ওরছ পাক-এ-শাহ্চন্দ্রপুরী

শাহ্ চন্দ্রপুরীর ওরছ ১৬ জানুয়ারী

প্রকাশিত: ০৩ জানুয়ারী, ২০১৯ ১১:৪৪:২৯ || পরিবর্তিত: ০৩ জানুয়ারী, ২০১৯ ১১:৪৪:২৯

সাইফুল ইমসলাম মাসুম, স্টাফ রিপোর্টার : ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার চন্দ্রপাড়া পাক দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা জামানার মোজাদ্দেদ হযরত মাওলানা শাহ্ সূফী সৈয়দ আবুল ফজল সুলতান আহম্মদ নকশবন্দী মোজাদ্দেদী (রহঃ) পীর কেবলাজান শাহ্ চন্দ্রপুরীর বার্ষিক ওরছ দরবার শরীফে ১৬ জানুয়ারী অনুষ্ঠিত হবে।

দরবার শরীফ সুত্রে জানা গেছে, ওরছ চলাকালীন ২ দিন ব্যাপী পবিত্র কোরআন থেকে তর্জমা, মিলাদ-মাহফিল, বিশেষ মোনাজাত, মুসলিম উম্মার সুখ-শান্তি ও উত্তর-উত্তর সাফল্য কামনা করা হবে। এ সময় গদীনসীন পীর শাহ্ সূফী সৈয়দ কামরুজ্জামান মোজাদ্দেদী (রহঃ) উপস্থিত জাকেরান মুরিদানদের অসিয়ত-নসিয়ত ও তরীকত সম্পর্কে বিশেষ নির্দেশনা দিবেন।

দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পীরের কয়েকলাখ মুরিদান, আশেকান ও জাকেরান ওরছে যোগদান করবেন। এ উপলক্ষ্যে বিভিন্ন জেলা-উপজেলার খানকা শরীফ গুলোতে কাফেলা যোগে ওরছে শরীক হওয়ার আয়োজন করা হচ্ছে।

জেনেনিন চন্দ্রপুরী (রহঃ) এর একটি সত্য ঘঠনা!!

শাহ চন্দ্রপুরী (রহঃ) এর নামের খাতিরে মুক্তি যার সাথে ঘটনা টা ঘটেছিল তাহার ভাষায় বলছি..

ঘটনা টা ঘটে প্রায় দুই থেকে আড়াই বছর আগে আমরা তিন বোন, এক ভাই, পরিবারের বড় মেয়ে আমি আমার বাবা মা এবং ছোট ভাই চন্দ্রপাড়া দরবার শরিফের মুরীদ আমি এবং আমার ছোট দুই বোন এখনো তরিকা  নেই  , তবে আমার বাবা এবং ছোট ভাইয়ের মুখে চন্দ্রপাড়া হুজুরের অনেক ইতিহাস এবং ভক্তি মুলক কথা শুনে আমি ও তাকে  খুব ভক্তি করি!

আজ থেকে প্রায় বছর দুই এক আগে আমার স্বামী মারা যান, তার চল্লিশ দিনের খরচ শেষ করে আমি, আমার মেয়ে, এবং  ছোট বোনকে নিয়ে বরিশাল থেকে রাতের লঞ্চে করে ঢাকার উদ্যশ্য রওনা হই,  তৎ কালিন সময় ছিল ভরা বর্ষা তাই নদীতে প্রবল স্রোত থাকায় মাঝে মধ্য ঝর আবার শান্ত অবস্থা দেখা যেত নদী..

আমরা যখন আমাদের লঞ্চ ঘাট হতে লঞ্চে উঠি, তখন বিকেল পাচ টা বাজে। এ ঘাট, ও ঘাট করতে করতে যখন রাত ১০ টা বেজে যায়, তখন আমরা ঘুমিয়ে পড়ি ঘুমের মধ্যে হঠাৎ করে শুনতে পাই, লঞ্চের লোকেরা হাউ মাউ করে কান্না কাটি করছে! ঘুম থেকে উঠে দেখি লোক জন যার যার টাকা পয়সা মহিলাদের সর্ন অলংকার সব কিছু পদ্মা নদীর মাঝে ঢেলে দিচ্ছে, আর কান্নার ঢল নেমে পরছে লঞ্চের সকলের মাঝে! আমি বুঝতে পারলাম যে আমরা পদ্মার ঝরের কবলে পরেছি আর রক্ষা নেই আমাদের, আমি না হয় বিধবা, আমার জীবনের কোন মুল্য নেই! কিন্তু আমার ছোট মেয়ে, ওর জীবন কেবল শুরু,, আমার ছোট বোন,, কী অবস্থা হবে আমার বাবা মায়ের,, এই ভাবতে ভাবতে চোখের জল আর থামছে না! এর ই মধ্য হুট করে এক স্রোতে লঞ্চের ভীতরে পানি এসে আমারি চোখের সামনে আমাদের পাশের বিছানার এক মহিলার এক বছরের বাচ্চা কে ধেউয়ের সাথে ধসে নদীতে নিয়ে যায়! অমনি সেই মহিলা গ্যান হারিয়ে ফেলে..

এমন করুন অবস্থা দেখে আমি আমার ওর্না, আমার মেয়ের ওর্না, এবং আমার ছোট বোনের ওর্না এক সাথে বেধে, তিন জনের কোমর এক সাথে বেধে ফেলি..

যাতে করে আমরা যদি মারা যাই, তবে আমদের তিন জনের লাশ যেন এক সাথেই পাওয়া যায়! হঠাৎ করে আরেক টা ঢেউ লঞ্চের ভীতরে ঢুকে পড়ে এতে করে লঞ্চের ভীতরে আমাদের হাটু সমান পানি হয়ে যায়! লঞ্চের সবাই এক জন আরেক জন কে জড়িয়ে ধরে হাউ মাউ করে কান্না কাটি করতে থাকে, মনে হচ্ছিল এটাই বুঝি কেয়ামত! আমাদের এই করুন অবস্থায় আমার ছোট বোন হাউ মাউ করে কাদছে আর আমায় বলছে, বড় আপা,,? আব্বা আর ভাইয়া না বলছিল, কঠিন বিপদে পরে যদি চন্দ্রপাড়ার হুজুর কে উছিলা করে আল্লাহর কাছে দয়া ভীক্ষা চাওয়া হয়, তবে নাকি আল্লাহ পাক চন্দ্রপুরীর উছিলায় সেই বিপদ থেকে রক্ষা করে দেন..

আমরা ও তো আজ কঠিন বিপদে পরেছি আমরা ডাকলে কী চন্দ্রপুরী আমাদের ডাকে শারা দিবে না।? আমি ছোট বোন কে বল্লাম অবশ্য ই চন্দ্রপুরী আমাদের ডাকে শারা দিবেন!  এই বলে আমি হাউ মাউ করে কাদতে কাদতে বলি, দয়াল বাবা চন্দ্রপুরী, আমার বাবা আর ভাইয়ের মুখে শুনেছি তুমি নাকি দয়ার সাগর, তোমার দয়ার সীমা নাই,, তোমার ঐ দয়াল  নামের খাতিরে

আমাদের কে এই কঠিন বিপদ থেকে উদ্ধার করো, আমাদের ক্ষমা করো! এমনি করে কাকুতি মিনতি করতে করতে কখন যে ঝর থেমে গেল, তা নিজেও টের পেলাম না! যখন নদী শান্ত হলো, তখন লঞ্চের ভীতরে থাকা সকল যাত্রী আমাদের সামনে এসে ভীর জমায়, এবং বলে..

চন্দ্রপুরী পীর কেবলা জানের বাড়ি কোথায়।? আমার ছোট বোন তাদের কে বলে ফরিদ পুর জেলার, সদর পুর থানা চন্দ্রপাড়া পাক দরবার শরিফে তার বাড়ি! এর পর লঞ্চের অনেক যাত্রী বলে ওঠে আল্লাহ পাক যদি বাচিয়ে রাখেন এক দিন সেই মহা মনবের দরবার শরিফে যাবো তাকে এবং তার দরবার শরিফ কে উপলদ্ধি করার জন্য,সত্যি তিনি হচ্ছেন কামেল পীর, যার দয়ার সীমা নাই! এর পর সকালে আমাদের লঞ্চ ঢাকা এসে পৌছায়, ঐ রাতে আমাদের লঞ্চে মোট ১২ হতে ১৩ জন যাত্রী নিহত হন!

চন্দ্রপুরী দয়াল বাবা জানের দয়ায় আজ ও আমরা বেচে আছি! আমাদের সকল কে তার দয়ার নজরে রেখেছেন তাই তার  চরনে জানাই হাজার সালাম!!!

প্রজন্মনিউজ২৪/সাইফুল

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন