তরুণরাই বাংলাদেশের জঙ্গিবাদমুক্ত করবে : মোস্তফা কামাল

প্রকাশিত: ২৩ জানুয়ারী, ২০২০ ০৬:৫৯:১৯

আগামীতে তরুণরাই বাংলাদেশেকে পুরোপুরি জঙ্গিবাদমুক্ত করতে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন কালের কণ্ঠের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক মোস্তফা কামাল।রাজধানীর বনানীর সাউথ এশিয়া ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, তরুণরা একটি রাষ্ট্রের শক্তি। দেশের প্রয়োজনে অনেক কঠিন কাজও করে ফেলেন তারা। বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের তরুণ সমাজের যোগ্যতা-দক্ষতা আজ দৃশ্যমান। আগামীতে তরুণরাই এদেশকে পুরোপুরি জঙ্গিবাদমুক্ত করতে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের নিয়মিত জঙ্গিবাদবিরোধী কার্যক্রমের এবারের সেমিনারটি আয়োজন করা হয়েছিল রাজধানীর বনানীর ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়ায়। ‘জাগো তারুণ্য রুখো জঙ্গিবাদ’ শিরোনামের এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে মোস্তফা কামাল এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন লক্ষীপুর-৪ আসনের সাংসদ মেজর (অব.) আব্দুল মান্নান এমপি ও চলচ্চিত্র অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতি।

অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্যে মেজর (অব.) আব্দুল মান্নান বলেন, হিন্দু মৌলবাদ এবং মুসলিম মৌলবাদের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। ধর্মকে পুঁজি করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তারা জঙ্গিবাদের বিস্তার ঘটায়। বাংলাদেশের ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলো জঙ্গিবাদের উষ্কানিদাতা। ইসলামে জঙ্গিবাদের কোনো সুযোগ নেই। ইসলামের যে শান্তি ও শীতলতা, মানবিকতা ও ঔদার্য্য তাতে আকৃষ্ট হয়ে আমাদের পূর্ব-পুরুষেরা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। কোনো ধরনের জঙ্গিবাদের সুযোগ সেখানে ছিল না।

তিনি বলেন, আমাদের নবীজী (সা.) এর মদিনা সনদের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, সেখানে অন্য ধর্মের মানুষ কত নিরাপদ ছিল। আজকে কারা ধর্মীয় উগ্রবাদ তৈরি করতে চাচ্ছে তা তরুণদের বুঝতে হবে। পাশাপাশি জঙ্গিবাদকে রুখতে হবে তরুণদেরই।

তিনি আরো বলেন, আমাদের দেশে জঙ্গিবাদ চাড়া দিয়ে ওঠার আগেই জননেত্রী শেখ হাসিনার সাহসী পদক্ষেপের কারণে আজ বাংলাদেশ জঙ্গিবাদের ভয়ংঙ্কর থাবা থেকে রক্ষা পেয়েছে। এই জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই। সময়টা খুবই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছিল, শেখ হাসিনার জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টরারেন্স নীতি এই জাতিকে রক্ষা করেছে। কিন্তু আমাদের সচেতন থাকতে হবে সব সময়।

কালের কণ্ঠের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক মোস্তফা কামাল বলেন, বাংলাদেশের মাটি জঙ্গিবাদের জন্য উর্বর নয়। এদেশে সকল ধর্মের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি আমরা ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি। বাংলাদেশ একটি মানবিক রাষ্ট্র। এই রাষ্ট্রে জঙ্গিবাদের স্থান কোনো দিন হবে না। কিন্তু আন্তর্জাতিক শক্তি বসে নেই। তারা চায় ইসলামিক দেশগুলোকে জঙ্গিবাদের আখড়ায় পরিণত করতে; তাতে তাদের অর্থ ও সাম্রাজ্য বিস্তারের সুযোগ রয়েছে।

অনুষ্ঠানের প্রায় শেষে এসে যোগ দেন চলচ্চিত্র অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতি। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমি বিশ্বাস করি সকল ধর্মে মানবতাবাদের কথা বলা হয়েছে। লোভ ও হিংসা থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে সব ধর্মেই। তাহলে সহজেই বোঝা যায়, ধর্মকে ব্যবহার করে যারা ক্ষমতা দখলের ষড়যন্ত্র করে, মানুষ হত্যা করতে উষ্কে দেয়; তারা আর যাই হোক কোনভাবেই ধার্মিক নয়।

অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক এম. দিলদার হোসেন। তিনি শিক্ষার্থীদের ধর্ম সম্পর্কে জানার পরার্মশ এবং একাডেমিক পড়াশুনার পাশাপাশি ধর্ম ও সাহিত্য চর্চায় আগ্রহী হতে বলেন। প্রত্যেকের জায়গা থেকে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানে থাকার পরামর্শ দেন তিনি। এই আয়োজনের সুচিন্তা ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ জানিয়ে তার বক্তব্য শেষ করেন।

সুচিন্তা’র গবেষণা সেলের পক্ষ থেকে আশরাফুল আলম শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন উত্তরের মাধ্যমে ইসলাম ধর্মে জঙ্গিবাদ সমর্থন-অসমর্থন বিষয়ে মতবিনিময় করেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আজ সারাবেলা’র সম্পাদক জববার হোসেন।

প্রজন্মনিউজ২৪/নাজিম উদ্দীন

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন