ভারত–পাকিস্তান: শীর্ষ ধনী কোন দেশে কত

প্রকাশিত: ২৩ মে, ২০২০ ১২:০৭:৩৭

ভারত ও পাকিস্তান উপমহাদেশের দুই বৈরী প্রতিবেশী। ১৯৪৭ সালের আগস্টে স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই এই বৈরিতার শুরু। সব সময় সবকিছুতেই যেন তাদের মধ্যে একটা উত্তেজনাপূর্ণ প্রতিযোগিতা ও শত্রু শত্রু ভাব লক্ষ করা যায়। এমনকি খেলাধুলাতেও যেন তারা যুদ্ধংদেহী। যেমন ক্রিকেট কিংবা হকি খেলায় পাকিস্তানকে হারাতে পারলে ভারতীয়রা যতটা উল্লাসে মেতে ওঠে, অন্য কোনো দেশের ক্ষেত্রে ততটা নয়। অন্যদিকে ভারতকে পরাজিত করতে পারলে পাকিস্তানিরা যেভাবে ফেটে পড়ে, অন্যান্য দেশের বেলায় সেভাবে নয়।

যা–ই হোক, আমাদের আজকের বিষয় বৈরিতা নয়, তুলনা। সেটি হলো ধনীর তুলনা, মানে কোন দেশে কত ধনী আছে এবং দুই দেশের শীর্ষ দুই ধনীর কী পরিমাণ সম্পদ আছে, তা পর্যালোচনা করা। তাতে দেখা যায়, দুই দেশেরই বেশ কিছু লোক ও পরিবার ধনী বা শতকোটি ডলার মূল্যের ধনসম্পদের মালিক (এক বিলিয়নে ১০০ কোটি)। এ ক্ষেত্রে অবশ্য ভারত অনেক এগিয়ে আছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বখ্যাত ফোর্বস ম্যাগাজিনের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী বর্তমানে ভারতে ধনীর সংখ্যা ১৩১। প্রতিবেশী পাকিস্তানে এই সংখ্যা মাত্র ৭। এর মধ্যে ভারতের শীর্ষ ধনী হলেন রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুকেশ আম্বানি। আর পাকিস্তানের শীর্ষ ধনীর নাম মিঞা মুহাম্মদ মানশা, যিনি নিশাত গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও চেয়ারম্যান।

ভারতের শীর্ষ ধনী মুকেশ আম্বানির মোট ধনসম্পদের পরিমাণ ৫ হাজার ২৬০ কোটি মার্কিন ডলার। বর্তমানে তিনি বিশ্বের ২১তম এবং এশিয়া ও ভারতের (টানা ১২ বার) শীর্ষ ধনী। তাঁর সম্পদ বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রয়েছে টেলিকম প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স জিও। প্রতিষ্ঠানটির ৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ শেয়ার কিনে নিয়েছে জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুক। এ জন্য ফেসবুক জিওতে সাড়ে ৪৩ হাজার কোটি রুপি বিনিয়োগ করবে।
মুকেশ আম্বানি এখন বাস করেন বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দামি বাড়িতে, যেটির নাম অ্যান্টিলিয়া। ভারতের মুম্বাই শহরের আলটামাউন্ট রোডে অবস্থিত এই বাড়ির দাম ২০০ কোটি ডলার, যা ভারতের ১৪ হাজার কোটি রুপির সমান। এই বাড়ির চেয়ে বেশি ব্যয়বহুল আর একটি বাড়িই আছে দুনিয়াতে, সেটি হলো ব্রিটিশ রাজপরিবারের প্রধান প্রশাসনিক দপ্তর বাকিংহাম প্যালেস।

মুকেশ আম্বানি কয়েকটি বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহার করেন। এসব গাড়ির মধ্যে আছে দুটি বেন্টলি বেন্টাগা মার্সিডিজ মেব্যাচ, অ্যাস্টমার্টিন রেপিড, রোলসরয়েস ফ্যান্টম, ল্যান্ডরোভার ডিসকভারি, ল্যান্ডরোভার রেঞ্জ রোভার, এনডেভার, বিএমডব্লিউ ইত্যাদি। এর মধ্যে বেন্টলি বেন্টাগার দাম ৭ কোটি ৬০ লাখ রুপি।

অন্যদিকে পাকিস্তানের শীর্ষ ধনী মিঞা মুহাম্মদ মানশার সব ধনসম্পদের মূল্য ৩৭০ কোটি মার্কিন ডলার। এই অর্থ পাকিস্তানি মুদ্রায় ৫২ হাজার কোটি রুপি। তিনি আন্তর্জাতিক নিশাত গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও চেয়ারম্যান। তাঁর ব্যাংক, গাড়ি, বিদ্যুৎ, শপিংমল, হোটেল, বস্ত্রকল, লিজিং ব্যবসা রয়েছে। ওয়েলথ এক্স–এর হিসাব অনুযায়ী ২০১৯ সালের জুলাইয়ে তাঁর সম্পদের মূল্য ছিল ৩৮০ কোটি ডলার।
মানশাকে পাকিস্তানের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও শক্তিধর ব্যক্তিদের একজন বলে মনে করা হয়। ডেইলি পাকিস্তান ২০০৮ সালে প্রথম তাঁকে সেই দেশের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি বলে খবর প্রকাশ করে। তখন তাঁর সম্পদের মূল্য ছিল ২৫০ কোটি ডলার। আর ২০১০ সালে প্রথম পাকিস্তানি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ফোর্বস ম্যাগাজিনের করা বৈশ্বিক বিলিয়নারদের তালিকায় তাঁর নাম ওঠে।
পাকিস্তানের শীর্ষ ধনি মিঞা মুহাম্মদ মানশাও দামি গাড়ি ব্যবহার করেন। তাঁর গাড়িগুলোর মধ্যে রয়েছে ই–ক্লাস জাগুয়ার, মার্সিডিজ বেঞ্চ, পোরশে টারবো, বিএমডব্লিউ ৭৫০, রেঞ্জ রোভার, ভক্সওয়াগন, টার্বোপ্রপ প্লেন ও আট আসনের একটি জেট বিমান।

projonmonews24/maruf

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ