লকডাউন উঠিয়ে দিলে করোনায় মৃত্যু আরও বাড়বে

প্রকাশিত: ১৩ মে, ২০২০ ০৩:২০:৪৭

আমেরিকার মহামারি বিষয়ক শীর্ষ চিকিৎসক অ্যান্থনি ফাউসি। ছবি: এএফপিকরোনাভাইরাসের নাজুক পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না নিয়েই আমেরিকায় সব খুলে দেওয়ার ব্যাপারে চরম সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন আমেরিকার মহামারি বিষয়ক শীর্ষ চিকিৎসক ও হোয়াইট হাউসের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত টাস্ক ফোর্সের অন্যতম প্রধান ব্যক্তি অ্যান্থনি ফাউসি। ১২ মে মার্কিন কংগ্রেসে এক গুরুত্বপূর্ণ শুনানিতে এ সতর্কবাণী উচ্চারণ করে তিনি বলেন, লকডাউন উঠিয়ে দেওয়ার পর করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নাজুক হয়ে উঠবে, মৃত্যু বাড়বে। এমন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া সবকিছু না খোলার জন্য তিনি আহ্বান জানিয়েছেন।

আসছে ফলে (হেমন্ত মৌসুমে) মার্কিন শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়ার সময়ের মধ্যে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন সহজলভ্য হয়ে উঠবে বলে ফাউসি মনে করেন না। প্রক্রিয়াটি বেশ দীর্ঘ উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী এক বা দুই বছরের মধ্যে করোনাভাইরাসের একটি ভ্যাকসিন পাওয়া যেতে পারে।


সিনেটের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শ্রম ও অবসর বিষয়ক কমিটিকে দেওয়া শুনানিতে ফাউসি বলেছেন, বর্তমান অবস্থায় বিভিন্ন নগর ও শহর খুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি নাজুক হবে। মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যাবে। এমন পরিস্থিতি কতটা সামাল দেওয়া সম্ভব হবে-এসব নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন তিনি। প্রকৃত ঝুঁকি হচ্ছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে দাঁড়ালে বহু মৃত্যু হবে। এমন মৃত্যুর প্রভাব অর্থনীতির ওপর পড়বে বলে তিনি সতর্ক করে দেন।

অ্যান্থনি ফাউসিই ট্রাম্প প্রশাসনের এ সংক্রান্ত একমাত্র ব্যক্তি যার কথা বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে করা হয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পসহ তাঁর দলের প্রভাবশালীরা দ্রুত সবকিছু খুলে দিতে চান। তাঁর নির্বাচনের আগেই অর্থনৈতিক চাঞ্চল্য চলে এসেছে, তা দেখাতে চান। ফাউসির সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরোধ বেশ আগে থেকেই শুরু হয়েছে। একপর্যায়ে ফাউসিকে চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে বলেও সংবাদ বেরিয়েছে মার্কিন প্রধান সংবাদ মাধ্যমগুলোতে। করোনা সংক্রমণ আরও নিয়ন্ত্রণ না হওয়া পর্যন্ত সবকিছু খুলে না দেওয়ার পক্ষে কথা বলে আসছেন ফাউসি।

রিপাবলিকান সিনেটর রোন্ড পল বলেছেন, আসছে মৌসুমে শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে না পারলে দেশের বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। ফাউসিকে শ্রদ্ধা করেন উল্লেখ করে এ সিনেটর বলেছেন, ফাউসির কথাই শেষ কথা হতে পারে না। অন্যরা যারা বলছে, এমন হবে না তাদের কথাও শুনতে হবে।


দীর্ঘ লকডাউন থেকে নিউইয়র্ক নগরীসহ সর্বত্র ধাপে ধাপে খুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। যদিও প্রতিদিন নতুন লোকের সংক্রমণ হচ্ছে। আগের মাস থেকে সংখ্যা অনেক কমে আসলেও অজানা এ ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে হাসপাতালে লোকজনের আগমন অব্যাহত রয়েছে। কেবল নিউইয়র্ক নগরীতেই ১২ মে করোনা সংক্রমণে ১৭৩ জনের মৃত্যুর তথ্য দেওয়া হয়েছে। নতুন নতুন উপসর্গ নিয়ে শিশুরা হাসপাতালে আসছে। প্রায় ১৪ ধরনের ভ্যকাসিন নিয়ে কাজ করছে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, এ বছরের মধ্যেই ভ্যাকসিন চলে আসবে।


আমেরিকায় করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে এ পর্যন্ত ৮৩ হাজার ৪২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সংখ্যা আরও বেশি হবে বলে মনে করা হচ্ছে। করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে বা বাড়ি ও সেবাকেন্দ্রে মারা যাওয়া অনেকের নামই এ তালিকায় আসেনি। করোনাভাইরাসে আমেরিকায় সংক্রমিত হয়েছে এ পর্যন্ত ১৪ লাখের বেশি মানুষ।

projonmonews24/maruf

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ