রাবি উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শিক্ষার্থীদের

প্রকাশিত: ০৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০৫:৪১:১১

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আবদুস সোবহান এবং উপ-উপাচার্য ড. চৌধুরী মোহাম্মদ জাকারিয়ার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

আন্তর্জাতিক একটি সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ‘জয় হিন্দ’ স্লোগান দেওয়ায় এবং চাকরিপ্রত্যাশীর স্ত্রীর সঙ্গে নিয়োগ বাণিজ্যের দর কষাকষির ফোনালাপ ফাঁসের পর উপ-উপাচার্য চৌধুরী মোহাম্মদ জাকারিয়ার পদত্যাগ চেয়ে আন্দোলন করছেন তারা।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে আন্দোলনের অংশ হিসেবে প্রথমে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোড অবরোধ করে আন্দোলন করছেন তারা। তারা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করছেন।

শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় দুর্নীতিবিরোধী শিক্ষক সমাজ।  বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের সামনে এ মানববন্ধন করেন তারা।

 

এর আগে গতকাল বুধবার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উপাচার্য দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আলোচনায় বসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা আলোচনায় শিক্ষার্থীরা আশ্বস্ত হতে না পেরে বৃহস্পতিবার থেকে ক্যাম্পাসে লাগাতার আন্দোলন কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল বুধবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাকসু ভবনের সামনে থেকে একটি মশাল মিছিল বের করেন। মিছিলটি ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পূর্বের স্থানে ফিরে গিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা করা হয়। সেখান থেকে চলমান এ আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবনে ইতিহাস বিভাগ ও জন ইতিহাস চর্চা কেন্দ্র আয়োজিত তিন দিনব্যাপী একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে সভাপতির বক্তৃতায় উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান “জয় হিন্দ” স্লোগান দিয়েছিলেন।

অপরদিকে সোমবার রাতে রাবির আইন বিভাগে প্রভাষক নিয়োগে নির্বাচনী বোর্ডের একজন আবেদনকারীকে অর্থের বিনিময়ে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে উপ-উপাচার্য চৌধুরী মোহাম্মদ জাকারিয়ার একটি কথোপকথন ফাঁস হয়েছে। আবেদনকারীর স্ত্রীর সঙ্গে উপ-উপাচার্যের দর-কষাকষির ওই অডিওতে তাকে টাকার বিষয়ে কথা বলতে শোনা যায়।

তবে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে উপ-উপাচার্য তার বক্তব্য তুলে ধরেছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, ‘উল্লিখিত ফোনালাপটি অসাধু ব্যক্তিদের সম্পর্কে একটি অধিকতর অনুসন্ধানী প্রয়াস ছিল মাত্র। সেই ফোনালাপের এডিট/সম্পাদন করা অংশ প্রকাশ করা হয়েছে। যেকোনো এডিটিং সফটওয়্যারে পরীক্ষা করলেই জানা যাবে এটি সম্পাদিত ফোনালাপ যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করি। একই সঙ্গে আশা করি প্রকৃত তথ্য সংগ্রহ করে বস্তুনিষ্ট সংবাদের মাধ্যমে নিয়োগ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িতদের মুখোশ উন্মোচন করতে আপনারা সকলেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন।’

প্রজন্মনিউজ২৪/নাবিল

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন