জাগপার কাউন্সিল, তাসমিয়া প্রধান সভাপতি

প্রকাশিত: ০৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০৪:৫৮:১১

প্রয়াত শফিউল আলম প্রধানের জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) কন্যা  ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান দলের সভাপতি মনোনীত হয়েছেন। কাউন্সিলে সভাপতিকে দেয়া ক্ষমতাবলে পরবর্তীতে তাসমিয়া দলের সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করবেন।

শুক্রবার (০৬ ডিসেম্বর) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে জাগপার ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিলে দলটির প্রতিষ্ঠাতা শফিউল আলম প্রধানের মেয়ে তাসমিয়া সভাপতি পদে মনোনীত হন।

 বক্তব্যে তাসমিয়া বলেন, বাংলাদেশ এখন একটি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। যখন আমরা কাউন্সিল করছি ঠিক সেই মুহূর্তে গণতন্ত্রের মাতা বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়া আজ কারারুদ্ধ। তাকে কারাগারে রেখে আমরা কোনো কথা বলতে চাই না। আমাদের আন্দোলন করতে হবে। আমি জাতিকে জানিয়ে দিতে চাই দেশনেত্রীর মুক্তি ও গণতন্ত্র পূনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে জাগপা সব সময় ছিল এবং থাকবে।

তিনি বলেন, আমি কোর্ট থেকে যখন বাসায় ফিরি তখন রাস্তায় ছোট ছোট বাচ্চারা জিনিসপত্র বিক্রি করতে আসে। আমি মনে করি যে দেশে শিশু শ্রম হয় সে দেশ আর যাই হোক উন্নয়নের কোনো দেশ নয়। তারা কথায় কথায় বলেন, উন্নয়নের রোল মডেল। আমারতো মনে হয় বাংলাদেশ ধর্ষণের রোল মডেল। দুর্নীতির রোল মডেল। সেই সময় করেছিল বাকশাল, এখন দুর্নীতির মাধ্যমে তারা করেছে টাকশাল।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক বলেন, জাগপা কোনো মতেই নবীন দল নয়। জাগপার বয়স ৪০ বছর। এখানে ৪০টি জেলার নেতারা এসেছেন এতেই প্রমাণ হয় আপনারা সারাদেশে ছড়িয়ে আছেন। তিনি বলেন, আমি আশা করি ২০ দলীয় জোটের মধ্যে যে সম্পর্ক আছে তা ভবিষ্যতেও থাকবে। আমাদের লক্ষ্য একটাই। দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার।

জামায়াতে ইসলামীর নব শপথ গ্রহণ করা আমির ডা. শফিকুর রহমানকে অভিনন্দন ও মোবারকবাদ জানিয়ে জেনারেল ইবরাহিম বলেন, নতুন নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামী নতুন গতিধারা না পেলেও পুরাতন গতিধারার ভুলভ্রান্ত্রিকে সংশোধন করে নতুনভাবে যাত্রা করবে এটা আমাদের বিশ্বাস ও কামনা।

জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, সীমান্তে বাংলাদেশের মানুষ নিহত হলে সঙ্গে সঙ্গে শফিউল আলম প্রধান বিবৃতি দিতেন। ফেলানী নিহত হওয়ার পর তিনি কঠিন বিবৃতি দিয়েছিলেন। এখন ফেলানীরা অনেক নিহত হয় কিন্তু সবাই বিবৃতি দেয় না। তিনি বলেন, আজকে ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বৈরাচারমুক্ত হয়েছিল। কেয়ার টেকার সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়েছিল। সেই নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী ইসলামী শক্তি ক্ষমতায় এসেছিল। আজকে কেয়ার টেকার সরকারকে বিতাড়িত করা হয়েছে। ১৭৩ দিন হরতাল করে এই কেয়ারটেকার সরকার আন্দোলন করার পর সংবিধান সংশোধন করা হয়েছিল। কিন্তু আজকে এই ক্ষমতাসীন দল তাদের ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করার জন্যে কেয়ার টেকার সরকার বাতিল করেছে।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অনৈক্যের সৃষ্টি হলে স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠিত হয়। আসুন আমরা দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে বর্তমান নৈশকালীন এই সরকারকের বিরুদ্ধে  জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য এগিয়ে যাই।

জাগপার সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধানের সভাপতিত্বে কাউন্সিলে আরও বক্তব্য দেন, বিএনপির প্রান্তিক জনগোষ্ঠি বিষয়ক সহ-সম্পাদক অর্পণা রায় দাস, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার সরোয়ার হোসেন, এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল, জাগপার সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, জাগপা’র ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আসাদুর রহমান খান, সহ-সভাপতি আবু মোজাফফর মো. আনাছ, মাহবুব আলম মজুমদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. হাসমতউল্লাহ, অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, শেখ জামাল উদ্দিন, জাগপা ঢাকা মহানগর আহবায়ক আরিফ হোসেন ফিরোজ, যুব জাগপা’র সভাপতি আরিফুল হক তুহিন, মহানগর সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবলু, জাগপা মজদুর লীগের সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান তিতাস, জাগপা ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রুবেল প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জাগপার সাংগঠনিক সম্পাদক ইনসান আলম আক্কাস।

কাউন্সিলে ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধানকে পুনরায় দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হলেও বিকাল পর্যন্ত সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়নি।

প্রজন্মনিউজ২৪/রেজাউল

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ