শেষ পর্ব

যৌথ পরিবার ভেঙ্গে একক পরিবার সৃষ্টি

প্রকাশিত: ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ১২:৫১:০৬ || পরিবর্তিত: ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ১২:৫১:০৬

যৌথ পরিবার ভেঙ্গে একক পরিবার সৃষ্টি

দাদা,দাদী,স্বামী-স্ত্রী,ভাই-বোন,ছেলে-মেয়ে,নাতি,নাতনীনদের নিয়ে পরিপূর্ণ আনন্দ,ভালোবাসা,সৌহার্দ, সম্মান, আর শ্রদ্ধা নিয়ে গঠিত যৌথ পরিবার। বর্তমান সমাজে যৌথ পরিবার নেই বললেই চলে।

যৌথ পরিবার ভেঙ্গে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ কিছু কারণ যেমনঃ

১) সীমিত অর্থনৈতিক যোগানদাতাঃ একটি যৌথ পরিবার অনেকগুলো মানুষের সমন্বয় নিয়ে থাকে,যার লোক সংখ্যা ২৫ থেকে ৩০ জন অথবা তার উর্ধ্বে থাকলেও অনেক যৌথ পরিবারে অর্থনৈতিক যোগানদাতা মাত্র ২ থেকে ৪ জন থাকেন আবার তাদের আয়ের পরিমাণও সমান না। এ অবস্থায় যৌথ পরিবারে থেকে পরিবার চালনা অত্যান্ত কষ্টসসাধ্য হয় এমনকি তারা নিজের এবং নিজের স্ত্রী সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই যৌথ পরিবার ভেঙ্গে মা,বাবা দাদা,দাদী অন্যান্য সদস্যদের ছেড়ে একক পরিবার গঠনের চিন্তা করেন।

২) ব্যক্তি স্বার্থপরতাঃ যৌথ পরিবারের অর্থনৈতিক যোগানদাতা ব্যক্তিগণ অনেক সময় সবার সাথে মিলেমিশে যৌথ সম্পত্তি গড়ে তোলার পাশাপাশি,যৌথ পরিবারের সদস্যদের অজান্তে নিজের,নিজের স্ত্রী অথবা সন্তানের নামে আলাদা সম্পত্তি গড়ে তুলেন।পরবর্তীতে তা পরিবারের অন্যান্য সদস্যগণের মধ্যে জানাজানি হলে ঝগড়ার হয় আর যৌথ পরিবার ভেঙ্গে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়।

৩) কর্মজীবীদের সংখ্যা বৃদ্ধিঃ পরিবারের কর্মজীবী সদস্যদের সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে কর্মজীবী সদস্যগণ চাকুরীর সুবাদে দীর্ঘদিন তাদের যৌথ পরিবারের বাহিরে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকতে হয়। ফলশ্রুতিতে এক সময় তাদের মধ্যে যৌথ পরিবারে থাকার আগ্রহ কমে যায় বা তাদের সন্তানাদি মা বাবার সাথে একক পরিবারে থাকতে অভ্যস্ত থাকায় তারা আর যৌথ পরিবারে ফিরে আসতে চায় না। এমনকি তাদের মধ্যে একটি স্বাধীনচেতা মনোভাব সৃষ্টি হয় তখন তারা তাদের পরিবারের কর্তাব্যক্তির বিভিন্ন সিন্ধান্ত মানতেও নারাজ। ফলে যৌথ পরিবার ভেঙ্গে যেতে থাকে।

৪)ব্যক্তিগত আধিপত্য বিস্তারঃ বর্তমান সমাজে যৌথ পরিবার ভেঙ্গে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো ব্যক্তিগত আধিপত্য বিস্তার। পরিবারের প্রত্যেক ব্যক্তি চান পরিবারের সকল সদস্যকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে। মাতা পিতার আনুগত্য সম্পর্কে মহাগ্রন্থ আল-কোরঅানের সূরা পবিত্র কোরআনের সূরা বনি

ইসরাইলের ২৩ ও ২৪ নং আয়াতে বলা হয়েছে তোমার পালনকর্তা আদেশ করেছেন যে, তাকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করো না এবং পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করো। তাদের মধ্যে কেউ অথবা উভয়েই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তাদেরকে উহ্ শব্দটিও বলো না, তাদেরকে ধমক দিও না এবং তাদের সঙ্গে শিষ্টাচারপূর্ণ কথা বলো। তাদের সামনে ভালোবাসার সঙ্গে, নম্রভাবে মাথা নত করে দাও এবং বলো- হে প্রভু, তাদের উভয়ের প্রতি রহম করো, যেমন তারা আমাকে শৈশবকালে লালন-পালন করেছেন।

এমনকি সূরা লোকমানের ১৪ নং আয়াতে বলা হয়েছে "আর আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছি। তার মাতা তাকে কষ্টের পর কষ্ট স্বীকার করে গর্ভে ধারণ করেছে। তার দুধ ছাড়ানো হয় দু’বছরে। নির্দেশ দিয়েছি যে, আমার প্রতি ও তোমার পিতা-মাতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। অবশেষে আমারই নিকট ফিরে আসতে হবে।

আল্লাহতালা পিতা-মাতার আনুগত্য ও তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করার নির্দেশ দিলেও অনেক সন্তান পিতা মাতার আনুগত্য করেনা। অন্যদিকে সন্তানের স্ত্রীও চান তার স্বামী তার কথা শুনুক, তাকে সবার চেয়ে মূল্যায়ন করুক। আর এই বিষয় নিয়ে পিতা-মাতা ভাই,বোনদের মাঝে পারিবারিক দ্বন্দ্ব দেখা দেয়,ফলে অনেক ছেলে নিজের স্ত্রী সন্তান নিয়ে একক পরিবার গঠনের চিন্তা করেন।

আশরাফুজ্জামান রিশাদ

লেখক ও সংগঠক

প্রজন্মনিউজ/জাকির/সাইফুল্লাহ 

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন