আমার ক্যাম্পাস: আমার অনুপ্রেরণার উৎস

প্রকাশিত: ১৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০৩:৫৬:৫১ || পরিবর্তিত: ১৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০৩:৫৬:৫১

খাইরুল বাশার খুলনা:: সিটি পলিটেকনিক একটি নাম, একটি নিশ্বাস।  যে নামটি  শুনে বা দেখেই  কল্পনায়  নিমিষেই ধরা পড়ে  চার বছরের সুখময় স্মৃতি ।মনের মধ্যে একধনের অনুভূতি জাগ্রত হয়। যে অনুভূতির বিপরীত একটি অনুভূতি নিয়ে ক্যাম্পাসের গেইটে পা রেখেছিলাম।

                                              ভর্তি হওয়ার আগে যা শুনেছি আর ভর্তি হওয়ার

                                                  পর যা দেখছি তার মধ্যে ফারাক অনেক।

শোনা কথায় কান দিলে আজ হয়ত জন্মসুত্রে পাওয়া পরিবারের পর আরেকটি পরিবার পেতাম না। অস্থির মনে ঠিক করতে পারতাম না জীবনের লক্ষ্য। আমার সকল অনুপ্রেরণার উৎস এই সিটি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট।

এই সিটি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে আমি সিভিল বিভাগের চতুর্থ সেমিস্টারের একজন শিক্ষার্থী।

                                               সিভিল বিভাগ আমাকে আমার পরিচয় দিয়েছে

                                              আমাকে করে দিয়েছে সিটি পলিটেকনিকের অংশ।

সিটি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রায় ১বিঘা জমিতে সিপিআইতে ৬ টি অনুষদের আন্ডারে ৩১ টি ডিপার্টমেন্ট এবং ২ টি ইনিস্টিটিউট রয়েছে।

এখানে ২টি ছেলেদেরদের হল এবং ১ টি মেয়েদের হল রয়েছে। প্রতিটি হলের নিজের জন্য বরাদ্দকৃত সিটটা যেন সারাদিনের ক্লান্তি শেষে সুন্দর স্বপ্নের জন্য শান্তির ঘুম এনে দেয়।

প্রায় ১২ হাজার বইয়ে সমৃদ্ধ সিপিআইতে একটি গ্রন্থাগার রয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দানের জন্য রয়েছে পরামর্শ বক্স।

ষড়ঋতুর দেশে ক্যাম্পাসে  প্রতিটি ঋতুর বৈশিষ্ট্য খুব সহজেই চোখে পড়ে। কোন ঋতুর পর কোন ঋতু আসছে সেটা সহজেই উপলব্ধি করতে পারি আমরা সিপিআইরা। গাছগাছালি পরিপূর্ণ এই ক্যাম্পাসে ঋতু বিচিত্র খুব দর্শনীয়।

আমি আমার প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি পেয়েছি। অনেক কিছুই চেষ্টায় অর্জন করতে হয়েছে, আবার অনেক কিছু চেষ্টা না করেও পেয়েছি।  সিটি পলিটেকনিক আমাকে শিখিয়েছে কিভাবে ভালবাসতে হয়, কিভাবে সবার মধ্যে নিজেকে মানিয়ে নিতে হয়। কিভাবে একজন সিপিআইর কষ্টে অন্য সিপিআইর সমানুভুতি দেখায়। অন্যের সমস্যায় নিজ থেকে সমাধান খুঁজে দেওয়ার মানসিকতাও আমার সিপিআই আমাকে শিখিয়েছে। জীবনে সার্টিফিকেটের প্রাধান্যই নয়, বরং ভালো মানুষ হওয়াই জীবনের অর্জন। ভালো মানুষ হলে জীবনে পিছিয়ে থাকতে হবে না। সৎ পথে চলে  যে জীবনের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব  সেটা প্রতিনিয়ত শিক্ষাচ্ছে সিপিআই। সিপিআই পরিবার থেকে প্রতিদিনই কিছু না কিছু শিখছি।

শিক্ষকদের বন্ধুর মতো পাশে পেয়েছি সিভিল বিভাগের শিক্ষকদের। ব্যক্তি স্বার্থের উর্দ্ধ্যে শিক্ষকদের সহযোগিতা করার মানসিকতা যে না পড়েছেন সে কখনো বুঝতে পারবেন না।

                                                               ভালোবাসি আমার শিক্ষদের

                                               আজীবন সম্মানের সহিত মনে করতে চাই তাদের,

                                  তাদের দেখানো পথেই যাতে নিজেকে স্থান করে দিতে আপ্রান চেষ্টা করবো।

যদি কেউ প্রশ্ন করে জীবনে কি পেয়েছি, নিসন্দেহে মুখ দিয়ে উচ্চারিত হবে সিপিআই পেয়েছি।  পেয়েছি সিভিল পরিবার,ভরসা করা যায় এমন কিছু সিনিয়র ভাইয়া আপু, প্রান খুলে কথা বলা যায় এমন কিছু বন্ধু, বিশ্বাস করা করা যায় এমন কিছু জুনিয়র। সর্বোপরি আমি সিপিআই পেয়েছি।

প্রজন্মনিউজ২৪/রেজাউল

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ