করোনাকালে নবজাতকের যত্ন নেবেন যেভাবে

প্রকাশিত: ২৬ এপ্রিল, ২০২০ ১০:৩৮:০৮

বিশ্ব এখন করোনার দখলে। লাখ লাখ মানুষ এই করোনা ভাইরসের (কোভিড-১৯) ছোবল নিয়ে আতঙ্কিত। এমনকি করোনার ছোবল থেকে রক্ষা নেই সন্তান সম্ভবা মায়েদেরও। সন্তান হওয়ার ঠিক আগেই মা যদি আক্রান্ত হয়ে পড়েন এই ভাইরাসে, হিসেব যেন বদলে যায় খুব দ্রুত। নয় মাস ধরে তিলে তিলে লালন করা স্বপ্নগুলো যেন ভেঙে যায় এক মুহূর্তে।

তাই শিশুটির পরিচর্যার বিষয়ে তখন ডাক্তারদের দেখানো পথ ছাড়া একচুলও বাইরে যাওয়ার উপায় থাকে না। কারণ সবসময়েই তো সেই ভীতি তাড়া করে বেড়ায় যে শিশুটির শরীরে এই ভাইরাস মায়ের শরীর থেকে চলে যাবে না তো?
চীনের এক গবেষণায় পাওয়া তথ্য অনুযায়ী এক বছরের নীচে আক্রান্ত হয়েছে ১১.৮ শতাংশ শিশু। কিন্তু কারও মৃত্যুর খবর নেই। তবে এদের ইমিউনিটি বড় বাচ্চাদের তুলনায় কম থাকার কারণে রোগের তীব্রতা বেশি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এখনও পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে মাত্র দু’দিনের মাথায় এক সদ্য নবজাতকের শরীরে এই ভাইরাসের অস্তিত্ব মিলেছে। তেমনই কিছু পরামর্শ উঠে এসেছে ভারতীয় আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে। চলুন তনে জেনে নিই কীভাবে নবজাতকের পরিচর্যা করা যায়।

সাবধানতা ও পরিচর্যা: মা যখন কোভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত বা লক্ষণ আছে, কিন্তু টেস্টের রিপোর্ট পাওয়া যায়নি, অথবা শুধুই এই রোগের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, তখন এই সাবধানতাগুলো নিতে পারলে মায়ের শরীর থেকে বাচ্চার শরীরে সংক্রমণের আশঙ্কা অনেকটাই কম হতে পারে।

• শিশুটিকে জন্মের ঠিক কিছুটা পরে, পরিস্থিতি যখন স্থিতিশীল তখন হাল্কা গরম পানি দিয়ে গোসল করিয়ে দেওয়া যেতে পারে। এর ফলে স্পর্শের মাধ্যমে যদি মায়ের শরীর থেকে শিশুর শরীরে এই ভাইরাস গিয়েও থাকে তা পরিষ্কার হয়ে যায়।

• জন্মের ঠিক পরেই মায়ের থেকে নবজাতককে একটু আলাদা রাখাই ভাল। আর পাঁচটা ডেলিভারির সময় যেখানে শিশুটিকে মায়ের পাশেই দিয়ে দেওয়া হয়।

• যদি মা চান যে তার শিশুটি তার সঙ্গেই থাকুক অথবা মা ও শিশুকে আলাদাভাবে পরিষেবা দেওয়ার মতো পরিস্থিতি না থাকে তবে সেক্ষেত্রে দু’জনকেই এক ঘরে রাখা যেতে পারে। কিন্তু দু’জনের মধ্যে অন্তত ছয় ফুটের ব্যবধান যেন অবশ্যই থাকে, মা ও শিশুর মাঝে মোটা পর্দা থাকলে ভাল হয়।

• নভজাতকের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলায় মায়ের দুধের বিশেষ ভূমিকা আছে। তাই এমন এক পরিস্থিতিতে ‘হু’, সিডিসি- সবাই‌ পরামর্শ দিচ্ছেন মায়ের দুধের পক্ষেই। তাই এক্সপ্রেস করে অন্য কেউ শিশুটিকে এই দুধ খাইয়ে দিতে পারেন। কিন্তু তার আগে মায়ের হাত আর স্তন যেন খুব ভাল করে সাবান দিয়ে ধুয়ে নেওয়া হয়। দুধ এক্সপ্রেস করার কাজে ব্রেস্ট পাম্প প্রয়োজনে ব্যবহার করা যেতে পারে। সরাসরি শিশুটিকেও মাতৃস্তন পান করানো যেতে পারে যদি মা ঠিকভাবে হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে, মুখে মাস্ক পরে, গাউন গায়ে দিয়ে খাওয়ানোর মতো অবস্থায় থাকেন। আর সরাসরি সন্তানকে স্পর্শ না করে কাপড়ের উপর দিয়ে স্পর্শ করাই শ্রে়য়। 

প্রজন্ম নিউজ/সবুজ

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন