পারিবারিক অভাব অনটনের বলি হয় শিশুর জীবন

প্রকাশিত: ২১ মে, ২০১৮ ০১:২৪:৩৯

পারিবারিক অভাব অনটনের বলি হয় শিশুর জীবন

সিলেটে দিনকে দিন বেড়েই চলেছে শিশু শ্রম।যে বয়সে স্কুল যাওয়া খেলাধুলা করার কথা ছিল সেই বয়েসেই জীবন ও জীবিকার তাগিদে কোমলমতি শিশুরা জড়িয়ে পড়ছে শিশু শ্রমে। ২০১৫ সাল নাগাদ দেশের ঝুকিপূর্ন খাতগুলো থেকে শিশু শ্রম শুন্যে নামিয়ে আনার কথা থাকলেও এখনো তার যাথাযথ বাস্তবায়ন হয় নি,বরং দিন দিন জ্যামিতিক হাড়ে বেড়েই চলছে।কম মজুরি,অতিরিক্ত কায়িক শ্রম ও ঝুকিপূর্ন শ্রম নিয়ে উদ্বেগজনক অবস্তায় আছে সিলেটসহ পুরো বাংলাদেশ।

শিশুশ্রম নিষিদ্ধ হলেও,ঘর থেকে বের হলেই দেখা যায় শিশু শ্রমের করুন চিত্র,আর এর মূল কারন আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকা।সিলেটের দক্ষিন সুরমায় ১০ বছর বয়সের নিচের শিশুরাও ঝুকিপূর্ন কাজে নিয়োজিত।সিলেটের বেশকিছু শিশু শ্রমিকের সাথে কথা বলে যানা যায়,মুলত পারবারিক অভাব অনটনের কারনেই তারা কাজ করে থাকে। দক্ষিন সুরমায় ১২ বছরের এক শিশুর নাম মারফ।মারুফের বাড়ি গোলাপগঞ্জ, সে ২ বছর যাবত একটি লেগুনায় হেলপার হিসেবে কাজ করছে।

আলাপচারিতার এক ফাকে সে জানায়,প্রতিদিন ভোর হলেই চালকের আগেই তাকে পৌছাতে হয় গাড়ির কাছে।তার পর রাত দশটা পর্যন্ত প্রায় ১৫ ঘন্টা তাকে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।বাড়িতে ফেরার সময় পকেটে করে ৩৫০-৪০০ টাকা আনতে পারে।মারুফের মত একই ভাবে হয়তো সারাদিন হেলপারের দায়িত্ব শেষে বাড়ি ফেরে অনেক শিশু।অনুসন্ধানে দেখা গেছে,সিলেট নগরীতে দশ থেকে পনের বয়সের শিশুরাই অধিক ঝুকিপূর্ন কাজে নিয়োজিত।যার মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য, ওয়েন্ডিং,কারখানায় লেদমেশিন,মোটর ওর্কশপের মেকানিক,নির্মাণ শ্রমিক,বাস ও লেগুনার হেলপার।সংসারের প্রয়োজনে  শিশুরা ঝূকিপূর্ন কাজেকে গ্রহন করলেও তারা নিজেরাও জানে না তাদের সুন্দর জীবন কতটা কঠিন পথে এগিয়া যাচ্ছে।

পারিবারিক সমস্যা বা বাস্তবতার বলি হয়ে শিশুরা জড়াচ্ছে ঝূকিপূর্ন কাজে,আর মালিকপক্ষ এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কম বেতনে ঝুকিপুর্ন কাজে শিশুদের নিয়োগ দিচ্ছে।দেশে শিশু শ্রম বন্ধ করার জন্য আইন আছে,কিন্তু আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় সারাদেশের মতো সিলেটেও শিশু স্রম সহনীয় মাত্রায় নিয়ে আশা সম্ভব হচ্ছে না।ফলে আইন লংঘনের পাশাপাশি শিশুরা তাদের নাগরিক অধিকার হতেও বঞ্ছিত হচ্ছে।আর এটা শুধু বর্তমান সময়ের জন্য নয়,আগামীর সুন্দর সিলেট গড়ার ক্ষেত্রেও বড় অন্তরায়।

দেশে মোট শিশুর সংখ্যা মোট ৫ কোটি,যার মধ্যে ৯০ শতাংশ শিশু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যায় ঠিকই,তবে মাধ্যমিকের আগেই ঝড়ে পরে প্রায় অর্ধেক।বর্তমানে দেশে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা ১৭ লাখে।পূর্নকালীন শ্রমিক হিসেবে ৫-১৭ বছরের শিশুরাও কাজ করছে।সব মিলিয়ে দেশে প্রায় ৩৫ হাজার শিশু কোন না কোন ভাবে শিশু শ্রমে জড়িত।আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা বাংলাদেশের শিশুশ্রম বিষয়ক এক প্রতিবেদনে বলে,যে শিশুরা শিশুশ্রমে নিয়োজিত তাদের বড় অংশ স্কুল শিক্ষার বাইরে রয়ে গেছে।

দেশে ৫-১৭ বয়সের মধ্যে যা শিশুরা ১ ঘন্টার বেশি কাজে নিয়োজিত তাদের সংখ্যা ৩৪ লক্ষ ৫০ হাজার,এর মধ্যে ১৭ লাখ শিশু শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে।তারা তাদের প্রতিবেদনে আর উল্লেখ্য করে ,বাংলাদেশে সব মিলিয়ে ১২ লাখ ৮০ হাজার শিশু ঝুকিপূর্ন কাজে নিয়োজিত।শুধু তাই নয়, ২ লাখ ৬০ হাজার শিশু অপেক্ষিত বেশি ঝুকিপূর্ন কাজে নিয়জিত।

প্রজন্ম নিউজ২৪/সাকিল আহমেদ

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ