ঈদকে ঘিরে সান্ধ্য আইন জারি চান বিশেষজ্ঞরা

প্রকাশিত: ১৮ মে, ২০২০ ১২:২২:৪২

দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের প্রায় ২ মাস অতিবাহিত হলেও এখনও সংক্রমণ বেড়েই চলছে। প্রায় প্রতিদিনই সর্বোচ্চ আক্রান্তের রেকর্ড গড়ছে। 

এমন পরিস্থিতিতে রাজধানী ঢাকায় গুচ্ছ লকডাউন অব্যাহত ও কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করার পাশাপাশি সান্ধ্য আইন জারি করার কথাও ভাবতে বলেছেন আট বিশেষজ্ঞ।

তারা বলছেন, ঈদের আগে ও পরে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় সান্ধ্য আইন জারি করার কথা ভাবা যেতে পারে।

সম্প্রতি ৮ বিশেষজ্ঞ স্বাস্থ্য অধিদফতরের উপদেষ্টা কমিটির এক সভায় এসব প্রস্তাবের কথা বলা হয়। সভার কার্যবিবরণীতে এ বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে, যা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে পাঠানো হয়েছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জন্য সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করা হয়েছে।

তাতে বলা হয়েছে, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধ স্বাস্থ্য অধিদফতরের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এই কাজে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে যুক্ত হতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে টাস্কফোর্স গঠন করা দরকার। স্থানীয় সাংসদ, ওয়ার্ড কাউন্সিলর, এনজিও প্রতিনিধি, চিকিৎসক, মসজিদের ইমামসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে টাস্কফোর্স গঠন করতে হবে। সঙ্গে থাকবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কোনো এলাকায় লকডাউন সফল করতে এঁরা সম্মিলিতভাবে কাজ করবেন।

বিশেষজ্ঞ দলের সদস্য ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক শাহ মুনির বলেন, ‘আমরা মনে করছি করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সিটি করপোরেশনগুলোতে বেশি মনোযোগ দিতে হবে। বড় শহরগুলোতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলে সারা দেশে তা কমানো যাবে।’

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রাজধানীর টোলারবাগে ও বুয়েট এলাকায় সফলভাবে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে। ওই অভিজ্ঞতা ঢাকার অন্য এলাকায় ব্যবহার করা যেতে পারে।

এই বিশেষজ্ঞ দলে আছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক দুই মহাপরিচালক এম এ ফয়েজ ও শাহ মুনির, জনস্বাস্থ্যবিদ আবু জামিল ফয়সাল, আইসিডিডিআরবির জ্যেষ্ঠ গবেষক আনোয়ার ইকবাল, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক পরিচালক মওদুদ হোসেন, উগান্ডায় ইবোলা মহামারির সময় ইউনিসেফের সাবেক উপদেষ্টা তারিক হোসেন, সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন ও রিহ্যাবিলিটেশন বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ফজলুর রহমান এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেসের সাবেক উপাচার্য লিয়াকত আলী।

প্রজন্ম নিউজ/ নুর

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন