একই হাসপাতালে এক মাসে ১০০ শিশুর মৃত্যু

প্রকাশিত: ০৩ জানুয়ারী, ২০২০ ১০:০০:২৭

ভারতের রাজস্থানের কোটা এলাকার জে কে লোন হাসপাতালে একের পর এক শিশু মৃত্যুর ঘটনা শিশুমৃত্যুর ঘটনা বেড়েই চলেছে। গত এক মাসে ১ হাসপাতালে অন্তত ১০০ শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ মৃত্যুর নেপথ্যে হাসপাতাল কর্মীদের অবহেলা অন্যতম কারণ এমনটি তদন্তে উঠে এসেছে। জার্মান গণমাধ্যম ডয়েচে ভেলে এক অনলাইন প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত এক মাসে রাজস্থানের কোটার জে কে লোন হাসপাতালে অন্তত ১০০ নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে বুধবারই (১ জানুয়ারি) মৃত্যু হয়েছে ৯টি শিশুর।

তবে কেন এই মৃত্যু? কারও কাছে এর কোনো উত্তর নেই। উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুর জেলায় ২০১৭ সালে ঠিক এভাবেই কিছু দিনের মধ্যে মৃত্যু হয়েছিল অসংখ্য শিশুর। আর এটা নিয়ে সে সময় বিস্তর রাজনীতিও শুরু হয়েছিল।জে কে লোন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওজন কম থাকায় এভাবে একের পর এক শিশুর মৃত্যু হচ্ছে। এর পেছনে অন্য কোনো কারণ নেই। তবে প্রশ্ন উঠছে, এক মাসে ১০০টি বাচ্চা স্রেফ ওজন কম থাকার কারণে মারা গেল? একুশ শতকে দাঁড়িয়ে এমনটা কীভাবে হয়?

স্থানীয় মানুষের দাবি, ওই হাসপাতালটি বাসের অযোগ্য৷ প্রকাশ্যে শুকর ঘুরে বেড়ায় হাসপাতালের ভিতর৷ এক একটি খাটে চার-পাঁচজন করে রোগীকে ভর্তি করে নেওয়া হয়৷ রোগীর তুলনায় নার্সের সংখ্যা চোখে পড়ার মতো কম৷ ফলে যে সমস্ত শিশুদের ওখানে ভর্তি করা হয়, তারা ঠিক মতো চিকিৎসা পায় না৷ সে কারণেই একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে৷ অথচ প্রশাসন নীরব৷বিষয়টি নিয়ে রাজনীতিও শুরু হয়ে গিয়েছে যথারীতি৷

বুধবারই বিজেপি সাংসদদের একটি প্রতিনিধি দল দেখতে গিয়েছিল হাসপাতালটি৷ যার মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়৷ ডয়চে ভেলেকে লকেট জানিয়েছেন, ''হাসপাতালটি বাসের অযোগ্য৷ শিশুদের চিকিৎসার অধিকাংশ যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে পড়ে আছে৷ অথচ কারও কোনও ভ্রূক্ষেপ নেই৷ আমরা মৃত শিশুদের পরিবারের সঙ্গেও কথা বলেছি৷ রিপোর্ট তৈরি করে স্বাস্থ্যমন্ত্রককে দেব৷''

যদিও লকেটের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে কংগ্রেস শাসিত রাজস্থান সরকারের স্বাস্থ্য দফতর৷লকেটের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে কংগ্রেস শাসিত রাজস্থান সরকারের স্বাস্থ্য দফতর।রা জস্থানে এখন কংগ্রেসের সরকার। স্বাভাবিকভাবেই বিজেপি সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে চাইছে। ঠিক যেভাবে গোরক্ষপুরের ঘটনায় বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল কংগ্রেস।

নাগরিক সমাজের বক্তব্য, একেকটি করে এমন ঘটনা ঘটে, রাজনীতিকরা তার মধ্যেও ভোট খোঁজেন। কাজের কাজ কিছু হয় না। গোরক্ষপুরের হাসপাতাল যে অবস্থায় ছিল, সেই অবস্থাতেই আছে। ঠিক যেমন থেকে যাবে কোটার সরকারি হাসপাতালটি। এক বছর আগে বিজেপি আমলেও যে অবস্থায় ছিল, এখন কংগ্রেস আমলেও হাসপাতালটি সেই একই অবস্থায় পড়ে আছে।

 প্রজন্মনিউজ২৪/ মামুন

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ