পিইসি পরীক্ষার্থীকে ধর্ষণ

প্রকাশিত: ২৫ নভেম্বর, ২০১৯ ০৬:১৯:৩৮

প্রাইমারি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার (পিইসি) শেষ দিনে এক কন্যা শিশু পরীক্ষার্থীকে কেন্দ্রে আনা-নেয়ার কাজে নিয়োজিত রিকশাচালকের বিরুদ্ধে ওই পরীক্ষাথীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠেছে। সোমবার (২৫ নভেম্বর) দুপুরে ভিকটিম পরীক্ষার্থীকে শেরপুর জেলা হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে।

ধর্ষক নালিতাবাড়ী উপজেলার শিমুলতলা গ্রামের লালা মিয়ার ছেলে দুই সন্তানের জনক হাবিবুল্লাহ মিয়া (৩৫) ঘটনার পর পরই পালিয়ে গেছে। তাকে ধরতে পুলিশ অভিযানে নেমেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নালিতাবাড়ী শিমুলতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী পিইসি পরীক্ষার্থী কন্যা শিশুকে বাঘবেড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষা চলাকালীন পর্যন্ত আনা-নেয়ার জন্য প্রতিবেশী রিকশাচালক হাবিবুল্লাহকে চুক্তি দেয়া হয়। রোববার ছিল প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনি পরীক্ষার শেষ দিন।

পরীক্ষা শেষে রিকশাচালক হাবিবুল্লাহ ওই পরীক্ষার্থীকে বাড়িতে না পৌঁছে দিয়ে বেড়ানোর কথা বলে মধুটিলা ইকোপার্কে নিয়ে যায়। সেখানে হাবিবুল্লাহ ওই শিক্ষার্থীকে একটি জঙ্গলে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এমনকি শিশু কন্যাটি চিৎকার দিলে তার মুখ চেপে ধরে। ঘটনা প্রকাশ না করার জন্য হত্যার হুমকি দিয়ে তাকে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে সটকে পড়ে ওই রিকশাচালক। কিন্তু ভয়ে ওই শিক্ষার্থী বিষয়টি গোপন রাখেন। বাড়ি ফিরে ওই কিশোরী অস্বাভাবিক আচরণ করায় পরিবারের লোকজনের সন্দেহ হয়। রাতে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের লোকজন ধর্ষণের বিষয়টি জানতে পারেন।

প্রচুর রক্তপাত হওয়ায় সোমবার সকালে পরিবারের লোকজন তাকে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লক্সে নিয়ে যান। ঘটনা শুনে হাসপাতালে ছুটে যান সহকারী কমিশনার (ভূমি) লুবনা শারমীন ও পুলিশ। নালিতাবাড়ী হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দেয়ার পর শেরপুর জেলা হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠান।

ভিকটিমের মা জানান, বিশ্বাস করে হাবিবুল্লাহকে মেয়েকে পরীক্ষা কেন্দ্রে আনা-নেয়ার কাজ দিয়েছিলাম। কিন্তু সে সুযোগ বুঝে আমার মেয়ের সর্বনাশ করেছে। আমরা এ ঘটনার উপযুক্ত বিচার চাই। হাবিবুল্লাহর শাস্তি চাই।

এ বিষয়ে নালিতাবাড়ী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বছির আহমেদ বলেন, পিইসি পরীক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মেয়ের বাবা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। অভিযোগ শোনার পরই অপরাধীকে ধরার জন্য অভিযান চলছে। মেয়েটির ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য শেরপুর জেলা সরকারি হাসপতালে পাঠানো হয়েছে।

প্রজন্মনিউজ২৪/জাহিদ

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ