কৃষক লীগের শীর্ষ পদে আসতে আগ্রহী যারা

প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর, ২০১৯ ১১:১১:৪৪

আগামী ছয় নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোর সম্মেলন। এদিন সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে কৃষক লীগের সম্মেলন। এই সম্মেলন থেকেই নতুন নেতৃত্ব আসবে বলে মনে করেন সংগঠনটির শীর্ষ পদ প্রত্যাশীরা। এরইমধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ পেতে তৎপরতা শুরু করেছেন নেতৃত্ব প্রত্যাশীরা। কৃষকদের উন্নয়ন ও উৎকর্ষতার জন্য গড়ে ওঠা কৃষক লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পদ চান অনেকেই।

এদের মধ্যে সভাপতি পদে বর্তমান সভাপতি মোতাহার হোসেন মোল্লা, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক রেজা, সিনিয়র সহ-সভাপতি আলতাফ হোসেন খান ভুলু, সহ-সভাপতি ওমর ফারুক, কৃষিবিদ বদিউজ্জামান বাদশা, শরীফ আশরাফ হোসেন, শেখ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. হারুনুর রশীদ হাওলাদারের নাম উল্লেখযোগ্য।

আর সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন— যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সমীর চন্দ্র চন্দ, সাংগঠনিক সম্পাদক বিশ্বনাথ সরকার বিটু, আসাদুজ্জামান বিপ্লব, সাখাওয়াত হোসেন সুইট, উম্মে কুলসুম স্মৃতিসহ আরও কয়েকজন। সভাপতি পদে আগ্রহী যারাবর্তমান সভাপতি মোতাহের হোসেন মোল্লা ও বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খন্দকার শামসুল হক রেজা দু’জনই এবার সভাপতি প্রার্থী। তবে পুনরায় শীর্ষ পদে তাদের থাকার সম্ভাবনা কম।

সংগঠনটির সূত্রের দাবি, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা স্বাক্ষরিত কৃষক লীগের ১১১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির অনেক নাম এদিক-ওদিক করার অভিযোগ রয়েছে এই দু’জনের বিরুদ্ধে। সভাপতি পদের অন্যতম দাবিদার ওমর ফারুক বলেন, ‘কৃষক লীগে প্রার্থী হওয়ার কিছু নেই। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব আমাকে যে পদের জন্য যোগ্য মনে করবেন, সেই পদেই কাজ করবো।’ ওমর ফারুক একজন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা।

এর আগে তিনি কৃষক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, কেন্দ্রীয় সদস্য ও কুমিল্লা জেলা কৃষক লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। আরেক সহ-সভাপতি শরীফ আশরাফ হোসেনও একজন মুক্তিযোদ্ধা। তিনি গোপালগঞ্জ জেলা কৃষক লীগের সভাপতি, গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এবং খুলনা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন।

শরীফ আশরাফ শীর্ষ পদ প্রত্যাশী হলেও মূল সংগঠনই এটা বিবেচনা করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। অন্যতম সহ-সভাপতি বদিউজ্জামান বাদশা এর আগে কৃষক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় সদস্য ছিলেন। এছাড়াও ছাত্রজীবনে তিনি নালিতাবাড়ী থানা ছাত্রলীগের সভাপতি, ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। 

তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচন করায় বাদশা অনেকটা ব্যাকফুটে আছেন। সহ-সভাপতি শেখ মো. জাহাঙ্গীর আলম কয়েকবার কৃষক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক এবং আবাহনী লিমিটেডের পরিচালক। কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আকবর আলী চৌধুরী এর আগে কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, গাজীপুর জেলা কৃষক লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন।

ছাত্রাবস্থায়  তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য, গাজীপুর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনর করেন। সংগঠনটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুন-অর-রশীদ হাওলাদার ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আহত  হন। তিনি বিভিন্ন সময়ে ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক, প্রচার সম্পাদক এবং যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

সাধারণ সম্পাদক হতে চান যারা: কৃষক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সমীর চন্দ্র চন্দ এর আগে কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্রজীবনে তিনি শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। ভালো সংগঠক হিসেবে তার পরিচিতি রয়েছে। তিনি বলেন, ‘ছাত্রজীবন থেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সংগঠন করি। আমাকে যে পদে দায়িত্ব দেওয়া হবে, সে পদেই নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করবো।

’ সাধারণ সম্পাদক পদে আগ্রহী বিশ্বনাথ সরকার বিটু কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আছেন। ছাত্রজীবনে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি রংপুরের বদরগঞ্জে উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন। পরিছন্ন, সৎ ও তরুণ হিসেবে আলোচনার অগ্রভাগে আছেন তিনি। বিশ্বনাথ সরকার বিটু  বলেন, ‘ছাত্র জীবনে ছাত্রলীগ করেছি। এ

খন কৃষক লীগকে সংগঠিত করার কাজ করছি। কাজে এবং বিশ্বাস-আদর্শে সততা বজায় রেখেছি। দল আমার যোগ্যতা ও অবদান বিশ্লেষণ করে যেখানে যে দায়িত্ব দেবে, সেটাই নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে যাবো।’ আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওযাত হোসেন সুইট কৃষক লীগের মুখপাত্র ‘কৃষকের কণ্ঠ’ এর নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় ১৯৯৩-১৯৯৪ সালে তিনি শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

বর্তমান সভাপতির সঙ্গে সখ্যতা থাকায় অনেক দুর্নামের ভাগীও এই সুইট।  কৃষক লীগের তরুণ সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান বিপ্লব ময়মনসিংহ কলেজের নির্বাচিত জিএস, আনন্দমোহন কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও মিরপুর সরকারি বাংলা কলেজ ছাত্রলীগের ক্রীড়া সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এক-এগারোর সময় শেখ হাসিনা মুক্তি আন্দোলনে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করেন তিনি।

উল্লেখ্য, দেশের কৃষির উন্নয়ন এবং কৃষকের স্বার্থ রক্ষার জন্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ১৯ এপ্রিল বাংলাদেশ কৃষক লীগ প্রতিষ্ঠা করেন।

প্রজন্মনিউজ২৪/মামুন

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ