তিন বছরেও বিচার পাইনি গোবিন্দগঞ্জ এর সাওতাল জনগোষ্ঠী

প্রকাশিত: ০৭ নভেম্বর, ২০১৯ ০৬:৩৯:৫৫ || পরিবর্তিত: ০৭ নভেম্বর, ২০১৯ ০৬:৩৯:৫৫

আজাদ- গাইবান্ধা প্রতিনিধি: গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতাল পল্লিতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও হত্যার তিন বছর পূর্ণ হয়েছে গতকাল। ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর ভয়াবহ সেই হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত শেষে ৯০ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

কিন্তু হামলার সঙ্গে জড়িত প্রকৃত দোষীদের বাদ এবং পিবিআইয়ের (পক্ষপাতমূলক)ভূমিকার অভিযোগে সেই চার্জশিট প্রত্যাখ্যান করেছেন ক্ষতিগ্রস্থ সাঁওতালরা। এ নিয়ে আদালতে নারাজি পিটিশন দাখিল করেছেন মামলার বাদী। ফলে আলোচিত এ হামলার ঘটনার বিচার কার্যক্রম নিয়ে ক্ষুব্ধ নিহত-আহতের স্বজন ও ক্ষতিগ্রস্থরা।

এছাড়া বারবার আশ্বাসের পরও বাপ-দাদার সম্পত্তি ফেরত না পাওয়ায় শঙ্কা বেড়েছে সাঁওতালদের। ঘটনার তিন বছর হলেও সেই তাণ্ডবের কথা আজও ভুলতে পারেননি সাঁওতালরা।

আর কোনও আশ্বাস নয়, বাপ-দাদার ভিটেমাটি ফেরত ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকার দ্রুত উদ্যোগ নেবে- এমনটাই চান এখানকার সাঁওতাল পল্লির বাসিন্দারা। দিনটিকে ‘সাঁওতাল হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করেন স্থানীয় সাঁওতালরা। এ উপলক্ষে গতকাল ৬ নভেম্বর সেখানে স্মরণসভা ও সমাবেশসহ দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করেন তারা।

জানা যায়, ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর রংপুর চিনিকলের জমিতে আখ কাটাকে কেন্দ্র করে, চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারী ও পুলিশের সঙ্গে সাঁওতাল ও বাঙালিদের কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয় সাঁওতালদের বসতিতে। পরে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয় কয়েক শত বাড়িঘর। পুলিশের গুলিতে মারা যান, শ্যামল, মঙ্গল ও রমেশ নামের তিন সাঁওতাল। এ সময় আহত হন পুলিশসহ অন্তত ৩০ জন। হামলার শিকার অনেকে বেঁচে আছেন শরীরে বিভিন্ন ক্ষত চিহ্ন নিয়ে।

হামলা, অগ্নিসংযোগ ও হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠ তদন্ত, জড়িতদের বিচার, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনসহ সম্পত্তি ফেরত দেওয়ার দাবিতে জোরালো বিক্ষোভ শুরু হয়। ঘটনার তিন বছর পার হলেও ভয়াল সেই হামলার ঘটনা এখনও তাড়া করছে তাদের। সব হারিয়ে উচ্ছেদ হওয়া সাঁওতাল পরিবারগুলো আজও সেই ছোট টিনের ছাপড়া আর ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করছেন। সুষ্ঠ বিচার ও জমি ফেরতের আশায় দিন গুনছেন তারা। শুধু তাই নয়, মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু না হওয়া এবং বাপ-দাদার সম্পত্তি ফেরত পেতে প্রশাসনের উদ্যোগ না থাকায় ক্ষুব্ধ ক্ষতিগ্রস্তরা।

মামলার বাদী থমাস হেমব্রন বলেন, ‘হামলা ও হত্যার ঘটনায় সাবেক এমপি ও বর্ন্দ গোবিন্দগঞ্জ আওয়ামীলীগ সভাপতি  আবুল কালাম আজাদ এবং সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি ও বর্তমান সাপমারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাকিল আকন্দ বুলবুল সহ ৩৩ জন নামীয় ও অজ্ঞাত ৫০০ থেকে ৬০০ জনকে আসামি করে মামলা করেছি।

মামলার পর তদন্ত শেষ করতেই পার হয় আড়াই বছর। তদন্ত শেষ করে চলতি বছরের জুলাই মাসে পিবিআই ৯০ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।’

তার অভিযোগ, ‘ঘটনার সঙ্গে জড়িত মূল ১১ আসামিকে চার্জশিটে বাদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঘটনা আড়াল ও পক্ষপাতিত্ব করে আদালতে ক্রটিপূর্ণ চার্জশিট দাখিল করে পিবিআই।’এ বিষয়ে তিনি বলেন,

‘চার্জশিটের বিরুদ্ধে নারাজি ও পুনঃতদন্তের দাবি জানিয়ে আদালতে পিটিশন দাখিল করেছি। দ্বিতীয় দফায় আগামী ২৩ ডিসেম্বর শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত। আলোচিত এ মামলার বিচার কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রতা ও বাপ-দাদার ভিটেমাটি ফেরত পাওয়া নিয়ে অনিশ্চতায় দেখা দিয়েছে সাওতালদের। প্রজন্মনিউজ২৪/রেজাউল

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন