অন্তরালে এমপি এনামুলের সঙ্গে ৭ বছর সংসার!

প্রকাশিত: ০২ জুন, ২০২০ ০৪:৫০:৪৩

রাজশাহী-৪ (বাঘমারা) আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হকের দ্বিতীয় স্ত্রীর হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক স্ট্যাটাস দিয়ে যাচ্ছেন লিজা আক্তার আয়েশা নামে এক নারী। এমপি সাহেবের রক্ষিতা নয়, নিজেকে এমপির দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করছেন তিনি। এমনকি এমপি এনামুলের বিচার চাইতে এখন প্রধানমন্ত্রীর দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানিয়েছেন লিজা। 

সবশেষ সোমবার (১ জুন) দুপুরে ফেসবুকে এ নিয়ে আরও একটি পোস্ট দিয়েছেন ওই নারী। সেখানে তিনি লিখেছেন-

‘আপনারা সবাই ভাবছেন আমি থেমে গেসি আমি থেমে যাই নাই মাননীয় সংসদ সদস্যের ভক্তরা আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছেন আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাকে জেলে দেওয়া হবে এমন বলছেন এবং মাননীয় সংসদ সদস্য গতকাল আমাকে বলেছেন আমি গন মাধ্যমে এসেছি তাই আমাকে আজ উনি ডিভোর্স দিবেন সব মিলিয়ে আমি মানুষিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েছি ।।।তবে আমি থেমে নেই আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জন নেত্রীর কাছে যাবো এবং এর বিচার চাইবো ।।আপনারা সকলেই আমাকে সহযোগিতা করেছেন পাশে থেকেছেন আমি সকলের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি ।।’

সম্প্রতি রাজশাহী শহরের তেরোখাদিয়া এলাকার বাসিন্দা ওই নারী এমপি এনামুলের সঙ্গে একাধিক অন্তরঙ্গ ছবি ফেসবুকে পোস্ট করলে এ নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। গত ২৯ মে রাত ৮টা ৫৭ মিনিটে এমপির সঙ্গে তোলা কিছু যৌথ ছবি পোস্ট করার দুই ঘণ্টা পরই রাত ১১টা ২ মিনিটে এক পোস্টে লিজা লিখেন- ‘এমপি সাহেব আমার husband এই কথাটা যদি কারো কাচে অবিশ্বাস্য মনে হয় তাঁরা বিয়ের কাগজ দেখতে পারেন।’

এর ঠিক ২ মিনিট পরই অপর এক পোস্টে তিনি লিখেন-  ‘এমপি সাহেবের রক্ষিতা বা প্রেমিকা নই, দ্বিতীয় বউ আমি।’ রাত ১১টা ১০ মিনিটে আরেক পোস্টে পরদিন প্রমাণাদিসহ লাইভে আসার কথা জানান তিনি।

পরদিন ৩০ মে দুপুরে এক পোস্টে লিজা আক্তার আয়েশা লিখেন- ‘একজন সংসদ সদস্য অনেক বড় অবস্থানের মানুষ তাঁর বিরুদ্ধে চাইলেই কেউ মিথ্যা অপবাদ দিতে পারে না আমার কথা গুলো যদি মিথ্যা হইতো তাহলে এতক্ষণে পুলিশ আমাকে থানায় নিয়ে যেতো।।আমি যা কিছু বলছি এবং বলবো সব সত্যিই আপনারা আমাকে বিরক্ত না করে ধৈর্য্য ধরে পাশে থাকুন।।সবার সব প্রশ্নের উত্তর ইনবক্সে দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব না আমি এইখানে লিখে দিবো এবং live video দিবো আপনারা দেখলেই সব বুঝতে পারবেন এবং জানতে পারবেন ।।।’

এরপর গতকাল ৩১ মে ভোর ৫টা ১৭ মিনিটে দেয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে লিজা লিখেন- ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি তাঁর কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি,আমি আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে কোন প্রচারণা করার উদ্দেশ্যে কিছু করছি না আমি আওয়ামীলীগকে মনে প্রাণে ভালোবাসি সেই জন্যই মাননীয় সংসদ সদস্য কে বিয়ে করেছি এবং আমি মনে করি তাকে বিয়ে করে আমিও এই আওয়ামীলীগের একটা অংশ হয়েছি,আমি এই দলকে মনে প্রাণে ভালোবাসি, আমি জননেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ভালোবাসি আমি দলের বিপক্ষে যেতে পারি না দলের ক্ষতি হবে এমন কোন কাজ আমি কখনোই করতে পারি না।। আমি বাংলা দেশের নাগরিক জন নেত্রী আমার মা আমি একটা সাধারণ মেয়ে হিসেবে আমি কি সুবিচারের আশা করতে পারি না??আমি আমার সংসার চাই আমি আমার অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে জয়ী হতে চাই কোন কুচক্রী মহল আমাকে এইগুলো লিখতে বলে নাই আমি আমার নিজের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে নেমেছি।।সাংবাদিক ভাইদের কাছে অনুরোধ করছি আপনারা এইটাকে দলের বিপক্ষে নিউজ ভাববেন না এবং অপপ্রচার মনে করবেন না।।প্রয়োজনে আমি জন নেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাবো এবং আমার সাথে হওয়া অন্যায়ের বিচার চাইবো।।।আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনগণের পাশে সবসময়ই আছেন এবং থাকবেন আমি এইটা বিশ্বাস করি,,মহান নেত্রী একজন ভিক্ষুককে বুকে জড়িয়ে নিয়ে ছিলেন উনি আমার জন্যেও সুবিচারের ব্যবস্থা করবেন ইনশা আল্লাহ্।।।’

এর ২ ঘণ্টা পরই সকাল ৭টার দিকে অপর এক পোস্টে তিনি লিখেন- ‘এমপি সাহেব আমাকে বিয়ে করেছেন কিন্তু আমাকে কখনোই বউ বলে জনগণের সামনে স্বীকৃতি দেন নাই সবসময়ই আমাকে আড়ালে লুকিয়ে রেখেছেন আমি যখন আমার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ছবি সহ ফেসবুকে এসেছি এমপি সাহেব তখন আমার সাংবাদিক ভাইদের বলেছেন উনি আমাকে 24 এপ্রিল ডিভোর্স করেছেন জনগণের কাছে আমার প্রশ্ন লকডাউন চলাকালীন অবস্থাই সকল কাজি অফিস এবং আদালত বন্ধ ছিলো এমপি মহোদয় আমাকে অফিস বন্ধ অবস্থাই ডিভোর্স দিলেন কিভাবে আর এই ডিভোর্স লেটার আমি এখনও পাইলাম না কেন????একজন সংসদ সদস্য যদি এইভাবে মিথ্যা কথা বলেন তাহলে আমরা সাধারণ মানুষ সুবিচার চাইবো কার কাছে?????’

মিনিট বিশেক পরই আরেক পোস্টে লিজা লিখেন- ‘আজ থেকে চারদিন আগে মাননীয় সংসদ সদস্য আমার স্বামী আমাকে এই মিথ্যা আমার স্বাক্ষর জাল করে একটা ডিভোর্স কপি তৈরী করে সেইটা আমাকে দিয়ে বলেছিলেন আমি নাকি তাকে জানুয়ারীর ছয় তারিখে ডিভোর্স করেছি সেই কাগজ উনি পেয়েছেন এই কথা শোনার পর আমি একটা জীবন্ত লাশ হয়ে বেঁচে আছি যে স্বামীর সঙ্গে আমার রানিং সংসার চলতিসে আমি তাঁর বাসায় গিয়ে থাকতেসি সে আমার বাসায় এসে থাকতিসে ঈদের চার দিন আগে আমাকে আমার সংসদ সদস্য স্বামী বিকাশ করে ঈদের খরচ পাঠাইতে চেয়ে ছিলেন সেই মেসেজ আমার কাছে এখনও আছে যেখানে আমাদের এতো ভালো রিলেশন সেইখানে আমি তাকে ডিভোর্স দিলাম কিভাবে আর সে আমাকে ডিভোর্স দিলো কিভাবে???আমি মাননীয় সংসদ সদস্যের কাছে জানতে চাই উনি জনগণের সামনে আমাকে সঠিক উত্তর দিবেন আশা করছি।।’

এর মিনিট পনেরো পর ৭টা ৪১ মিনিটের দিকে আরেকটি পোস্ট দিয়ে লিজা লিখেন- ‘আমি আমার husband কে ডিভোর্স দেই নাই এবং উনার স্বাক্ষরকৃত কোন ডিভোর্স আমি এখনও পাই নাই আমি সঠিক বিচারের আশায় আপনাদের সামনে নিজেকে তুলে ধরেছি আমি কিছুই চাই না আমি আমার স্বামীকে ফিরে পেতে চাই আমি আমার সংসার ফিরে পেতে চাই ।।।একজন সংসদ সদস্য একটা মেয়েকে বিয়ে করে তাঁর জীবন নিয়ে এইভাবে খেলা করতে পারেন না ।।আমি সমস্ত প্রমাণ সহ গণমাধ্যমে এসেছি উনি কেন আমাকে ভয় দেখাচ্ছেন আমি মুখ খুললে আমাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে দেওয়া হবে উনি কেন সাংবাদিক দের বলছেন আমার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিবেন আমি কি অপরাধ করেছি আপনারা আমাকে বলেন।।। আমি আমার অধিকার চেয়েছি, আমি বউয়ের মর্যাদা চেয়েছি, মাননীয় সংসদ সদস্য আমাকে বউ হিসেবে স্বীকার করুক মেনে নিক আমি শুধু এইটাই চেয়েছি।।এই চাওয়া গুলো কি আমার অন্যায় হয়েছে আপনারা বলুন আমাকে।।’

গতকাল সকাল ৮টা ১৪ মিনিটে আবারও নতুন একটি পোস্ট দিয়ে এমপি এনামুলের স্ত্রী দাবি করা ওই নারী লিখেন- ‘এমপি সাহেবের সাথে আমার পরিচয় হয় 2012 সালে উনি প্রথম আমাকে ভালোবাসি বলেছিলেন আমিও উনার কথাই মুগ্ধ হয়ে উনার প্রেমে পড়ে ছিলাম।। 30/4/13 পারিবারিক ভাবেই আমাদের বিয়ে হয় উনার বাগমাড়ার নীজ বাসভবনে কিন্তু বিয়ের সময় উনি বলেছিলেন এখন আমাদের বিয়েটা রেজেস্ট্রি করা যাবে না কারণ তাঁর নমিনেশন পাইতে সমস্যা হতে পারে আমার বিয়ের ভিডিও এবং ছবি আমার কাছে আছে কিন্তু রেজেস্ট্রি তখন করা হয়েছিলো না আমি উনার কথা বিশ্বাস করে উনার কথা মেনে নিয়ে এতো বছর সংসার করেছি।।বিয়ের দুই বছর পর 2015 সালে আমি বেবী কনসিভ করি উনি আমাকে বলে নির্বাচনের আগে উনি বাচ্চা নিতে পারবেন না নির্বাচনের পর নিবেন আমি সেইটাও মেনে নিয়ে এমপি সাহেবের ভালো হবে এই চিন্তা করে বাচ্চা নষ্ট করি তারপর এমপি সাহেব আমাকে বললেন তাঁর নমিনেশন পাইতে আর কোন সমস্যা হবে না আমরা এখন আমাদের বিয়ে রেজেস্ট্রি করতে পারবো তখন 11/5/2018 সালে আমারা পুনরায় বিয়ে করে আমাদের বিয়ে রেজেস্ট্রি করি সেই কাগজ আমি আপনাদের দিয়েছি।।আমার জীবনের আট বছর 2012 থেকে 2020 আমি এমপি সাহেবের সাথে কাটিয়েছি তাঁর সাথে সংসার করেছি।।এমপি সাহেব আমাকে বলেছিলেন নির্বাচনের পর উনি আমাকে স্বীকৃতি দিবেন বাচ্চা দিবেন আমি সেই অপেক্ষায় এতোগুলো বছর নীরব ছিলাম।।এখন আমি সুবিচারের আশায় নিজেকে জনগণের সামনে প্রকাশ করেছি।।।’

সবশেষ আজ ১ জুন দুপুরের দিকে লিজা আয়েশা প্রধানমন্ত্রীর দ্বারস্থ হওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে এক পোস্টে লিখেছেন- ‘আপনারা সবাই ভাবছেন আমি থেমে গেসি আমি থেমে যাই নাই মাননীয় সংসদ সদস্যের ভক্তরা আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছেন আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাকে জেলে দেওয়া হবে এমন বলছেন এবং মাননীয় সংসদ সদস্য গতকাল আমাকে বলেছেন আমি গন মাধ্যমে এসেছি তাই আমাকে আজ উনি ডিভোর্স দিবেন সব মিলিয়ে আমি মানুষিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েছি ।।।তবে আমি থেমে নেই আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জন নেত্রীর কাছে যাবো এবং এর বিচার চাইবো ।।আপনারা সকলেই আমাকে সহযোগিতা করেছেন পাশে থেকেছেন আমি সকলের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি ।।’

প্রজন্ম নিউজ/নুর

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ