খুলনায় মাছ কোম্পানির কর্মচারিকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার ৬

প্রকাশিত: ০৯ অক্টোবর, ২০১৯ ১১:৩৬:৩০

খাইরুল বাশার, খুলনা ঃ খুলনায় মাছ কোম্পানির কর্মচারিকে কুপিয়ে হত্যার ১২ দিন পর মঙ্গলবার দুপুরে খুলনা জেলা পুলিশ সুপার এর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন খুলনা জেলা পুলিশ সুপার এস.এম. শফিউল্লাহ।

তিনি বলেন, গত ২৬ সেপ্টেম্বর খুলনায় সারজিল রহমান সংগ্রাম নামে (৩০) মাছ কোম্পানির এক কর্মচারীকে কুপিয়ে হত্যা করে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। ঐদিন দুপুর দেড়টার দিকে পূর্ব রূপসাস্থ বীর শ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন সড়কের হিমায়ন বরফ কলের (ছাদভাঙ্গা বরফ কল) অদূরে একটি চায়ের দোকানের সামনে তাকে হত্যা করা হয়।

ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই(নিঃ) মুক্ত রায় চৌধুরীকে। জেলা গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে ৬জন আসামি গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতার কৃতরা হলেন, মোঃ রাহাত সিকদার, আদম শেখ, মোছাঃ কহিনুর বেগম, আলমগীর মোল্লা, মোঃ সুমন মোল্লা ও বায়েজিদ সরদার।

মামলার আলামত হিসাবে, ৩টি ছোরা, ৩টি চাপাতি, বরফকলের এশটি আইসক্যান ও এশটি এমআই মোবাইল ফোন। নিহত সংগ্রাম স্থানীয় বাগমারা গ্রামের শেখ মুজিবুর রহমান একমাত্র ছেলে। তিনি হিমায়িত চিংড়ি প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা ব্রাইড সি ফুডস লিমিটেড’র কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সারজিল রহমান সংগ্রাম কারখানা ছুটি শেষে বীর শ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন সড়কের ছাদভাঙ্গা বরফ কলের সামনে দিয়ে বাড়ি যাচ্ছিলেন। এ সময় রাহাত, অমিত ও সাজুসহ ৫-৬জন সন্ত্রাসী তাকে ধারালো চাপাতি দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে পালিয়ে যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর সোয়া ২টায় দিকে তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয়রা জানান, কিছুদিন আগে সংগ্রামের একটি মোবাইল ফোন হারিয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে কিশোর গ্যাংয়ের লিডার রাহাতের সাথে দ্বন্ধ হয়। যার জের এ হত্যাকান্ড ঘটতে পারে।

নিহত সংগ্রামের বাবা শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, সংগ্রাম মৃত্যুর আগে তার উপর আঘাতকারীদের নাম বলে গেছে। এরা হচ্ছে, কিশোর গ্যাং লিডার রাহাত, অমিত, সাজু ওরফে সাধু ও সোহেল। এদের সঙ্গে আরো দুইজন ছিলো যাদের না বলার আগেই সংগ্রাম মারা গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে খুলনা জেলা পুলিশ সুপার এস.এম. শফিউল্লাহ কিশোর গ্যাং এর তথ্য দেওয়া সহ বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের একান্ত সহযোগীতা কামনা করেন। এছাড়া তিনি আরো বলেন, এবারে খুলনায় শারদীয় দুর্গোৎসব সকলের সহযোগীতায় কোন অপ্রিতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণ ভাবেই সম্পন্ন হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় পত্রিকার সাংবাদিক, জাতীয় পত্রিকার ব্যুরো প্রধানগণ, ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ার প্রতিনিধি, ক্যামেরা পার্সন ও স্থানীয় ফটো সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, নিহতের মা মোছাঃ সাবিনা ইয়াসমিন মিলি বাদী হয়ে গত ২৬ সেপ্টেম্বর রুপসা থানায় একটি মামলা করেন।

প্রজন্মনিউজ২৪/রেজাউল

 

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ