আদালতের রায়: ইদ্রিস আলীর ফাঁসি

প্রকাশিত: ০৫ ডিসেম্বর, ২০১৬ ০২:১৬:৩৩

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে পলাতক ইদ্রিস আলী সরদারকে (৬৭) মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

আজ সোমবার ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. শাহীনুর ইসলাম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ারদী।

১. ১৯৭১ সালের ২২ মে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দোসর হয়ে শরীয়তপুরের পালং থানা এলাকায় কয়েকটি গ্রামে হামলা চালিয়ে আবদুস সামাদ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের ২০০ লোককে গুলি করে হত্যা এবং মালামাল লুট করেন ইদ্রিস আলী। এ অপরাধে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে তাকে ফাঁসির রায় দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। বিচারপতি আনোয়ারুল হক ও বিচারপতি মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিলেও দ্বিমত পোষণ করেন বিচারপতি মো. সোহরাওয়ারদী।
২. ১৯৭১ সালের ২৬ মে পালং থানার মালোপাড়া ও রুদ্রকর গ্রামে হামলা চালিয়ে পুরোহিতদের গুলি করে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। লুটপাট করে গ্রামগুলো জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া ৩০ থেকে ৪৫ নারীকে ধরে নিয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ধর্ষণ করে ছেড়ে দেয় এবং পুরুষদের গুলি চালিয়ে হত্যা করে। এসব অপরাধে পাকিস্তানিদের সহযোগিতা করেন ইদ্রিস আলী। সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে এ অপরাধে ফাঁসির রায় দেওয়া হয়। বিচারপতি আনোয়ারুল হক ও বিচারপতি শাহীনুর ইসলাম ফাঁসির রায় দেন এবং বিচারপতি মো. সোহরাওয়ারদী দ্বিমত পোষণ করেন।

৩. ১৯৭১ সালের ২৬ জুন পালং থানার শৈলেন্দ্র কৃষ্ণপালের বাড়িতে হামলা চালিয়ে দুজনকে হত্যা এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন করা হয়। এতে পাকিস্তানের সেনাদের সহায়তা করেন ইদ্রিস আলী। এ অপরাধে তিন বিচারপতি ঐকমত্যের ভিত্তিতে তাঁকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন।

৪. ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত পালং থানায় পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী হয়ে মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে গ্রামছাড়া করেন ইদ্রিস। প্রায় দেড় হাজার মানুষকে দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়। তারা পার্শ্ববর্তী দেশে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নেয়। এ ছাড়া ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণের অপরাধের পাওয়া গেছে। ঐকমত্যের ভিত্তিতে এ অপরাধে সাত বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

প্রজন্মনিউজ২৪/মোমেন

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন