ভারতে করোনার জিন দুর্বল! দাবি বিজ্ঞানীদের

প্রকাশিত: ০৩ জুন, ২০২০ ০৮:০১:১৯

বিশ্বজুড়ে তাণ্ডব চালাচ্ছে করোনাভাইরাস। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। ভারতেও হানা দিয়েছে প্রাণঘাতী এই ভাইরাস। এরই মধ্যে দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ছাড়িয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে বিজ্ঞানীদের গবেষণায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সিএসআইআর নামের সংস্থার গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রাপ্ত তথ্য বলছে যে, ভারতে করোনাভাইরাসের জিন দুর্বল। এর শক্তিও কম। তাই দ্রুতই নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে এই মারণ ভাইরাসকে। এমনটাই আশাবাদ ব্যক্ত করেন বিজ্ঞানীরা। 

জানা গেছে, ভারতের সবচেয়ে বেশি সংক্রামিত রাজ্যগুলো থেকে করোনা রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করেন বিজ্ঞানীরা। মহারাষ্ট্র, তেলেঙ্গানা, দিল্লি, তামিলনাড়ুতে সংক্রামিতদের শরীর থেকে নমুনা নিয়ে ভাইরাসের 'স্ট্রেন' দেখেই চমকে উঠেছেন তাঁরা। 

সেই নমুনা নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা করোনাভাইরাসের জিনের গঠন বিন্যাস বিশ্লেষণ করেন। এতে তাঁদের নজরে পড়ে যে, ভারতে সংক্রমণকারী মারণ ভাইরাসটির গঠন অত্যন্ত দুর্বল। এই ভাইরাস খুব বেশি নিজের জিনের পরিবর্তন ঘটায়নি। তার শক্তি বিশ্বের অন্যপ্রান্তের মারণ ভাইরাসের থেকে তুলনামূলকভাবে কম। ফলে সংক্রমণ ছড়াবার ক্ষমতাও সীমিত। 

বিজ্ঞানীরা সেলুলার অ্যান্ড মলিকিউলার বায়োলজি-র (সিসিএমবি) গবেষণাগারে এই ভাইরাসের জিনের গঠন-বিন্যাস নিয়ে বিশ্লেষণ করেন। সেখানেই জিনোম সিকোয়েন্স নিয়ে কাজ চালাচ্ছেন তারা।

বার বারই বিজ্ঞানীদের বলতে শোনা গেছে যে, রোগীর শরীরে প্রবেশের পরেই করোনাভাইরাস নিজের জিনের পরিবর্তন ঘটাচ্ছে।দেখা গেছে, এক রোগীর শরীরে যে 'ভাইরাল স্ট্রেন' রয়েছে, তা অন্যের থেকে আলাদা। নিজেকে টিকিয়ে রাখতে, এক মানুষের শরীর থেকে অন্য মানুষের শরীরে সংক্রামিত হওয়ার আগেই জিনের গঠন-বিন্যাস বদলে ফেলছে করোনাভাইরাস। বেঁচে থাকার সময়কাল বাড়াতে ক্রমাগত এই পরিবর্ত করছে ভাইরাসটি। 

বিজ্ঞানীরা জানান, জিনের গঠন-বিন্যাস কতটা বদলাচ্ছে, কী কী পরিবর্তন হচ্ছে সেটা দেখতে গিয়েই বিশেষ একরকমের 'ক্লাস্টার সিকুয়েন্স' খুঁজে পেয়েছেন তাঁরা। ৬৪টি ভাইরাল স্ট্রেনের পূর্ণাঙ্গ গঠন বিন্যাস সাজিয়ে এমন ক্লাস্টার পাওয়া গেছে।

তারা বলেন, এই 'ফাইলোজেনেটিক ক্লাস্টার' এর নাম ক্ল্যাডআই/এথ্রিআই। ভারতীয়দের কাছ থেকে নেওয়া ৪১শতাংশ 'ভাইরাল স্ট্রেন'-এর জিনোম সিকুয়েন্সে এই ক্লাস্টার পাওয়া গেছে।

গবেষকরা জানান, কোনো রোগকে প্রতিরোধের জন্য সবসময় সেই ভাইরাসের জিনের গঠন-বিন্যাস দেখা প্রয়োজন। খুঁজে বের করতে হয় ভাইরাসের দুর্বল অংশ। সেই লক্ষ্যেই গবেষণাগারে বার বার পরীক্ষা করা হচ্ছে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে গঠন ও পরিবর্তন।

এরপরে জিনের দুর্বল অংশকে লক্ষ্য করে ভ্যাকসিনকে টার্গেট করা হবে বলে জানান তারা। 

projnmonews24/maruf

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ