চীন-মার্কিন বাণিজ্য যুদ্ধ

প্রকাশিত: ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১২:৪৯:০১ || পরিবর্তিত: ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১২:৪৯:০১

(প্রথম পর্ব)

দুই বা ততোধিক দেশ যখন তার আমদানী ও রপ্তানীকৃত পণ্য সমূহের অবাধ চলাচলের উপর বাঁধা দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে তখনই বাণিজ্য যুদ্ধের সূচনা হয়। চীন-মার্কিন বাণিজ্য যুদ্ধ আনুষ্ঠানিক রূপ লাভ করে ৬ই জুলাই ২০১৮ এর দিকে পাল্টাপাল্টি আমদানী পণ্যের উপর শুল্ক আরোপের মধ্য দিয়ে। দুটি দেশই পরস্পর প্রায় ৩ হাজার ৪ শ’ কোটি ডলারের আমদানী পণ্যের ওপর শুল্ক (Tariff) আরোপ করে। অবশ্য এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাত ধরেই। তিনি একই বছর এপ্রিলে প্রথম চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করেন।

এই শুল্ক আরোপের মাধ্যমেই দেশীয় বাজার থেকে বিদেশী পণ্য হ্রাস করা হয়। উদাহরনস্বরূপ ধরি, মার্কিন বাজারে এক জোড়া মার্কিনী জুতার দাম ১১ ডলার এবং চীনা জুতার দাম ১০ ডলার। যদি আমেরিকা চীনা জুতার উপর ২০% শুল্ক আরোপ করে তবে চীনা জুতার দাম হবে ১২ ডলার। যা মাকিনী  জুতার তুলনায় এক ডলার বেশি হবে। যেহেতু ক্রেতাগণ কমদামী পণ্যের প্রতি বেশি ধাবিত হয়, সেহেতু এই শুল্ক আরোপের মাধ্যমে চীনা পণ্যের চাহিদা মার্কিনী বাজারে হ্রাস পাবে। একই প্রক্রিয়ায় চীনের বাজারে মার্কিন পণ্যের উপরও একইভাবে শুল্ক আরোপ করে চীন।

চীনের সাথে আমেরিকার বাণিজ্য ঘাটতি (Trade Deficit) কমানোই মূল উদ্দেশ্য ছিল ট্রাম্পের। বাণিজ্য ঘাটতি হচ্ছে রপ্তানী আয় ও আমদানী ব্যায়ের বিয়োগফল। চীন-মার্কিন বাণিজ্য সম্পর্ক বেশ পুরোনো। ১৯৮৫ সালের দিকে আমেরিকা চীনে রপ্তানী করতো প্রায় ৩৮৫৫.৭ মিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য এবং চীন থেকে আমদানী করতো প্রায় ৩৮৬১.৭ মিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য। তখন আমেরিকার বাণিজ্য ঘাটতি ছিল মাত্র ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এরপর থেকে এই ঘাটতি দিন দিন বাড়তেই থাকে। ২০১৭ সালের দিকে এই ঘাটতি এসে পৌছায় ৩৩৫.৪ বিলিয়নে। যা যথারীতি আমেরিকার জন্য বোঝাস্বরূপ।

এই ঘাটতি দূর করার জন্য এবং ব্যবসায়ীক ভারসাম্য (Balance of Trade) ফিরিয়ে আনার জন্যই মাঠে নামে ট্রাম্প। সেই সুবাদে প্রথমেই আমেরিকা অর্থনৈতিক নিরাপত্তাজনিত কারন দেখিয়ে বিশ্বের বড় বড় চীনা প্রতিষ্ঠানকে মার্কিন বাজারে কালো তালিকা ভূক্ত করে । এর মাঝে রয়েছে  ZTE, China Telecom, Huawei ইত্যাদি সহ ৬৭ টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান। এছাড়াও এপর্যন্ত  প্রায় ৫৪৫ ধরনের চীনা পণ্যের উপর ২৫% শুল্ক আরোপ করে আমেরিকা।

সম্প্রতি আমেরিকার গুগল(Google) অ্যাপ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হয় চীনা প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে। যার ফলে বিশ্ববাজারে হুয়াওয়ের চাহিদা বেশ হ্রাস পাবে। অপরদিকে পাল্টা জবাব দিতে চীনও থেমে নেই। আমেরিকা থেকে আমদানীকৃত পপকর্ন, লবণ থেকে শুরু করে বাদাম সহ বিভিন্ন পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করে চীন।

ইতিহাসে বাণিজ্য যুদ্ধ নতুন কিছু নয়। চীন বৃটেনের ‘আফিম যুদ্ধ’ এর এক অনন্য উদাহরণ। এছাড়া ১৯৬০ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানীকৃত মুরগীর উপর উচ্চ হারে শুল্ক আরোপ করে ফ্রান্স ও জার্মানী । ১৯৮৫ সালে ইউরোপ থেকে পাস্তা আমদানীতে শুল্ক বসায় যুক্তরাষ্ট্র । ১৯৯৩ সালে লাতিন আমেরিকা থেকে কলা আমদানীতে শুল্ক বসায় ইউরোপ। যে বানিজ্য যুদ্ধ গুলো যথাক্রমে  Chicken War, The Pasta War, Banana War, নামে পরিচিত । তবে বানিজ্য যুদ্ধে কোন পক্ষই বিজয়ী হয়না। এর অন্যতম উদাহরন ১৯৩০ সালে আমেরিকার অভ্যন্তরীণ শিল্প রক্ষার্থে নেয়া Smoot-Hawley Tariff Act। যার ফলে  আমেরিকার অর্থনৈতিক মহামন্দা দীর্ঘস্থায়ী হয়। ফলে সেই আইন পুনরায় বাতিল করতে হয়েছিল। (চলবে)

সজীব হোসেন

শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

[email protected]

 

 

এ সম্পর্কিত খবর

মহাকাশ যুদ্ধের প্রস্তুতি, উপগ্রহ-ধ্বংসে সক্ষম মিসাইল রাশিয়ার হাতে!

রাজধানীতে গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়

নাফ নদের তীরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই রোহিঙ্গা নিহত

এবার রাশিয়ার শহর নিজেদের দাবি, ক্রমেই বিপদ ডেকে আনছে চীন

ঈদে পর্যায়ক্রমে ছুটি প্রদানে বিজেএমইএ এবং বিকেএমইএ'র প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন ওবায়দুল কাদেরের

বেইজিংকে চাপে রাখতে দক্ষিণ চীন সাগরে দুটি যুদ্ধজাহাজ পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র

আইয়ুব বাচ্চু, জেমসদের পরে আর কাউকে চিনি না আমি, বললেন রথীন্দ্রনাথ রায়

আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যা সমাধান করতে চায় মোদি সরকার

প্রধানমন্ত্রী নিজেই পাটকল শ্রমিকদের দায়িত্ব নিয়েছেন: পাটমন্ত্রী

কবির সুমন ও ইমনের সঙ্গে আসিফের আসছে নতুন চমক

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন





ব্রেকিং নিউজ