১৪ বছর পার করলো কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশিত: ২৯ মে, ২০২০ ০৯:০৭:২৪

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী দিবস আজ। দেশের ২৬তম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ২০০৬ সালের ২৮ মে প্রতিষ্ঠিত হয় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।

লাল মাটির পাহাড় আর সমতল ভূমিতে গড়ে উঠা ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয়টি দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ হিসেবে ১৪ বছর পার করে ১৫তম বর্ষে পদার্পণ করেছে।

অন্যান্য বছর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস পালিত হলেও বিশ্বব্যাপী চলমান করোনা ভাইরাসের সংকটময় অবস্থার কারণে এবার বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আনুষ্ঠানিকভাবে উদযাপিত হচ্ছে না।

প্রকৃতির কোলে মনোরম পরিবেশের এ বিশ্ববিদ্যালয়টি জ্ঞান চর্চার উর্বরভূমি। ২০০৬-০৭ শিক্ষাবর্ষে ৭টি বিভাগ, ৩০০ জন শিক্ষার্থী, ১৫ জন শিক্ষক ও ৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে চালু হওয়া এ বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ছয়টি অনুষদের অধীনে ১৯টি বিভাগে অধ্যয়নরত প্রায় সাত হাজার শিক্ষার্থী।

স্নাতক, স্নাতকোত্তর পর্ব শেষ করেছেন ১০টি ব্যাচের প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী। যারা দেশ ও জাতির কল্যাণে দেশের সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন সেক্টরে অবদান রেখে চলেছেন। মেধার স্বাক্ষর রেখে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪ জন শিক্ষার্থী লাভ করেছেন প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক।

বিশ্ববিদ্যালয়টিতে এ পর্যন্ত উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ছয়জন। ৬ষ্ঠ উপাচার্য হিসেবে বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি যোগদান করেন। এ বছরের জানুয়ারির ২৭ তারিখ অনুষ্ঠিত হয় বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রথম সমাবর্তন। যাতে সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের থাকার জন্য রয়েছে ৪টি আবাসিক হল। যেখানে ছাত্রদের জন্য তিনটি এবং ছাত্রীদের জন্য রয়েছে একটি আবাসিক হল। যেগুলোর মোট আসন সংখ্যা সর্বসাকুল্যে ৯০০। এতে আবাসন সুবিধা পাচ্ছে মাত্র ১৫ ভাগ শিক্ষার্থী।

এছাড়াও শিক্ষকবৃন্দ ও কর্মকর্তাদের জন্য রয়েছে একটি ডরমিটরি। তাছাড়া একটি ছাত্রী হল এবং শিক্ষকদের জন্য একটি ডরমিটরি ও একটি গেস্টহাউজ নির্মাণাধীন রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ভূমির পরিমাণ ৫০ একর। ২০১৮ সালের অক্টোবরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১ হাজার ৬শ ৫৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন পায় বিশ্ববিদ্যালয়টি। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়নের জন্য মেগা প্রকল্পের কাজ প্রক্রিয়াধীন। এই প্রকল্পের অধীনে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আরো ২০০ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিবহনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ৫টি নীল বাস এবং বিআরটিসির ১০টি ভাড়া বাসসহ সর্বমোট ১৫টি বাসের ব্যবস্থা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যাতায়াতের জন্য রয়েছে বাস, মিনিবাস ও মাইক্রোবাসের ব্যবস্থা।

শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষ সংকট, ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতি, আন্দোলন এবং অস্থিতিশীল অবস্থার কারণে বিভিন্ন সময় ব্যাহত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম। বেশ কয়েকটি বিভাগে রয়েছে প্রকট সেশনজট। তারপরও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পাচ্ছেন এবং ভবিষ্যতের জন্য তৈরি করছেন নিজেদের। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে প্রায় ২৫টিরও বেশি সক্রিয় শিক্ষা সাংস্কৃতিক সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ভিত তৈরিতে কাজ করছে নিরলস।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যদের শুভেচ্ছা জানিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী বলেন, ‘এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের জন্য বছরের প্রথমেই একটা পরিকল্পনা নিয়েছিলাম আমরা। কিন্তু বর্তমানে করোনা ভাইরাসের এ পরিস্থিতিতে আমাদের সবারই হাত-পা বাঁধা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সকল উপাচার্যবৃন্দদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা জানানোর পরিকল্পনাও আমরা নিয়েছিলাম। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আগামীতে জাঁকজমকপূর্ণভাবে দিবসটি উদযাপন করবো।’

করোনা ভাইরাসের এ মহামারিতে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার এবং নিজ বাসায় অবস্থান করার পরামর্শ দিয়ে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সবার সুস্থ থাকার প্রত্যাশা করেন।

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ