রামে ওই অভিযান পরিচালনা করা হতে পারে।

পরে শনিবার মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্র জ এইচত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক বিবৃতিতে বলেন, সরকার সেনাবাহিনীকে ‘সাফাই অভিযান’ শব্দযুগল ব্যবহার না করার নির্দেশনা দিয়েছে। আর গ্রামবাসীকে সরে যেতে বলা ওই চিঠিও প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এর আগে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তাচৌকিতে সন্ত্রাসী হামলার জেরে সেখানে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে নেমেছিল সেনাবাহিনী। এরপর প্রাণ বাঁচাতে লাখ লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। ওই ঘটনায় জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালতে দায়ের গাম্বিয়ার মামলা এখনো প্রক্রিয়াধীন। এরপরও মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর তৎপরতা থেমে নেই। সেভ দ্য চিলড্রেনের তথ্যমতে, গত জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে সেনাবাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘাতে ১৮ শিশু নিহত এবং ৭১ জন বেসামরিক লোক আহত হয়েছে কিংবা পঙ্গুত্ব বরণ করেছে।

প্রজন্মনিউজ২৪/মারুফ

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ