নির্বাচন সুষ্ঠু হলে বিএনপির প্রার্থীরা বিপুল ভোটে জয়ী হবে : রিজভী

প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারী, ২০২০ ০৫:৩৮:১০

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, 'ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে বিএনপি সমর্থিত দুই মেয়র প্রার্থীসহ কাউন্সিলর প্রার্থীরা বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে। তাই নির্বাচন কমিশনের (ইসি) উদ্দেশে বলতে চাই, ইভিএম পদ্ধতি বাতিল করতে হবে, ভোটারদেরকে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার তথা ভোট প্রদানের সুযোগ দিতে হবে।

সরকারদলীয় প্রার্থী-সমর্থকদের হুমকি-ধমকি বন্ধ করতে হবে। ৩০ ডিসেম্বরের আগের রাতে ভোট ডাকাতির ব্যবস্থা আবারও ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পুনরাবৃত্তি হলে জনগণ আপনাদেরকে কোনদিনই ক্ষমা করবে না।'সোমবার (১৩ জানুয়ারি) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়রপ্রার্থী ইশরাক হোসেনের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।এদিন রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের কফি হাউজের সামনে থেকে হাতিরপুল বাজার ও কাঁচাবাজার এলাকায় লিফলেট বিতরণ করেন রিজভী। এলাকার নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝে লিফলেট বিতরণ করেন।

এ সময় দলের নেতাকর্মীরা রিজভীর সঙ্গে ছিলেন।রিজভী বলেন, 'হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিএনপি ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। দেশে গণতন্ত্রের ছিটেফোঁটাও অবশিষ্ট নেই, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস, নির্বাচন কমিশন সরকারের হুকুমের দাস। আর আইন শৃঙ্খলার চরম অবনতিতে মানুষ সবসময় আতঙ্ক ও ভীতির মধ্যে দিনযাপন করছে।

মানুষের কথা বলার অধিকার, বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর রাজনৈতিক অধিকার অপহৃত হওয়ার কারণে মানুষকে ডানে-বায়ে কেউ কথা শুনে ফেলার ভয়ে সবসময় আতঙ্কিত থাকতে হয়।'তিনি বলেন, 'আওয়ামী লীগ দেশের ভোটারদের প্রতিপক্ষ ভাবে বলেই ভোট ডাকাতির মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে বর্তমান অবৈধ শাসকগোষ্ঠী ভোটারদের ওপর প্রতিশোধ নিতে নানা কায়দায় জুলুম-নির্যাতন অব্যাহত রেখেছে। জাতীয় নির্বাচনের মতো ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও ভোটারদের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে বিভিন্ন নীল-নকশা অনুযায়ী কাজ করছে সরকারের আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন।

রিজভী বলেন, 'ভোটগ্রহণে ইভিএম পদ্ধতি বিশ্বের প্রায় সবদেশেই প্রত্যাখ্যাত, কিন্তু জালিয়াতির মেশিন ইভিএমের মাধ্যমে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটগ্রহণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদাসহ কমিশনের সদস্যদের তোড়জোড় প্রমাণ করে তারা আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে চায়। তার প্রমাণ আজ নির্বাচনী এলাকা চট্টগ্রাম-৮ আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সেখানেও কে এম নুরুল হুদা মার্কা নির্বাচন সকাল থেকে শুরু হয়েছে।

সেখানে ১৭০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে সকাল ১১টার মধ্যে সবগুলো ভোটকেন্দ্র আওয়ামী-ছাত্রলীগ-যুবলীগের ক্যাডাররা দখল করে নিয়েছে এবং ধানের শীষের এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। মোবারক নামে একজন আওয়ামী কাউন্সিলর উক্ত নির্বাচনী এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে।

এটিই হচ্ছে আওয়ামী নির্বাচনের সংস্কৃতি।'তিনি বলেন, 'সুতরাং আগামী ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কী পরিস্থিতি হবে তা নিয়ে জনগণ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।'

প্রজন্মনিউজ২৪/নাজিম উদ্দীন

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ