বিজ্ঞানীদের গবেষনায় ‘জমজম কূপ’

প্রকাশিত: ১৫ জানুয়ারী, ২০২০ ০৬:১৬:২৩ || পরিবর্তিত: ১৫ জানুয়ারী, ২০২০ ০৬:১৬:২৩

জমজম একটি প্রসিদ্ধ কূপ । যা পবিত্র কাবা হতে ৩৮ গজ পূর্বে অবস্থিত। মুসলিম জাতির পিতা হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এর ছেলে নবী ইসমাইল (আঃ) এর স্মৃতি বিজড়িত এই কূপ ।‘জমজম’ অর্থ অঢেল পানি। আল্লাহর তা’লার অসীম কুদরতে জমজম কূপ ৪০০০ বছর পূর্বে সৃষ্টি হয়েছিল। জমজম কুপের পানি পৃথিবীর সমস্ত পানি থেকে স্বচ্ছ, উৎকৃষ্ট,পবিত্রও বরকতময়। জমজম কূপের পানির স্তর মাটির উপরিভাগ থেকে প্রায় ১০.৬ ফুট নিচে। কখনও কখনও কূপ হতে প্রতি সেকেন্ডে ৮০০০ লিটার হিসাবে ২৪ ঘন্টা পানি পাম্প করা হয়।তখন পানির স্তর ৪৪ ফুট নিচে চলে যায়। কিন্তু পাম্প বন্ধ করলে ১১ মিনিটের মাথায়  তা আগের  অবস্থায় ফিরে আসে। প্রতি সেকেন্ডে ৮০০০ লিটার পানি পাম্প করার মানে হচ্ছে একদিনে প্রায় ৬৯০ মিলিয়ন লিটার পানি উত্তোলন।

জমজম পানির কিছু বৈশিষ্ট্যঃ
১.    জমজম পানির কোন রং নেই, এমন কি গন্ধও নেই।
২.    এই পানির স্বাতন্ত্র স্বাদ আছে।
৩.    সাধারণ পানি শুধু পিপাসা মেটায় কিন্তু জমজমের পানি পিপাসার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষুধাও মিটায়।
৪.    এই পানি পানে মানুষ বিভিন্ন রোগ হতে আরোগ্য লাভ করে।

বৈজ্ঞানিক গবেষনায় জমজমঃ
১.    জাপানি বৈজ্ঞানিকদের গবেষনায় দেখা গেছে  সাধারনত পানির ১০০০ ফোটার সঙ্গে যদি জমজমের এক ফোটা পানি মেশানো হয় তাহলে সেই   মিশ্রনও জমজমের পানির মতো বিশুদ্ধ হয়ে যায়।
২.    ইউরোপিয়ার ল্যাবরেটরি জমজম  পানির নমুনা সংগ্রহ করে গবেষণা করে দেখেছে, এতে ক্যালসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়ামের আধিক্য রয়েছে। ফলে এটি ক্লান্তি দুর করতে ভুমিকা রাখে।
৩.    এতে ফ্লোরাইড রয়েছে, ফলে এই পানি নিজেই জীবানু প্রতিরোধ করতে সক্ষম।
৪.    জমজমের একফোটা পানিতে যে নিজেস্ব খনিজ গুনাগুন রয়েছে, তা পৃথিবীর অন্য কোন পানিতে নেই।
৫.    জমজমের পানির উপাদান গুলোকে পারিবর্তন বা রূপান্তর করা যায় না।

ব্যবহার বিধিঃ
জমজমের পানি  দাড়িয়ে কেবলা মুখী হয়ে পান করা মুস্তহাব এবং এই পানি দ্বারা শৌচ করা মাকরূহ।
হযরত আবু যর (রাঃ)  বর্ণনা  করেন - নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন “জমজমের পানি বরকতময়, স্বাদ অন্বেষণ কারীদের খাদ্য।” (সহিহ্ মুসলিম, হাদিসঃ ২৪৭৩)


প্রজন্মনিউজ২৪/সজীব

 

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন