ময়মনসিংহে দেশের সর্ববৃহৎ সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প

প্রকাশিত: ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ১২:২০:৫৮

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:  প্রায় আটশত কোটি টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের যৌথ উদ্যোগে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলাধীন সুতিয়াখালীতে ব্রহ্মপুত্র নদের তীর ঘেঁষে দেশের সর্ববৃহৎ ৫০ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের ৮৫% কাজ প্রায় শেষ হওয়ার পথে। চলতি বছরের জুন মাসে এ প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করার আশা ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই প্রকল্পে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পর তা ময়মনসিংহ শহরের কেওয়াটখালী জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের বিদ্যুৎ সেক্টরে নতুন মাত্রা যুক্ত হবে। বৃহত্তর ময়মনসিংহবাসী এর সুফল পাবেন। স্থানীয় ভাবে প্রায় তিনশত লোকের কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারের বার্ষিক পরিকল্পনার আওতায় নবায়ন যোগ্য জ্বালানী বিশেষ করে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে ময়মনসিংহের সুতিয়াখালীতে ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের কাজ শুরু হয় ২০১৭ সালে। বাংলাদেশ মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের যৌথ প্রতিষ্ঠান এইচ.ডি.এফ.সি সিনপাওয়ার লি: প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কাজ শুরু করে। প্রকল্পের তদারকিতে রয়েছে বাংলাদেশ সরকার। বর্তমানে প্রকল্পের ৮৫ ভাগ কাজই শেষ। আগামী জুন মাসের মাঝে প্রকল্পের পুরো কাজ শেষ করার কথা। কিন্তু এর আগেই এর কাজ শেষ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

এখানে উৎপাদিত ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে ময়মনসিংহ শহরের কেওয়াটখালীস্থ জাতীয় গ্রিডে। প্রকল্প স্থান থেকে জাতীয় গ্রিডের দূরত্ব প্রায় ৫ কিলোমিটার। ৫ কিলোমিটার ট্রান্সমিশন লাইন এর ১ কিলোমিটার যাবে টাওয়ারের মাধ্যমে। বাকী ৪ কিলোমিটার যাবে মাটির নীচ দিয়ে। ট্রান্সমিশন লাইন নির্মাণের কাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে। প্রকল্প স্থানে স্থানীয় প্রকৌশলীদের সাথে যুক্ত আছেন বিদেশী প্রকৌশলীরাও। ভবিষ্যতে প্রয়োজনে প্রকল্পের মাধ্যমে আরও বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগও রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

প্রকল্পটির কারণে সুতিয়া খালীর ঐ এলাকায় আর্থ সামাজিক পরিবর্তনেরও সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। বেড়ে গেছে জমির দাম। এখানে স্থানীয় লোকজন কাজের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়নের পর তিনশত শ্রমিকের স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। প্রকল্পটিকে ঘিরে এলাকাতে ব্যবসা বাণিজ্যেরও প্রসার ঘটবে। ময়মনসিংহ শহর তলীর এ এলাকাটি ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিণত হবে বলেও অনেকে ধারণা করছে।

প্রজন্মনিউজ২৪/আাশরাফুল/রেজাউল

 

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন





ব্রেকিং নিউজ