মাদক সেবনের নিরাপদ স্থান ঢাকা আলিয়ার হল

প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর, ২০১৯ ০৩:৩২:৪৮

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক: মাদক সেবনের নিরাপদ স্থান এখন দেশের ঐতিয্যবাহী প্রতিষ্ঠান সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়ার আল্লামা কাশগরী হল।এর প্রকাশ্য মদদ দাতা হলেন শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক সুলাইমান আহমেদ।তাদের মদদে হলে সব সময় বসে মাদকের আসর।এতে বহিরাগত অনেকেই এসে কোন প্রকার বাধা ছাড়াই সেবন করছে নানা রকম মাদক ।

শুধু মাদক নয়  হলে ছাত্রলীগ নেতাদের একচ্ছত্র আধিপত্য, সিট বাণিজ্য, সাধারণ শিক্ষার্থীদের নির্যাতন, মাদক, চাঁদাবাজি এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। এখানে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে রীতিমতো ভীতসন্ত্রস্ত মাদ্রাসার সাধারণ শিক্ষার্থী এবং আবাসিক ছাত্ররা।তাদের এসব কর্মকান্ডে মাদ্রাসা হল এখন নানা অপকর্মের

স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে।অনুসন্ধানে জানা যায়, আলিয়া মাদরাসায় একক আধিপত্য বিস্তার করছে ছাত্রলীগের  সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। সিট নেয়া থেকে শুরু করে সিট ছাড়ানো পর্যন্ত সব কিছুর অলিখিত কর্তা বনে বসে আছেন তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রলীগের এক নেতা আলাপচারিতায় শাহাদাৎ-সুলাইমানের নানা অপকর্মের সত্যতা তুলে ধরে বলেন, হলের ভেতর মাদকের আখড়া বসে। ইয়াবা থেকে শুরু করে সব ধরণে মাদক অবাধে সেবন করা যায় মাদরাসার হলে।

এদিকে একাধিক শিক্ষার্থী  বলেছেন, সিট নেয়ার জন্য অফিসিয়াল কোনো বিধিনিষেধের তোয়াক্কা না করে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে সিট বাণিজ্য করছে হলের ছাত্রলীগ নেতারা। হলে সিট নেয়ার সময়ই ‘বড় ভাই’-এর হাতে দিতে হয় আট থেকে দশ হাজার টাকা।নেতাদের পৃষ্ঠপোষকতায় হলে ওঠেছে বহিরাগত অনেকেই।বহিরাগতদের থেকে প্রতিমাসে নিদিষ্ট ভাড়া নেওয়া হয়ে থাকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফাজিল দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী  বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে পড়তে এসেছি। মাদরাসায় যে এরকম সিট বাণিজ্য হতে পারে- তা চোখে না দেখলে বিশ্বাসই করতাম না। ওই শিক্ষার্থী বলেন, বড় ভাইদের কথায় যেমন সিট মিলে, তেমিন সিট কাটা পড়ে তাদের ইশারাতেই। কোনো কারণ দর্শানো কিংবা পূর্ব নোটিশ ছাড়াই সিট বাতিল করে হল থেকে করে দেয় কথিত এই বড় ভাইরা। টু শব্দটি পর্যন্ত করার সাহস হয় না ছাত্রদের।

মারুপ নামে কামিল প্রথম বর্ষের এক ভুক্তোভোগী শিক্ষার্থী তিন বছর হলে থাকার নির্মম অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, হলে থাকতে হলে নিয়মিত মোটা অংকের চাঁদা দিতে হয়। চাঁদা না দিয়ে হলে থাকার জো নেই। বেশির ভাগ শিক্ষার্থীই হলের বিল পরিশোধ করে না। বড় ভাইরা বলে, আমাদের টাকা দিছো, হলের টাকা দেয়া লাগবে না।

ওই শিক্ষার্থী বলেন, হলে থাকতে হলে ছাত্রলীগ করা বাধ্যতামূলক। পড়াশোনা বাদ দিয়ে দিনের পর দিন রাজনৈতিক কাজকর্মে ব্যস্ত রাখা হয় সাধারণ ছাত্রদের। ভিন্ন মতাবলম্বী তো বটেই এমনকি যারা রাজনীতি পছন্দ করে না তাদেরও রেহাই নেই। কারণে অকারণে অকথ্য নির্যাতন করা হয় ছাত্রলীগ না করা শিক্ষার্থীদের। হলের প্রতিটি শিক্ষার্থীর গতিবিধি, অনলাইন-অফলাইন এ্যক্টিভিটিস, আড্ডা, মন্তব্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে ‘বড় ভাইরা’।

শিক্ষার্থীরা জানান, কোনো ধরণের সন্দেহজনক আচরণ, কথাবার্তা পেলেই বেধম মারপিট করে হল থেকে বের করে দেয়া হয়। আওয়ামী লীগের সভা সমিতিতে ছাত্ররা উপস্থিত না থাকলে তাদেরকেও হল থেকে বের করে দেয়। কেউ যদি ছুটি নিয়ে বাড়ি থাকে আর ওই সময় দলীয় কোনো মিটিং থাকে তাহলে মিটিংএ উপস্থিত না থাকার জন্য মোটা অংকের জরিমানা ধার্য করা হয়।

‘মোটা অংক’ সম্পর্কে জানতে চাইলে মারুপ বলেন, সংসদ নির্বাচনের সময় আমি হলে উপস্থিত না থাকায় পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা নেয় আমার কাছ থেকে।এ ছাড়াও সরকারি মাদরাসা-ই আলিয়ার আশেপাশের হোটেল-দোকান থেকে চাঁদাবাজির ঘটনাও স্বীকার করেছেন নাম প্রকাশ না করার শর্তে ছাত্রলীগের একজন নেতা। তিনি বলেন, মাদরাসার আশেপাশের দোকান থেকেও আমরা চাঁদা নিই। আসলে আমরা কী করব? ওপর থেকে যা করতে বলে আমরা শুধু তাই করি।

সরকারি মাদরাসা-ই আলিয়ার হলে ছাত্রলীগের একচ্ছত্র আধিপত্য এবং অনৈতিক কার্মকান্ডের বিষয়ে হল সুপার মো. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, হলে বহিরাগত ছাত্র এক-আধজন যে থাকে না- তা নয়। তবে অনুসন্ধান করে বরিরাগত লোকজন পেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়া হয়। তাছাড়া হলের ভেতর কোনো শিক্ষার্থী যদি কোনো ধরণের হয়রানির শিকার হয় কিংবা অনৈতিক কর্মকান্ড করে থাকে আমরা জানার সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকরি পদক্ষেপ নিই।

প্রজন্মনউিজ২৪.

 

 

 

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ