সহকারী পরিচালকের দায়িত্ব থেকে বাবুনগরীকে অব্যাহতি

প্রকাশিত: ১৭ জুন, ২০২০ ০৭:৫২:৫২

হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরীকে দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসার সহকারী পরিচালকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মাদ্রাসার জ্যেষ্ঠ শিক্ষক শেখ আহমেদকে। তিনি হেফাজত আমির শাহ আহমদ শফীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।

আজ বুধবার মাদ্রাসা পরিচালনার সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম ‘মজলিশে শুরা কমিটি’ চার ঘণ্টার বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্ত জানায়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন মাদ্রাসার মহাপরিচালক ও হেফাজতের আমির শাহ আহমদ শফী।

শুরা কমিটির সদস্য মাওলানা নোমান ফয়েজী প্রথম আলোকে বলেন, এত দিন মাদ্রাসার মহাপরিচালক শাহ আহমদ শফী এবং সহকারী পরিচালক জুনায়েদ বাবুনগরী ছিলেন। বুধবার বৈঠকে জুনায়েদ বাবুনগরীকে অব্যাহতি দিয়ে তাঁর স্থলে মাদ্রাসার জ্যেষ্ঠ শিক্ষক শেখ আহমদকে সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। বাবুনগরী নিজেও দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। আহমদ শফীর অনুপস্থিতিতে শেখ আহমদই ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি ভারপ্রাপ্ত থেকে পুরোপুরি মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করবেন কি না, তা নির্ধারণ করবে পরবর্তী শুরা কমিটি।


ঘনিষ্ঠ কাউকে মাদ্রাসা পরিচালনার দায়িত্বে রাখতে ২০১৮ সালের মে মাসে ফটিকছড়ির নানুপুর ওবাইদিয়া মাদ্রাসার শাইখুল হাদিস শেখ আহমেদকে হাটহাজারী মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে আনা হয়। এর আগে তিনি হাটহাজারী মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে ছিলেন। তখন তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

বুধবার মজলিশে শুরার বৈঠকে ১৭ সদস্যের মধ্যে ১১ জন উপস্থিত ছিলেন। বাকি ছয়জন মারা গেছেন।

২০১৩ সালে ১৩ দফা দাবিতে হেফাজতে ইসলাম গঠিত হয়। এর আমির করা হয় আহমদ শফী ও মহাসচিব করা হয় জুনায়েদ বাবুনগরীকে। হেফাজতে ইসলাম গঠনের কয়েক মাস পরেই আমির ও মহাসচিবের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। বেশ কিছুদিন ধরেই হেফাজতের দুটি পক্ষ পাল্টাপাল্টি অবস্থানে আছে। এর একটি পক্ষে আছেন আহমদ শফীর ছেলে আহমদ আনাস ও অপর পক্ষে আছেন জুনায়েদ বাবুনগরীর অনুসারীরা।

মাদ্রাসা এলাকায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সাঁজোয়া যানও আছে।

গত ১৬ মে হাটহাজারীর স্থানীয় বাসিন্দা আলেমরা মাদ্রাসার মসজিদে গিয়ে বক্তব্য দেন। তাঁরা বলেন, আহমদ শফীর পরিবর্তে কাউকে মাদ্রাসার মহাপরিচালক নিয়োগ করলে শুরা কমিটির মাধ্যমে হবে। আহমদ শফী বলেছেন বলে কেউ প্রচার করলে হবে না।

ওই দিনের ঘটনার পর রাতে অসুস্থ আহমদ শফী ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বলেন, কাউকে মাদ্রাসার পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। তিনি এখনো দায়িত্বে আছেন। যা হবে শুরার মাধ্যমে হবে। মূলত ওই দিনের ঘটনার পর থেকে জুনায়েদ বাবুনগরীর ওপর ক্ষুব্ধ হন আহমদ শফীর অনুসারীরা। তাঁদের অভিযোগ, বাবুনগরী তাঁর অনুসারীদের দিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।

দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির বিষয়ে জানতে আজ বিকেলে মাদ্রাসায় জুনায়েদ বাবুনগরীর কক্ষে যাওয়া হয়। কিন্তু শুরা কমিটির বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

জুনায়েদ বাবুনগরীর স্থলাভিষিক্ত মাওলানা শেখ আহমদ তাঁর কার্যালয়ে সবাইকে নিয়ে সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। এ জন্য তিনি সবার সহযোগিতা চেয়েছেন।

projonmonews24/maruf

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ