অযত্ম অবহেলায় ঢাকা কলেজ শহীদ মিনার

প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১১:০৭:০৩

ভাষা শহীদের স্মরণে নির্মিত শহীদ মিনার বাঙ্গালি জাতির হৃদয়ে রক্তক্ষরণের নাম। স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য রক্ত দিয়েছে লাখ লাখ মানুষ। দেশের জন্য, নিজের মায়ের ভাষার জন্য জীবন দেয়া শহীদদের স্মরণ রাখতে ও সম্মান জানাতে নির্মিত শহীদ মিনার। মায়ের প্রতি ভালোবাসার এই নিদর্শন যখন অবহেলার হয়, খাঁটি বাঙ্গালীর মনে দাগ কাটে। লুন্ঠিত হয় স্বাধীনতার চেতনা। তেমনি

অযত্ন আর অবহেলায় বেহাল দশা ঢাকা কলেজ শহীদ মিনার। ফেব্রুয়ারি মাস গেলেই অবহেলা আর অযত্নে পরে থাকে মিনারটি ধূলো-ময়লা ও ময়লার স্তুপ।  ফাটল বেষ্টিত স্থানে বট গাছ জন্মে আছে। যেন দেখার কেউ নেই ।

ঢাকা কলেজের শহীদ মিনারটি  শুধু দেশের শিক্ষার ইতিহাসেই নয়, জাতির ইতিহাসেরও এক অনন্য অধ্যায়ের নাম ঢাকা কলেজ। ৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ৬২-র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ, ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে এ কলেজের ছাত্রদের অবদান গৌরবের বিজয়গাথাকে করেছে মহিমান্বিত।

নানা পটভূমির পর ১৮৪১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ঢাকা কলেজ। ১৭৭ বছর বয়সী ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে নেই কোনো স্বাধীনতার স্মৃতিস্তম্ভ । শহীদ মিনারটিও ক্ষতবিক্ষত। চারদিকে অসংখ্য ফাটলে সামনের দিকে খানিকটা নুয়ে  কোনোমতে দাঁড়িয়ে আছে শহীদ মিনারটি।

ঢাকা কলেজের বর্তমান শহীদ মিনারটি কয়েক বছর আগে ব্যাপকভাবে কাঠামোগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বছরের পর বছর শুধু ফেব্রুয়ারিতে রং মাখিয়ে শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। কলেজ সূত্র জানাযায়, ১৯৯৩ সালে কলেজের বর্তমান শহীদ মিনারটি স্থাপন করা হয়। আকারে অত্যন্ত ছোট এ শহীদ মিনারে ২০১৪ সালে অনুষ্ঠান চলাকালে বেদিটি দেবে যায় এবং বেশ কয়েক জায়গায় বড় ধরনের ফাটল দেখা দেয়।

শিক্ষার্থীরা বলেছে, আমাদের কলেজে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের স্বাধীনতা স্মৃতি ভাস্কর্য নেই। আমাদের দাবি কলেজে একটি ভাস্কর্য স্থাপন করা হোক। বর্তমানে প্রায় ধসে যেতে বসেছে শহীদ মিনারটি।  অতিদ্রুত শহীদ মিনারটি সংস্কার করা হোক।

সরেজমিন দেখা যায়, প্রতিনিয়ত শহীদ মিনারে অবমাননা হচ্ছে ভাষা শহীদদের। স্যান্ডেল পরে একেবারে মূলবেদিতে উঠে আড্ডা, গল্প গানসহ চলে রাজনৈতিক ভাষণ। অতিদ্রুত শহীদ মিনারটি নতুন জায়গায় আরও দর্শনীয় করে স্থাপন করার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

শহীদ মিনারের চারপাশে ময়লার স্তূপ আর ফাটল বেষ্টিত স্থানে বট গাছ জন্মে আছে  । মাসের পর মাস পরিষ্কার না করার ফলে শহীদ মিনারের সামনের অংশে শ্যাওলা পড়ছে। বছরের গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলো ছাড়া শহীদ মিনার পড়ে থাকে অবহেলায়।

২১ শে ফেব্রুয়ারি এলে দিবসকে ঘিরে ভাষা শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে সর্বস্তরের জনতা। শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ ভাষা শহীদদের। দিনটি স্মরণে খালি পায়ে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান আবাল বৃদ্ধ শিশু ও নারীসহ সর্বস্তরের মানুষ। দিবস শেষ হলেই কদর কমে শহীদ মিনারের। অবহেলা আর অযত্নে, ময়লার ডাস্টবিন পরিণত হয় পবিত্র এ শহীদ মিনার।

শহীদ মিনারটি মাঝে মাঝে রঙ করে ব্যবহার উপযোগী করা হলেও বছরের বাকি দিনগুলিতে বড় অযত্ন ও অবহেলায় পড়ে থাকে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর নেহাল আহমেদ জানান, ঢাকা কলেজের নতুন ভবনের কাজ শেষ হবার পরপরই ভবনের সামনে নতুন শহীদ মিনার নির্মাণ করা হবে। নতুন শহীদ মিনারের পাশে ফুলবাগানের মাধ্যমে সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা হবে। কলেজের নতুন শহীদ মিনার নির্মাণ করার মাধ্যমে এটিকে শহীদ মিনার চত্বর হিসেবে তৈরি করা হবে বলেও জানান তিনি।

প্রজন্মনিউজ২৪/রেজাউল

 

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ