সময় ভ্রমন (Time Travel)

প্রকাশিত: ০১ জানুয়ারী, ২০২০ ১২:৩২:৪৫

মানব জীবনে সবচেয়ে মূল্যবান যে বিষয়টিকে ধরা হয় তা হচ্ছে সময়। মানুষ সময়কে থামিয়ে রাখার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বহুকাল আগে থেকেই। এক সময় ‘সময়’ কে ছোঁয়া যেত না। আর এখন যে ছোঁয়া যাচ্ছে তাও একদম না। প্রত্যেকেই কোন না কোন ভাবে চিন্তা করি যদি অতীত/ভবিষ্যৎ থেকে ঘুরে আসতে পারতাম! চলুন রূপকথার নিরব স্তব্ধতা ভেঙে আজ আমরা সময় ভ্রমন করে আসি!!


সবার আগে জেনে নেই সময় ভ্রমন বা টাইম ট্রাভেল কী? সহজ কথায় “এক সময় থেকে অন্য সময় পরিভ্রমনকে আমরা টাইম ট্রাভেল বলি।” যেটা শুনতে এখন অবাস্তব সেটা সাইন্সফিকশন এবং থিসিসে সম্ভবনাময় সত্য । এখন আমরা টাইম ট্রাভেলের সম্ভাবনাকে উপহাস করছি কিন্তু যখন আমাদের নাতি-পুতির ঘরের পুতি-নাতি সত্যি সত্যিই টাইম ট্রাভেল করবে তখন হয়তো আমাদের মৃত আত্মা আফসোস করবে ।


বিজ্ঞানে টাইম ট্রাভেল কিভাবে সম্ভব ? টাইমট্রাভেল সম্পর্কে বিজ্ঞানে অনেক সম্ভাবনা রয়েছে তার মধ্যে ব্ল্যাকহোল টাইম ট্রাভেল থিউরি এবং ওয়ার্মহোল টাইমট্রাভেল থিউরি বেশ প্রসিদ্ধ।

প্রথমে আসি ব্লাকহোলের ব্যাপারে । ব্লাকহোল হলো তারার খুব দুর্দশাপূর্ণ অবস্থা। তারাগুলো একেবারে চুপসে গিয়ে তাদের ভর একটি বিন্দুতে এসে পৌছায়, যার ফলে স্থান কালের মাত্রা অসীম হয়ে যায়। সেখানে আলো প্রবেশ করলেও  বের হয়ে আসতে পারে না। আবার বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের ঞযবড়ৎু ড়ভ এবহবৎধষ জবষধঃরারঃু অনুসারে ভর যত বেশী হবে সময় ততো ধীর হবে। এখন কেউ যদি একটি মহাকাশযান নিয়ে ব্ল্যাকহোলের আশেপাশে ভ্রমন করতে থাকে এবং অন্য একটি মহাকাশযান যদি পৃথিবীর চারিদিকে ভ্রমন করে তবে ব্ল্যাকহোলের আশেপাশে  ভ্রমনকারীর বয়স পৃথিবীর চারিদিকে ভ্রমনকারী ব্যাক্তির বয়সের অর্ধেক হবে। অর্থাৎ আপনি যদি জন্মের পরপরই মহাকাশযান নিয়ে ব্ল্যাকহোলে ভ্রমন করতে যান এবং আপনার ক্যালেন্ডারের ৫০ বছর পর পৃথিবীতে ফিরে আসেন তবে দেখবেন আপনার জমজ ভাইয়ের বয়স ১০০ বছর!!!

         

আচ্ছা ব্ল্যাকহোল থেকে এবার ওয়ার্মহোলে আসি । মহাবিশ্ব সৃষ্টির সাথে সাথে তৈরি হয়েছে ওয়ার্মহোল। এই মহাবিশ্বে অতি ক্ষুদ্রতম হোল বা ছিদ্র আছে যারা একে অপরের সাথে যুক্ত। এই ওয়ার্মহোলের মাধ্যমেই সময়কে ফাঁকি দিয়ে আমরা পৌছতে পারি অন্য মহাবিশ্বে বা প্যারালাল ইউনিভার্সেল। তাইতো ভবিষ্যতে যদি এমন কোন প্রযুক্তি আবিষ্কৃত হয় যা দিয়ে ওয়ার্মহোলে প্রবেশ করা যাবে তবে হয়তো বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় নতুন একটি মাইলফলক স্পর্শ হবে।


টাইম ট্রাভেলের মাধ্যমে আপনি ভবিষ্যতে ভ্রমন করতে পারবেন তা কাগজে কলমে সম্ভব বলে ধরে নেয়া যায়। তবে অতীত ভ্রমনের ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা এসে ঝামেলা তৈরি করছে। যেমন ধরুন, আপনি হিটলারকে হত্যার উদ্দেশ্যে অতীতে ভ্রমন করলেন এবং ১৮৮৯ সালের ২০ শে এপ্রিল তাঁর জন্মের সাথে সাথে তাকে হত্যা করলেন। ফলে যে ইহুদি নিধনের জন্য হিটলার সারাবিশ্বে ‘খলনায়ক’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে তাঁর সেই ইতিহাস আর তৈরি হবে না। ফলে হিটলারকে আর কেউ চিনবে না এবং আপনিও তাকে চিনবেন না। তাহলে আপনি কী উদ্দেশ্যে অতীত ভ্রমন করতে গেলেন তা প্রশ্নবিদ্ধ রয়ে যায়!!

আবার ধরুন কোন ব্যাক্তি অতীতে গিয়ে জন্মের পরপরই তার দাদাকে হত্যা করল । তাহলে তার দাদা যেহেতু শিশু অবস্থায় মারা গেল সেহেতু ঐ ব্যাকিÍর বাবার জন্ম হওয়া অসম্ভব। আর বাবার জন্ম না হলে ঐ ব্যাক্তিটি-ই আসলো কোথা থেকে??


একটি মজার ঘটনা দিয়ে আজ শেষ করতে চাই। বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং ২০০৯ সালের ২৮শে জুন ক্যামব্রিজে একটি নৈশভোজ পার্টির আয়োজন করেন তবে তিনি মানুষকে দাওয়াত দেন পার্টির শেষে ২৯শে জুন। তিনি পার্টির শেষে ২৮শে জুনের পার্টিতে অংশ নেয়ার জন্য ইনভাইটেশন লেটার বানিয়ে রাখেন। ব্যাপারটা অদ্ভুত হলেও তিনি বেশ আশা নিয়ে পৃথিবী ত্যাগকরেছেন। তার বিশ্বাস ছিল ভবিষ্যতের কেউ না কেউ এই ইনভাইটেশন লেটারটি নিয়ে অতীত ভ্রমন করে পার্টিতে অংশ নেবেন।

সালেহ আহমদ সিফাত

ভূতত্ত্ব বিভাগ, ঢাবি

imsaleh.sifat@gmail.com

 

 

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন