ভিন্ন পরিবেশে এবারের ঈদ

প্রকাশিত: ২৪ মে, ২০২০ ০৩:৩৮:০৪

বিশ্বের অনেক দেশেই আজ রবিবার পালিত হচ্ছে ঈদুল ফিতর। আবার কিছু দেশে আগামীকাল সোমবার উদযাপিত হবে মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে বড় উৎসব ঈদুল ফিতর তবে করোনা ভাইরাসের প্রকোপের কারণে এবার প্রায় পুরো বিশ্বে এক ভিন্ন পরিবেশে পালিত হবে এই ঈদ।

করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে এবার ঈদে ঘরবন্দি হয়ে থাকতে হবে মুসলমানদের। তাই চাইলেও গতানুগতিক ভাবে ঈদ পালন করা যাবে না এই বছর। কারণ এতে রয়েছে জীবনের ঝুঁকি। আর এই ঝুঁকির কথা চিন্তা করে সৌদি আরবসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঈদের নামাজও বাড়িতে পড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ইসলামের উৎপত্তিস্থল সৌদি আরবে আজ রবিবার পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে এবারের ঈদে সৌদি আরবে বড় জমায়েত এবং জনগণের চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দেশটিতে ঈদের ছুটিতে কারফিউ ঘোষণা করা হয়েছে।

এবারের ঈদ নিয়ে সারাহ আহমাদ নামের এক সৌদি বাসিন্দা বলেন, আমি একাই ঈদ পালন করবো। আমার বাবা-মা চীন থাকে। তাদের সঙ্গে হয়তো ভিডিও কলে কথা হবে। আমি প্রত্যেকবার ঈদে সকালে পরিবারের সঙ্গে নামাজে আদায় করতে যাই কিন্তু এখন মসজিদ বন্ধ। তাই বাসায় নামাজ আদায় করবো । যদি আমার খুব খারাপ লাগে তাহলে হয়তো আমি আমার কোন আত্মীয়ের বাসায় যাবো। তবে সামাজিক দূরত্বের বিষয়টি খুব ভালোভাবে মেনে চলবো।

করোনা ভাইরাস যে শুধু মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদে প্রভাব ফেলছে তা কিন্তু নয়। গত মাসে খ্রিস্টানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ইস্টারও কোন রকম আয়োজন ছাড়াই পালন করা হয়।

এবারের ঈদ নিয়ে লেবাননের নাগরিক সারাহ সিবলিনি বলেন, আমি ভারতে একটি হোটেলে কোয়ারেন্টাইনে আছি। আমি আমার স্থানীয় এক বন্ধুর সঙ্গে ঈদের দিন সাক্ষাত করার জন্য হোটেল ম্যানেজারের কাছে অনুমতি চেয়েছি। অনুমতি না দিলে জুম অ্যাপের মাধ্যমে পরিবার এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা বন্ধুদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলবো।

করোনাকালে দুবাই থেকে ফেরত লেবাননের নাগরিক হৌসাম রিফাই জানান, ১৪ দিন ধরে আইসোলেশনে আছি। সময়টা খুব কঠিন কাউকে দেখছি না। এবারের ঈদ আমাকে একাই করতে হবে। সাধারণত আমাদের দাদীর বাড়িতে ঈদের দিন অনেক মানুষ আসেন। তবে এবার আর সেটি হবে না। হয়তো ভিডিও কলে কথা হবে বাবা মা এবং বন্ধুদের সঙ্গে। তবে এই ঈদ আমি আশা করিনি।

এদিকে অনেক দেশেই অনলাইনে লাইভস্ট্রিমিং'র মাধ্যমে ঈদের নামাজ দেখানো হবে। যুক্তরাজ্যে ইমামরা হোয়াটসঅ্যাপ এবং লাইভস্ট্রিমের মাধ্যমে ঈদের নামাজ দেখিয়ে মুসলমানদেরকে চাঙ্গা রাখার চেষ্টা করছেন। যদিও তারা বলছেন গতানুগতিক ঈদের সঙ্গে এই ভার্চুয়াল ঈদ উদযাপন কখনোই মিলবে না।

লন্ডনে বাস করা সিরিয়ান নাগরিক জহির আল শিমালে বলেন, আমি আমার পরিবারকে দেখতে যেতে চাই। তবে কিছু করার নেই। সব কিছুই পরিবর্তন হয়ে গেছে।

projonmonews24/maruf

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ