নারী পুরুষের পোশাক সৌন্দর্য্য
পোষাক আর মানুষ, একটা আরেকটার সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত। মানুষ বলতেই সে নিজেকে পোশাকে আচ্ছাদিত করে রাখে। আর রাখতেও হয় । কারণ, এর দ্বারা মানুষের সম্ভ্রম ঢেকে রাখা হয়। এবং তা পরিধানের মাধ্যমেই মানুষ নিজেদের মাঝে আর ভিন্ন অন্যান্য প্রাণীর মাঝে লজ্জা নিবারণের বিষয়টি নির্ণয় করে থাকে। ঠিক তেমনি ভাবেই মানুষের মাঝেও পোষাক পরিধানে তার মনস্তাত্বিক অভিরুচি পরিস্ফুটিত হয়।
মানুষ স্বভাবতই নিজেকে সুন্দর, পরিপাটি, আর গুছিয়ে রাখতে পছন্দ করে। সুন্দর পোষাকে প্রতিটি মানুষই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে । একটি সুন্দর শালিন পোশাক, মানুষকে দৃশ্যত সত্যি’ই আরো সুন্দর ও মুগ্ধ করে তোলে। ইসলাম হচ্ছে, চিরকালের আধুনিক। তার আধুনিকতা সার্বজনীন এর সৌন্দর্যের আবেশ ছড়িয়ে আছে পৃথিবী থেকে শুরু করে মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে।
তাই মানব জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটা জিনিস “সে পোশাকেও রয়েছে ইসলামের সৌন্দর্য্য’’ ও আধুনিকতা। আজকাল সমাজের অনেকাংশেই আধুনিক পোশাকের নামে যে সকল উদ্ভট ও উৎকট পোশাক পরিধান করে অবশ্যই তা শালীনতাবোধের আওতাধীন নয়। ছেড়া প্যান্ট, ফাঁটা গেঞ্জি, বুক পিঠ দেখানো বিজাতীয় কালচারের লেডিস জামা কাপড়, কোন প্রকারের শালীনতা আর ভদ্র পোশাকের অর্ন্তভ‚ক্ত এটা !
খোঁজ করেও পাওয়া যায় না। ইসলাম কখনোই কোন প্রকার প্রান্তিকতার দিকে আহবান করে না বরং এর ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবহারই সবকিছুর মৌলিক মানদন্ড। আর এ পোষাকের বেলায়ও ইসলাম তার সৌন্দর্য ও সঠিকতার মানদন্ড বর্ণনা করে দিয়েছে। বর্তমান সমাজে আধুনিকতার ভেলকি উড়িয়ে যে সকল পোষাকের ভীড়ে মানুষ নিজের সোন্দর্য বৃদ্ধির ইচ্ছায় ব্যস্ত! যেমন, ছেলেরা মেয়েদের মতো স্টাইলিশ চুল রেখে তার সাথে ম্যাচিং করে পোষাক পড়ে।
আবার ওদিকে ছেলেরাও মেয়েদের মতো পার্লারে গিয়ে নারীর ভ‚ষন যে চুল ওটার বলিদান দেয় হাজার টাকা খরচ করে। বাহ! নামে মাত্র আধুনিকতা শুদ্ধ চিন্তার শক্তিকে কতোটা অকেজো করেছে। এটা তো গেলো চুলের বেহাল দশার কথা। মূল আলোচনার বিষয় যে পোশাক, এখানে তো আলোচনার দুয়ার বন্ধ রাখাই উচিৎ! কারণ, দেখা যাচ্ছে আধুনিক মনা প্রত্যেকটা ছেলে মেয়ে নিজ বিপরীত লিঙ্গের পোশাকে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে।
এ ক্ষেত্রে মেয়েদের যে ছেলেদের মতন পোষাকে, চলনে, বলনে এটা অনেকটা হতাশা ও দুঃখজনক। কারণ, তাদের ছেলেদের মতো আঁটসাঁট স্কীন প্যান্ট আর শার্ট, গেঞ্জি, টিশার্ট অবশ্যই তাদের শরীরের বিভিন্ন রেখাগুলো ফুটিয়ে তুলে। যে কারণে সামাজিকভাবে বিভিন্ন সময়ে অসামাজিক কর্মকান্ড দ্বারা সমাজ কলুষিত হয়। আর তাদের এ সমস্ত নাম মাত্র আধুনিক পোশাক পরিচ্ছেদ তা কি আসলেই কোন সুস্থ রুচিসম্পন্ন অভিজাত পোশাকের পরিচায়ক?
এর উত্তরটা ভেবে দেখার কোন প্রয়োজন নেই। অথচ নারী পুরুষ একে অপরের মতো হওয়ার আকাঙ্খা পোশাক যারা করে, তাদের ব্যাপারে রাসুল সা. অভিসম্পাত করেছেন। এ ক্ষেত্রে আমরা রাসুলের হাদীসে দেখতে পাই তিনি বলেন, হাদিস শরিফে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অভিসম্পাত করেছেন ঐ পুরুষকে যে মহিলার পোশাক পরে এবং ঐ মহিলাকে যে পুরুষের পোশাক পরে। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪০৯৮; মুসনাদে আহমদ, ২/৩২৫)
সুতরাং! চির আধুনিক যে আমাদের ধর্ম ইসলাম সেখানেও পোশাকের সৌন্দর্যের কথা বলে দেয়া হয়েছে। যেমন, একজন পুরুষের পোশাকের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হলো, ক. তার পোশাক নারীর পোশাক বা তার পোশাকের মতো না হওয়া’; খ. সৌন্দর্য বর্ধনের নিমিত্তে অনেক পুরুষই রেশমি কাপড় পরিধান করে। অথচ রেশমি কাপড় পরিধান না করা। কারণ, রেশমের কাপড় পরিধান করা পুরুষের জন্য হারাম।
গ. কুসুম রং কিংবা গাঢ় লাল রং না হওয়া। আর তা ছাড়া স্বাভাবিক ভাবেই এ রং দুটো পুরুষের সঙ্গে কেমন যেন মানায়ও না। সৌন্দর্যরূপ দেয়া দূরের কথা।
নারীর পোশাকের কিছু স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য:
ক. তার পোষাক অবশ্যই পুরুষের পোষাক অথবা পুরুষের পোষাক সদৃশ কোন পোষাক না হওয়া। কেননা হাদিসে এসেছে, ‘তিন শ্রেণির লোক জান্নাতে প্রবেশ করবে না। প্রথমজন ঐ মহিলা, যে পুরুষের সাদৃশ্য গ্রহণ করে।’ আমরা জানি, নারীর জন্য পুরুষের মতো পোশাক পরিধান করা সম্পূর্ণ হারাম। কিন্তু আজকাল এটি ব্যাপক থেকে ব্যাপকতর হচ্ছে। মেয়েরাও প্যান্ট-শার্ট পরছে।
হাদিস শরিফে আরো এসেছে, দুই শ্রেণির লোক জাহান্নামি। ১. ঐ সকল নারী, যারা কাপড় পরিধান করা সত্তে¡ও বিবস্ত্র থাকে তারা জান্নাতে যেতে পারবে না। এমনকি জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না। (সহিহ মুসলিম, হাদিস ২১২৮) অথচ আজকাল নারীদের অর্ধনগ্ন পোষাকের প্রদর্শনী হয় যত্রতত্র। তারা নিজেরাও এ প্রদর্শনে যথেষ্ঠ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। খ. এমন কোন পোষাক পরিধান না করা যা দ্বারা তার শরীর ও বিভিন্ন অঙ্গের ভাঁজ ও অবয়ব ফুটে না ওঠে গ. পুরো শরীর ঢাকা হয় এমন পোশাক হওয়া।