ইতিহাস গড়া ট্রিপল সেঞ্চুরি,রেকর্ডবুকে ওয়ার্নার

প্রকাশিত: ০১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০৫:৪১:১৩

গত বছর মার্চে কেপটাউন টেস্টে বহুল আলোচিত বল টেম্পারিংয়ের অপরাধে অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ ও সহ-অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার যখন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) কর্তৃক এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ হন তখন কেবল অস্ট্রেলিয়া নয়, গোটা বিশ্বক্রিকেটই কেঁপে উঠেছিল। ধুলোয় মিশে গিয়েছিল কুলিন দেশটির সব অহমিকা। অনেকে বলেছিলেন, দু’জনের ক্যারিয়ারই হয়তো শেষ; কিন্তু ওরা যে অন্য ধাতুতে গড়া। বিশ্বকাপে প্রত্যাবর্তনে জ্বলে ওঠেন ওয়ার্নার, করেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬৪৭ রান। ঐতিহ্যের এাশেজে পাঁচ টেস্টে রেকর্ডের বন্যা বইয়ে দিয়ে আরেক তারকা স্মিথ করেন ৭৭৪ রান। কিন্তু আচমকা খেই হারানো ওয়ার্নার ৯.৫০ গড়ে করেন ৯৫ রান। ব্যাপক সমালোচনার মাঝেও তাকে একাদশ থেকে বাদ দেয়নি অসি ম্যানেজমেন্ট। ফর্ম ইজ টেম্পারারি বাট ক্লাস ইজ পার্মানেন্টÑ অপ্তবাক্য বোঝানোর জন্য খুব বেশি সময় নিলেন না ওয়ার্নার। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে সেঞ্চুরির (১৫৪) পর দ্বিতীয় টেস্টে হাঁকালেন ট্রিপল সেঞ্চুরি (৩৩৫*), টেস্ট ইতিহাসের অনেক পরিসংখ্যানই কাঁপিয়ে দিলেন ক্রেজি ওপেনার।

ওয়ার্নার যেসব রেকর্ড নাড়িয়ে দিয়েছেন তার মধ্যে উল্লেযোগ্য হলো, অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান। ওয়ার্নারের ক্যারিয়ারের প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরি আর ডে-নাইট টেস্টে দ্বিতীয়। এ্যাডিলেডে প্রথম ট্রিপল, পাকিস্তানের বিপক্ষে বিশ্বের চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে এমন কীর্তি গড়েন তিনি। প্রথমদিনেই ক্যারিয়ারের ২৩ নম্বর সেঞ্চুরি তুলে নেয়া ওয়ার্নার শনিবার দ্বিতীয়দিনে ব্যাটিংয়ে নামেন ১৬৬ রান নিয়ে। ডাবল সেঞ্চুরিতে পৌঁছান ২৬০ বলে। ট্রিপল সেঞ্চুরি ৩৮৯ বলে। শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া যখন ৩ উইকেটে ৫৮৯ রানে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে, ওয়ার্নারের নামের পাশে তখন অপরাজিত ৩৩৫। ৪১৮ বলের ম্যারাথন ইনিংসটি তিনি সাজিয়েছেন ৩৯ বাউন্ডারি ও একটি ছক্কা দিয়ে। যেভাবে ব্যাট চালাচ্ছিলেন তাতে মনে হচ্ছিল ব্রায়ন লারার ৪০০ রান টপকে নতুন রেকর্ড গড়তে যাচ্ছেন তিনি। ধারাভাষ্যকাররাও বারবার সেটা বলছিলেন। কিন্তু অভিজাত অস্ট্রেলিয়ার কাছে ব্যক্তির চেয়ে দল বড়। সিদ্ধান্তের যথার্থতা প্রমাণ করে দিনের বাকি ৩৪ ওভারের মধ্যে ৯১ রানেই পাকিস্তানের ৬ উইকেট তুলে নিয়েছেন বোলাররা। শেষ পর্যন্ত লারার রেকর্ড অক্ষতই থাকল, টেস্টে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের তালিকায় ওয়ার্নার থাকলেন ঠিক দশ নম্বরে।

তবে অনেক ক্ষেত্রে রেকর্ড বইয়ের অনেক কিছু নাড়িয়ে দিলেন ওয়ার্নার। এ্যাডিলেড ওভালের ইতিহাসে অনেক স্মরণীয় মুহূর্ত রয়েছে। সেই ডন ব্র্যাডম্যানের সময় থেকেই এই মাঠ ঐতিহ্যে ভরপুর। কিন্তু এতদিন এই মাঠ ট্রিপল সেঞ্চুরির সাক্ষী হয়নি। এর আগে ১৯৩২ সালে এ্যাডিলেডে স্যার ব্র্যাডম্যান ২৯৯ রান করেছিলেন। ৮৭ বছর পর সেই রেকর্ড ভাঙ্গলেন ওয়ার্নার। ১ রান করে তাকে টপকে যান। স্যার ব্র্যাডম্যান (৩৩৪) ও মার্ক টেইলর (৩৩৪*) এই জায়গাটা দখল করেছিলেন। ১ রান নিয়েই তাদের পেছনে ফেলেন তিনি। ৩৮০ রান করে অস্ট্রেলিয়ানদের মধ্যে তালিকায় সবার ওপরে ম্যাথু হেইডেন। আর মাত্র পাঁচ রান করলেই পাকিস্তানের হানিফ মোহাম্মদ (৩৩৭) ও শ্রীলঙ্কার জয়সুরিয়াকে (৩৪০) ছাড়িয়ে যেতেন তিনি। ঠিক ৪০০ রান নিয়ে যেখানে সবার ওপরে ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তি ব্রায়ান লারা। সপ্তম অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে ট্রিপল সেঞ্চুরি করলেন ওয়ার্নার। এর মধ্যে একমাত্র ডন ব্যাডম্যানেরই আছে দুটি ট্রিপল। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বশেষ ট্রিপল সেঞ্চুরি করেছিলেন মাইকেল ক্লার্ক, ২০১২ সালে সিডনিতে, ভারতের বিপক্ষে।টেস্টে ৩৩ বছর বয়সী ওয়ার্নারের আগের সর্বোচ্চ ছিল ২৫৩, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২০১৫ সালে।

সর্বোপরি পাকিস্তানের বিপক্ষে ট্রিপল সেঞ্চুরি করা চতুর্থ ব্যাটসম্যান হলেন ওয়ার্নার। আগের তিনজন হলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্যার গ্যারি সোবার্স (৩৬৫*), অস্ট্রেলিয়ার মার্ক টেলর (৩৩৪*) ও ভারতের বীরেন্দর শেবাগ (৩০৯)। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে অস্ট্রেলিয়ানদের মধ্যে ওয়ার্নারের সামনে শুধু ম্যাথু হেইডেন। ২০০৩ সালে পার্থে জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে তিনি করেছিলেন ৩৮০। দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ডে-নাইট টেস্টে ট্রিপল সেঞ্চুরি করলেন ওয়ার্নার। এই টেস্টেই খেলা প্রতিপক্ষ পাকিস্তান অধিনায়ক আজহার আলি এর আগে করেছিলেন অপরাজিত ৩০২, ২০১৬ সালে দুবাইয়ে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। তৃতীয় অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান হিসেবে একাধিক ২৫০-প্লাস ইনিংস খেললেন ওয়ার্নার। যে কীর্তি ব্র্যাডম্যানের আছে পাঁচটি, ক্লার্ক ও ওয়ার্নারের দুটি করে। ওপেনারদের মধ্যে এমন ইনিংস চারটি আছে শুধু বীরেন্দর শেবাগের। সনৎ জয়সুরিয়া, গ্রায়েম স্মিথ, ক্রিস গেইল, এ্যালিস্টার কুক ও ওয়ার্নারের দুটি করে।

প্রজন্মনিউজ২৪/জাহিদ

 

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন