ফিলিস্তিন-ইসরাইল: দ্বিরাষ্ট্রনীতিকে সমর্থন যুক্তরাষ্ট্রের

প্রকাশিত: ০৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০৪:৩৭:১৯

ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাত নিরসনে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সেইসঙ্গে দখলকৃত পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণের ব্যাপারে ইসরাইলকে সতর্ক করেছশুক্রবার নতুন একটি প্রস্তাব পাস করে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের সংকট সমাধানে ইতিবাচক এ পদক্ষেপ নিল মার্কিন কংগ্রেসের নিুকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ। তবে প্রস্তাবটিতে ফিলিস্তিনি জমি দখল ও বসতি স্থাপন বন্ধে কোনো বক্তব্য নেই।

ডেমোক্র্যাটদের সমর্থিত এ প্রস্তাব মানতে বাধ্য নয় ইসরাইল। তবে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এটাকে বড় একটি আঘাত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সেই সঙ্গে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর প্রতিও এটা হুশিয়ারি সংকেত।ট্রাম্পের সমর্থনে ফিলিস্তিনের নতুন নতুন এলাকা জবরদখল ও বসতি স্থাপন অব্যাহত রেখেছেন নেতানিয়াহু। এবার পশ্চিম তীরকেও ইসরাইলের অন্তর্ভুক্ত করার হুমকি দিচ্ছেন তিনি।

খবর এএফপির।১৯৭৮ সাল থেকে পশ্চিম তীরে দখলকৃত ভূমিতে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকে অবৈধ অভিহিত করে আসছিল যুক্তরাষ্ট্র। গত মাসে ওই নীতির বদল ঘটায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। ১৮ নভেম্বর পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও জানান, এসব বসতিকে অবৈধ বলে বিবেচনা করবে না ওয়াশিংটন। তবে মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত নিুকক্ষ ট্রাম্প প্রশাসনের ওই নীতিকে সমর্থন করছে না। দ্বিরাষ্ট্রনীতির সমর্থনে কংগ্রেসের প্রথম কোনো প্রস্তাব বিরোধীদের প্রস্তাব সেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ওই প্রস্তাব নিয়ে অনুষ্ঠিত বিতর্কে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা জেমি রাসকিন বলেন, ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে আমেরিকার দুই দলের প্রেসিডেন্টরা এবং ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীরা দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছেন, যাতে করে একটি গণতান্ত্রিক ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র শান্তিপূর্ণ ও গঠনমূলকভাবে একটি গণতান্ত্রিক ইসরাইলি রাষ্ট্রের পাশাপাশি অবস্থান করতে পারে।

প্রস্তাবে বলা হয়, দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান একদিকে ইহুদি ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে ইসরাইলের অস্তিত্ব নিশ্চিত করবে। অন্যদিকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ফিলিস্তিনিদের বহুদিনের স্বপ্ন বাস্তব হবে। শুক্রবার প্রতিনিধি পরিষদে ২২৬-১৮৮ ভোটে পাস হয় নতুন প্রস্তাবটি। তবে পাঁচ রিপাবলিকান এমপি ও চার ডেমোক্র্যাট এমপি প্রস্তাবটিতে ভোটদানে বিরত ছিলেন। ডেমোক্র্যাট ওই চার আইনপ্রণেতাকে একসঙ্গে ‘দ্য স্কোয়াড’ বলা হয়ে থাকে।

এর মধ্যে রয়েছে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নারী প্রতিনিধি রশিদা তিলাইব ও সোমালি বংশোদ্ভূত নারী এমপি ইলহান ওমর। প্রস্তাব প্রস্তুতকারীদের সমালোচনা করে তারা বলেছেন, প্রস্তাবটিতে ফিলিস্তিনি জমি জবরদখল ও বসতি স্থাপন বন্ধে ইসরাইলকে কোনো আহ্বান জানানো হয়নি।

প্রজন্মনিউজ২৪/নাজিম উদ্দীন

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন





ব্রেকিং নিউজ