ক্রাইস্টচার্চের সেই মসজিদেই বাংলাদেশের অর্নুধ্ব -১৯ দল

প্রকাশিত: ০৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০৮:২০:৫০ || পরিবর্তিত: ০৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০৮:২০:৫০

ক্রাইস্টচার্চের সেই আল-নূর মসজিদেই আজ জুমার নামাজ পড়ল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্রিকেটাররা। ছবি: বিসিবি
ক্রাইস্টচার্চের সেই আল-নূর মসজিদেই আজ জুমার নামাজ পড়ল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্রিকেটাররা। ছবি: বিসিবি

নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসে সবচেয়ে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ হয়েছে গত মার্চে। ক্রাইস্টচার্চের যে মসজিদে এই ঘটনা ঘটেছিল সেখানে বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের নামাজ পড়ার কথা ছিল। অল্পের জন্য বেঁচে যান তামিম-মিরাজরা। আজ সেখানেই নামাজ পড়েছেন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দল

জীবন থেমে থাকে না, সময়ের স্রোতে এগিয়ে যায়। ক্রাইস্টচার্চের জীবনও থেমে নেই, সবকিছুই চলছে স্বাভাবিক নিয়মে। স্বাভাবিক বলেই আজ ক্রাইস্টচার্চের সেই আল-নূর মসজিদেই জুমার নামাজ পড়তে গেল বাংলাদেশের আরও একটি দল।

শুধু ক্রাইস্টচার্চ কিংবা নিউজিল্যান্ডের মানুষের কাছেই নয়, এই আল-নূর মসজিদ আলাদা জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটেও। এ মসজিদেই গত ১৫ মার্চ কী নারকীয় হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল বর্ণবাদী মোহে আচ্ছন্ন এক অস্ট্রেলিয়ান। তার ঘৃণ্য, নারকীয় হত্যাযজ্ঞে প্রাণ হারিয়েছিল ৫০-এর অধিক মানুষ। এই ভয়ংকর ঘটনায় অল্পের জন্য বেঁচে গিয়েছিলেন বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা। আরেকটু হলেই বিয়োগান্ত এক ঘটনা ঘটে যেতে পারত বাংলাদেশ ক্রিকেটে। গোলাগুলির সময় মসজিদের পাশেই হ্যাগলি পার্কের ভেতর দিয়ে ত্রস্ত, ভয়ার্ত তামিম-তাইজুল-মিরাজ ফিরছেন ড্রেসিংরুমে, এই ছবি এখনো ভাসে সবক্রাইস্টচার্চের মসজিদে নৃশংস ঘটনার পরপরই বাংলাদেশ দল সফর অসমাপ্ত রেখে ফিরে আসে দেশে। সাত মাস পরে সেই ক্রাইস্টচার্চে গিয়েছে বিসিবির আরেকটি দল; বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯। আজ শুক্রবার আল-নূর মসজিদেই জুমার নামাজ আদায় করেছে পুরো দল।

ক্রাইস্টচার্চের আল-নূর মসজিদে নামাজ আদায় করতে গিয়ে যুব দলের অধিনায়ক আকবর আলীর বারবার মনে পড়েছে গত মার্চের ঘটনা। ক্রাইস্টচার্চ থেকে আজ দুপুরে মুঠোফোনে আকবর জানলেন তাঁর অভিজ্ঞতা, ‘এখানে দু-একজনের সঙ্গে কথা হয়েছে, যাঁরা ওই সময় মসজিদের ভেতর ছিল। সেই ভয়ংকর অভিজ্ঞতা তাঁরা আমাদের কাছে শেয়ার করেছে। তবে নামাজ পড়তে আমাদের তেমন ভয় লাগেনি। জানেনই তো নিউজিল্যান্ড অপরাধ শূন্য (জিরো ক্রাইম) দেশ। তাদের ইতিহাসে হঠাৎ একটা ঘটনা ঘটে গেছে। গত শুক্রবার আমাদের ম্যাচ ছিল বলে আসতে পারিনি এ মসজিদে, আজ আমরা এক সঙ্গে এলাম। যখন (হ্যাগলি) পার্কের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলাম, তামিম ভাইদের বেঁচে ফেরার ভিডিওটা বারবার ভাসছিল চোখে।’

ক্রাইস্টচার্চের আল-নূর মসজিদ। গত ১৫ মার্চ এই মসজিদেই সন্ত্রাসীর হামলায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ৫০জন মানুষ। ছবি: বিসিবি

ক্রাইস্টচার্চের আল-নূর মসজিদ। গত ১৫ মার্চ এই মসজিদেই সন্ত্রাসীর হামলায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ৫০ জন মানুষ। ছবি: বিসিবি

দলের ম্যানেজার ও বাংলাদেশ দলের সাবেক পেসার সজল চৌধুরীরও বারবার মনে পড়েছে গত মার্চের সেই নৃশংস ঘটনা। সে ঘটনা এখন অতীত। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই বলেই দলের সবাই মিলে আল-নূর মসজিদে নামাজ পড়েছেন বলে জানালেন সজল, ‘নিরাপত্তাব্যবস্থা খুব ভালো, সবকিছু নিশ্চিত করেই ওরা আমাদের সেখানে নিয়ে গেছে। এখানে সবকিছু একেবারেই স্বাভাবিক। ওখানে গিয়ে অবশ্য খারাপ লেগেছ, এত মর্মান্তিক একটা ঘটনা ঘটেছে। এখানে মন খারাপ করা আর নিহতের আত্মার শান্তি কামনা করা ছাড়া কিছু করার নেই। আমরা সবাই অনুভব করছিলাম আমাদের ক্রিকেটাররা তখন কী পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গিয়েছিল।’

প্রজন্মনিউজ২৪/সবুজ

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন