ন্যাম সম্মেলনে যোগ দিতে আজারবাইজানের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা ত্যাগ

প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০৫:৩০:৫১

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৮তম নন-অ্যালাইন মুভমেন্ট (ন্যাম) সম্মেলনে যোগ দিতে আজারবাইজানের উদ্দেশে চার দিনের সরকারি সফরে বাকুর উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবার) বিকেলে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ বিমান বাকুর উদ্দেশে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে।

প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানাতে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী এ কে এম মোজাম্মেল হক, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম, মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, কূটনৈতিক কোরের ডিন এবং বেসামরিক ও সামরিক উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাগণ বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন।

ফ্লাইটটি বাকু হায়দার আলিয়েভ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একই দিন স্থানীয় সময় রাত ৮ টা ৫৫ মিনিটে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানানোর পর মোটর শোভাযাত্রা সহকারে তাকে হিলটন বাকু হোটেলে নিয়ে যাওয়া হবে। আজারবাইজান সফরকালে তিনি এই হোটেলেই অবস্থান করবেন।

১২০টি উন্নয়নশীল দেশের ফোরাম ন্যামের দুই দিনের সম্মেলনটি আগামী ২৫ ও ২৬ অক্টোবর আজারবাইজানের রাজধানী বাকুর কংগ্রেস সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিমের বরাত দিয়ে বাসস জানায়, অন্যান্য সদস্য দেশগুলোর সরকার ও রাষ্ট্র প্রধানদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ন্যাম সম্মেলনে যোগ দেবেন।

শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাকু কংগ্রেস সেন্টারে ১৮তম ন্যাম সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। অনুষ্ঠানস্থলে আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী এবং স্পিকার ন্যাম নেতৃবৃন্দদের অভ্যর্থনা জানাবেন। অন্যান্য ন্যাম নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাকু কংগ্রেস সেন্টারের প্ল্যানারি হলে সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

পরে প্রধানমন্ত্রী কেন্দ্রের লাঞ্চন হলে পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে প্রতিনিধিদলের প্রধানদের জন্য দেয়া ওয়ার্কিং লাঞ্চন-এ যোগ নেবেন। সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী হেয়দার আলিয়েভ সেন্টারে আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভের আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনায় অংশ নেবেন। শনিবার (২৬ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন, প্রতিনিধিদলের প্রধানদের সঙ্গে ওয়ার্কিং লাঞ্চন ও সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

তিনি হিলটন বাকুতে একই সঙ্গে আজারবাইজানের দূত হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত তুরস্কে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের দেয়া নৈজভোজে অংশ নেবেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ন্যাম সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের সাথে সাক্ষাৎ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

আজারবাইজানে চার দিনের সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী রোববার (২৭ অক্টোবর) স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় বাকু হেইদার আলিয়েব আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে দেশের উদ্দেশে রওনা হবেন। বিমানটি ওইদিন সন্ধ্যা ৭টা ৪৫মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে।

ন্যাম বিশ্বের ১২০টি উন্নয়নশীল রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত একটি ফোরাম, যা বড় কোনও পাওয়ার ব্লকের সঙ্গে বা বিপক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে সংযুক্ত নয়। জাতিসংঘের পর এটি বিশ্বব্যাপী রাষ্ট্রগুলোর বৃহত্তম গ্রুপিং।

ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জহরলাল নেহেরু ও সাবেক যুগোস্লাভিয়ার প্রেসিডেন্ট জোসিপ ব্রোজ টিটোর উদ্যোগে ১৯৫৫ সালে বানডং সম্মেলনে সম্মত নীতিমালা প্রণয়নের পর ১৯৬১ সালে যুগোস্লাভিয়া বেলগ্রেডে ন্যামটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ভেনেজুয়েলার মারগারিটা দ্বীপে ২০১৬ সালে ১৭তম ন্যাম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো হলেন চলতি ন্যাম সম্মেলনের চেয়ারপারসন।

প্রজন্মনিউজ২৪/রেজাউল

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ