ভুয়া ওয়ারেন্টের সঙ্গে জড়িতদের খোঁজার নির্দেশ

প্রকাশিত: ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০৪:২১:২১

ভুয়া ওয়ারেন্ট কোথা থেকে ইস্যু হয় এবং কারা ইস্যু করে সিআইডিকে তা খোঁজার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

একইসঙ্গে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কৃষি বিভাগের প্রোগ্রাম অফিসার মো. আওলাদ হোসেনের বিরুদ্ধে জারি করা ওয়ারেন্ট ভুয়া কি না তা যাচাই সাপেক্ষে তাকে জামিনে মুক্তি দিতে শেরপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার আওলাদ হোসেনের স্ত্রীর দায়ের করা এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

একইসঙ্গে ভুয়া মামলায় আওলাদ হোসেনের ওয়ারেন্ট জারি করা নিয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাকে অন্য কোনো মামলায় গ্রেপ্তার না দেখাতেও বলেছেন আদালত। আগামী ১৫ জানুয়ারি মো. আওলাদ হোসেনকে হাইকোর্টে হাজির করতে বলা হয়েছে।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন।রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার। এর আগে গতকাল আওলাদ হোসেনকে হাইকোর্টে হাজির করার জন্য নির্দেশনা চেয়ে রিট করেন তার স্ত্রী।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, আওলাদ হোসেন একের পর এক পরোয়ানা মাথায় নিয়ে প্রথমে কক্সবাজার পরে রাজশাহী তারপর বাগেরহাট হয়ে বর্তমানে তিনি শেরপুরের মামলায় কারাগারে আছেন। তার আইনজীবীর দাবি এসব পরোয়ানা জালিয়াতির মাধ্যমে করা।

রিটকারী আইনজীবী এমাদুল হক বশির জানান, প্রথমে এক মামলায় গত ৩০ অক্টোবর আওলাদ হোসেনকে আশুলিয়া থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সেদিন আওলাদকে ঢাকার আদালতে হাজির করা হলে তার জামিন আবেদন করা হয়। আদালত তার নথিপত্র কক্সবাজারের আদালতে পাঠানোর আদেশ দেন। এ নথিপত্র কক্সবাজারের আদালতে পৌঁছার পর আওলাদের জামিন আবেদন করা হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৩ নভেম্বর কক্সবাজার আদালত বলেন, ওই মামলায় আওলাদ নামে কোনো আসামি নেই। গ্রেপ্তারি পরোয়ানাটি এই আদালত থেকে ইস্যু হয়নি। ওই পরোয়ানা সৃজন করা হয়েছে। তাকে মুক্তি দেওয়া হোক। এরপর মুক্তিনামাটা যখন ঢাকা জেলখানায় পৌঁছলো তখন ঢাকা কারাগার বলল, তার বিরুদ্ধে রাজশাহীর একটি মামলা রয়েছে এবং তাকে রাজশাহী পাঠানো হবে। রাজশাহী কোর্টে যখন তার জামিন চাওয়া হলো তখন রাজশাহী কোর্ট বললেন, এই নামে কোনো আসামি নেই এ মামলায়। আওলাদ হোসেনের নামে এই আদালত কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেনি। তখন তাকে মুক্তি দেওয়ার কথা বলার পর কারাগার থেকে জানানো হয়, তার বিরুদ্ধে বাগেরহাটে আরো একটি মামলা আছে। তাই সেখানে তাকে পাঠানো হলো।

১ ডিসেম্বর বাগেরহাট আদালতে জামিন চাইলে আদালত বলেন, আওলাদ হোসেন নামে এ মামলায় কোনো আসামি নেই এবং তার নামে কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এখান থেকে জারি করা হয়নি। ওই দিন বাগেরহাটের আদালত তাকে মুক্তির নির্দেশ দিলেন। যখন তাকে মুক্তির নির্দেশ দিলেন, তখন জেলখানা বলল, তার বিরুদ্ধে শেরপুরে একটা মামলার ওয়ারেন্ট আছে।

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ