এমন হত্যাকাণ্ড পরাধীন আমলেও ঘটেনি: ড. কামাল

প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর, ২০১৯ ০৬:৩২:০২

গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, দেশ আজ ধ্বংসের মুখোমুখী। মত প্রকাশের স্বাধীনতা নেই, সরকার ভিন্নমত সহ্য করতে না, ভিন্নমতের কারণে যেভাবে একটি মেধাবী ছেলেকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে, তাতে আমরা উদ্বিগ্ন। স্বাধীন দেশে এমন হত্যাকাণ্ড কাম্য নয়। এই হত্যাকাণ্ড সভ্যতা, সংবিধান ও স্বাধীনতার উপর আঘাত করেছে। এমন হত্যাকাণ্ড পরাধীন আমলেও ঘটে নাই। এ রকম ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তারা জানোয়ার, জানোয়ারের থেকেও নিকৃষ্ট। যে ছাত্র রাজনীতি ছেলেদের পশুতে পরিণত করেছে, তা থেকে দেশের শিক্ষাঙ্গনকে মুক্ত করতে হবে। এ সময় দেশের বর্তমান যে সংকটময় পরিস্থিতি, তা থেকে দেশকে মুক্ত করে কার্যকর গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে সকলকে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের মওলানা আকরাম খাঁ হলে আয়োজিত গণফোরামের এক সংবাদ সম্মেলন থেকে তিনি এই আহ্বান জানান। আবরার হত্যার বিচারের দাবি ও আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষিতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে দলের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে দলের নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক ড. আবু সাইয়িদ, মুকাব্বির খান এমপি, মেসবাহ উদ্দীন আহমদ, আমীন আমহদ আনসারী, মোশতাক আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ড. কামাল হোসেন, বুয়েট ছাত্র আবরার হত্যার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেন, যে কোন মানুষের ভিন্নমত থাকতেই পারে, তাই বলে তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলতে হবে? এ কোন দেশ কোন সমাজে বাস করছি আমরা? রুগ্ন ও অসুস্থ রাজনীতির কারণে দেশে এক সংকটময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, জনগণের মালিকানা জোরপূর্বক ছিনতাই করে ক্ষমতা দখলের কারণে আজ গণতন্ত্রের শেষ চিহ্নটুকুও মুছে যেতে বসেছে। সুশাসন ও জবাবদিহিতা নেই। ভিন্নমত দমন, মিথ্যা মামলা বিচারবহির্ভিূত হত্যাকাণ্ড, সভা-সমাবেশ করতে বাধা নিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। নিবর্তনমূলক আইন করে সরকার জনগণের মত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করেছে। এই ভয়াবহ অবস্থা থেকে দেশকে বাঁচাতে হবে। শিক্ষাঙ্গনে এমন বর্বরতা বন্ধ করতে হবে।

বিচারবিভাগীয় তদন্ত চান কিনা জানতে চাইলে ড. কামাল বলেন, উচ্চ পর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি করতে হবে। যেখানে সাবেক বিচারপতি, সাবেক সচিব, সাবেক আইজিপিসহ অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে তদন্ত কমিটি করতে হবে, যারা গভীর থেকে তদন্ত করে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য ও আসল ঘটনা বের করে আনতে পারবেন।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ছাত্র রাজনীতি যখন লেজুরবৃত্তির রাজনীতি হয়ে যায়। তখন কী হয়- দেশ আজ তারই পরিণতি ভোগ করছে।

সরকারের দুর্নীতি, লুটপাট, ভিন্নমত সহ্য করতে না পারা ও দেশের গণতন্ত্রহীনতার প্রতিবাদে গণফোরামের দলীয় এমপিদের সংসদ থেকে পদত্যাগ করতে বলবেন কিনা জানতে চাইলে ড. কামাল বলেন, বিষয়টি দলীয় ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিবেন।

প্রজন্মনিউজ২৪/নাবিল

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন