মডার্নার করোনার ভ্যাকসিন পরীক্ষা আশা দেখাচ্ছে

প্রকাশিত: ১৯ মে, ২০২০ ০১:৩০:০৭

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বায়োটেক কোম্পানি মডার্নার করোনা ভাইরাস ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগের প্রাথমিক ফল ইতিবাচক বলে জানানো হয়েছে। ভ্যাকসিনটি তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে মর্ডানা। খবর সিএনএন।

সোমবার (১৮ মে) মডার্নার চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. টাল জাকস বলেছেন, পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতেও ফলাফল ঠিকঠাক আসলে আগামী জানুয়ারি নাগাদ তাদের টিকা সর্বসাধারনের জন্য চলে আসতে পারে। “এটা বাস্তব অর্থে দারুন খবর, এটা এমন খবর যে আমরা মনে করি অনেকে এর অপেক্ষায় ছিলেন।” বলছিলেন তিনি।

গত মার্চে  প্রথম মডার্নার এই টিকা পরীক্ষামূলকভাবে মানুষের শরীর প্রবেশ করানো হয়। প্রথম পর্যায়ের এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের শরীরে টিকার দুটি ডোজ দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে আটজনের দেহে তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করে যে ফল পাওয়া গেছে তার ভিত্তিতে এই ঘোষণা দিয়েছে মর্ডানা।

পরীক্ষার এই ধাপে দেখা হয়েছে, টিকাটি মানুষের জন্য নিরাপদ কি না এবং সেটি শরীরে ওই রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলছে কি না।

ওই আটজনের প্রত্যেকের শরীরেই করোনা ভাইরাসের ‘নিউট্রালাইজিং অ্যান্টিবডি’ এমন মাত্রায় তৈরি হয়েছে, যা এই ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হওয়া ব্যক্তিদের দেহে তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডির সমান বা তার চেয়ে বেশি।
নিউট্রালাইজিং অ্যান্ডিবডিগুলো ভাইরাসকে আটকে ফেলে সেটিকে মানব দেহে আক্রমণের জন্য বিকল করে দেয়।

মডার্নার বরাত দিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যে সব ভলান্টিয়ারের ওপর টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হয়েছে তাদের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে এবং সেগুলো ল্যাবে পরীক্ষা করে দেখা গেছে তা ভাইরাসের বংশবিস্তার ঠৈকিয়ে দিতে সক্ষম, যা কোনো কার্যকর টিকার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

ডা. জাকস বলেন, “আমরা এই অ্যান্টিবডিগুলো দেখিয়েছি, এতে তৈরি হওয়া প্রতিরোধ ক্ষমতা, এটা সত্যিকারে ভাইরাসটিকে আটকে দিতে পারে। আমি মনে করি, আমাদের টিকা পাওয়ার যাত্রায় এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, এবং অবশ্যই প্রথম ধাপ।”

মডার্নার এই কাজে সম্পৃক্ত নন এমন একজন বিশেষজ্ঞও পরীক্ষার এই ফলকে ‘চমৎকার’ বলে উল্লেখ করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের কেমব্রিজভিত্তিক মর্ডানা ছাড়াও বিশ্বের আরও সাতটি প্রতিষ্ঠান করোনা ভাইরাসের টিকা তৈরির চেষ্টা করছে। এর মধ্যে কয়েকটি মানবদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের পর্বে রয়েছে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে। সেগুলোর দুটি যুক্তরাষ্ট্রের, একটি ব্রিটেনের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি চারটি চীনের প্রতিষ্ঠান।

প্রজন্ম নিউজ /নুর

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন





ব্রেকিং নিউজ