সংখ্যা বাড়লে সরকার ব্যর্থ, নিয়ন্ত্রণে থাকলে 'এ হতেই পারে না'!

প্রকাশিত: ৩০ মার্চ, ২০২০ ০৩:৪০:৫৪

আজব আমরা এ দেশের মানুষ? “চালের দাম বাড়লে মানুষ মরে, আর কমলে কৃষক মরে। সরকারের ত্রাহি মধুসূদন অবস্থা। করোনাক্রান্তের সংখ্যা বাড়লে সরকার ব্যর্থ আর নিয়ন্ত্রণে থাকলে 'এ হতেই পারে না'! আমেরিকা, ইংল্যান্ড পারছেনা, আর আমরা? নিশ্চয়ই কিন্তু আছে। সবার নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে না।” আরে ভাই সব জ্বরই করোনা নয়। আর জ্বর হলেই করোনা পরীক্ষা কোন দেশে হয় না। 

করোনা বিষয়ে এ পর্যন্ত একমাত্র কর্তৃপক্ষ WHOর নির্দেশনা অনুযায়ী সব দেশে করোনা পরীক্ষা করা হয়। WHO র Website এ গিয়ে দেখুন কোন পর্যায়ে করোনা পরীক্ষা করতে হবে তার সুস্পষ্ট নির্দেশিকা দেয়া আছে। সব দেশই একই নির্দেশিকা অনুসরন করছে। আমি ১মাস জ্বরে ভুগেছি। ১০ দিন এন্টিবায়োটিক খেতে হয়েছে। ১৫/১৬ দিনের মাথায় আমার স্ত্রী করোনা পরীক্ষার জন্য যোগাযোগ করলে লক্ষণ শুনে ওনারা পরীক্ষা করতে নিরুৎসাহিত করেছেন। এখন আমি সম্পুর্ণ সুস্থ। কানাডার টরন্টোতে আমার বোন প্রচণ্ড জ্বর নিয়ে যোগাযোগ করলে ৩ দিন পরে যেতে বলে। যাওয়ার পর দেখে করোনার লক্ষণ নয় বলে পরীক্ষা করেনি। এখন সে সুস্থ। আসলে এ সময়ে ফ্লু আমাদের দেশে অনেকেরই হয়ে থাকে এবং হচ্ছে। 

দক্ষিণ এশিয়ায় করোনা সংক্রমণের মাত্রা কম। উষ্ম আবহাওয়া একটা কারণ হতে পারে। আর একটি বিষয় আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে তা হল আমাদের দেশে বিদেশী পর্যটকের সংখ্যা নাই বললেই চলে। বিদেশীরা যারা আসে কার্যোপলক্ষেই আসে। চায়নাতে করোনা ছড়ানোর খবরের পর থেকেই বাংলাদেশে বিদেশীদের আসা বন্ধ হয়ে যায়। জানুয়ারি থেকেই একেবারে শূন্য। হোটেলগুলির রেজিস্টার চেক করলেই পাবেন। আর দেশে থাকা বিদেশী নাগরিকরাও দল ব্যাপকভাবে বাংলাদেশ ছেড়েছে। করোনা যেহেতু মনুষ্যবাহী বিদেশে সৃষ্ঠ ভাইরাস তাই বিদেশীদের মাধ্যমে তা এদেশে ছড়াতে পারেনি। আর যে সমস্ত প্রবাসী দেশে ফিরেছেন তারা সবাই করোনাক্রান্ত ভাবার কারণ নাই। মুষ্টিমেয় কয়েকজনের মাধ্যমে ভাইরাস আমাদের কিছু মানুষের মাঝে ছড়িয়েছে। তবে সরকারের সুস্পর্শ নির্দেশনায় সময়মত তাদেরকে আইসোলেটেড করে ফেলায় এবং এ বিষয়ে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরী হওয়ায় আমাদের দেশে সংক্রমণের মাত্রা সহনীয় পর্যায়ে আছে। প্রবাসীদের দেশে ফেরতের সময় প্রথমদিকে প্রস্তুতির অভাবে কিছুটা অব্যবস্থাপনা থাকলেও স্বল্প সময়ে সরকার তা নিয়ন্ত্রণে এনেছে। 

বিশ্বের অত্যুন্নত দেশসমূহের বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনা আমাদের থেকেও খারাপ ছিল। তাই স্রোতের মত করোনাক্রান্তরা সে দেশ সমূহে ঢুকেছে। আর ব্যাস্ততম বিমানবন্দরগুলির স্বাভাবিক Flow অজানা আশংখায় (তখন পর্যন্ত অজানাই ছিল) বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণ করাও সম্ভব ছিল না। বিদেশী পর্যটক এবং নাগরিকদের আনাগোনা যে সমস্ত দেশসমূহে বেশী ছিল সে দেশগুলিতেই করোনার বিস্তৃতি বেশী হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা একান্তভাবে প্রয়োজন। বর্তমানে সমগ্র বিশ্ব যে অবস্থায় দাঁড়িয়েছে তার অর্থনৈতিক After effect কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে সেটা ভাবতেই ভয় লাগছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভুমিকা এখন ব্যাপক। তাই অযথা গুজব এবং ভিতি না ছড়িয়ে সবাই দায়িত্বশীল ভুমিকা রাখুন। একথা ভাবার কোন কারণ নাই যে সরকার এসময়ে নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য আমার-আপনার চেয়ে কম বিচলিত। কোন বিষয়ে আপনার কাছে কোন তথ্য থাকলে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগে জানান। তাতে জনগণ উপকৃত হবে। আমাদের সবার সেটাই করা উচিত।

projonmonews24/maruf

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন





ব্রেকিং নিউজ