রেলওয়ে পরিবহন যেন ভূতের রাজ্য!!/আস্তানা!!

প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১০:৪৮:১৫

১৬ সেপ্টেম্বর,বুধবার।ঘড়ির কাটায় তখন বিকেল ৩ টা বাজে। চট্রগ্রাম থেকে মহানগর গোধূলি এক্সপ্রেস ট্রেনে করে যাত্রা শুরু করলাম ঢাকার উদ্দেশ্য।

ট্রেন চলছে তার আপন গতিতে।আর জানালা দিয়ে রূপসী বাংলার সবুজ প্রকৃতিকে দারুণভাবে উপভোগ করছিলাম।

এরই মধ্যে টি.টি.ই মহোদয়ের আগমন,সাথে  আছেন উনার কয়েকজন সহযোগী।বুঝলাম টিকেট চেকিং চলছে,আমার সিটে আসতেই  টিকেট বের করে দেখালাম।

কিন্তু আমার সিটের পাশেই পাওয়া গেল কয়েকজন যাত্রীকে,যারা ট্রেনে উঠেছে টিকেট না কেটেই,তারা নাকি কাউন্টারে টিকেট পায়নাই্। স্বাভাবিকভাবেই তাদের থেকে টি.টি.ই মহোদয় সুনির্দিষ্ট রশিদে জরিমানা সহ ভাড়া আদায় করবেন,এবং এটাই নিয়ম।

কিন্ত দেখা গেলো টি.টি.ই মহোদয় যাত্রীদেরকে গরম দু চারটা কথা শুনিয়ে সফলতার সাথে ভাড়া আদায় করে নিলেন ঠিকই, কিন্তু যাত্রীদেরকে আর রশিদ দিলেন না।

প্রশ্ন জাগে, যে টাকা সরকারের রাজস্বখাতে যাওয়ার কথা ছিল, কোন প্রমান না থাকায় সে টাকা কি তাহলে তাদের পকেটেই চলে যাচ্ছে?

এগুলো দেখি আর ভাবি, বেচারা যাত্রীরা হয়তো ট্রেনে নতুন যাচ্ছেন, আর না হলে কাউন্টারে টিকেট না পেয়ে আশেপাশে একটু খোজ করলেই দালালদের কাছ থেকে দ্বিগুন দাম দিয়ে টিকেট পেয়ে যেতেন।

কারণ ট্রেনের টিকেট ব্যবসা নাকি কালোবাজারিরাই নিয়ন্ত্রণ করে। তবে ভাবুনতো!!রেল মন্ত্রণালয় কিভাবে এই খাত থেকে আয় করবে?

এবার বলি ট্রেনের ক্যাফেটেরিয়ার কথা, যেখানে আপনি ভাত, ডাল, মজাদার তরকারি সহ চা, কফি পাবেন। তবে সেগুলো ট্রেনের ক্যাফেটেরিয়ায় বসে খাওয়ার কোন উপায় নেই। কারণ সেটি যে ট্রেনের কর্মকর্তা কর্মচারীদের ব্যাবসার কেন্দ্রবিন্দু।

আপনি উপরের যে ছবিটি দেখছেন এটি হলো ট্রেনের ক্যাফেটেরিয়া।যে কেউ ছবিটি দেখে ভেবে নিতে পারেন এটা হয়তো কোন ওয়েটিং রুম বা রেস্ট হাউজ। আসলে যারা টিকেট ইচ্ছে করেই কাটেনি, কিংবা কাউন্টারে টিকেট পায়নি তাদের থেকে কিছু টাকা নিয়ে ট্রেনের ক্যাফেটেরিয়ায় বসিয়ে রেল ভ্রমনের সুযোগ করে দিচ্ছে কিছু অসাধু কর্মকর্তা। এখানেও সরকারের চোখের আড়াল দিয়ে পকেট ভারী হচ্ছে এ সকল লোভী কর্মকর্তাদের।

আবার, ট্রেনে বিভিন্ন ধরনের চিপস, চকলেট,কোল্ড ড্রিংকস বিক্রি করছে পণ্যের গায়ের নির্ধারিত মূল্যের চাইতে ৫-১০ টাকা বেশি দামে।

যদি বুঝতাম সরকার এসকল পণ্যে ভ্যাট বসিয়েছে, তবে একটা বুঝ দিতে পারতাম মনকে এই বলে যে, এই টাকাটা না হয় সরকারের রাজস্ব খাতেই জমা হচ্ছে। কিন্তু সরকারই যখন এ টাকাটা পাচ্ছেনা, তবে এ টাকাটা কে খাচ্ছে ??

এজন্যইতো মাঝে মধ্যে মনে হয়, রেলখাতে ভূত আস্তানা বানিয়েছে।আর সকল আয় ভূত খেয়ে ফেলছে। না হলে এত্ত আয় হওয়ার সম্ভাবনা যে খাতে, সেখানে কেন সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকা লোকশান হচ্ছে?

আরেকটা কথা, রেলভ্রমন যেন দিনদিন যাত্রীদের জন্য অনিরাপদ হয়ে যাচ্ছে। নিরাপত্তাকর্মী আছে ঠিকই তবে নিরাপত্তার অভাবেই চলন্ত ট্রেনে চলছে ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা।আবার মানুষকে হত্যা করে লাশ ট্রেন থেকে ফেলে দেয়ার অভিযোগ ও শোনা যায় মাঝে মধ্যে।

নিরাপত্তা কর্মীদের নাকের ডগায় এহেন অপকর্ম করে যাচ্ছে অসংখ্য সংঘবদ্ধ চক্র।

সেদিন বি-বাড়িয়া থেকে কামাল চৌধুরী (৪৫) ও তার স্ত্রী পাখি বেগম(৩৫)ঢাকায় যাচ্ছিলেন চিকিৎসার জন্য, চলন্ত ট্রেনের মধ্যেই পাখি বেগমের ভ্যানেটি ব্যাগ ছিনতাইকারীরা নিয়ে ব্যাগে থাকা পঞ্চাশ হাজার টাকা রেখে আবার ব্যাগ ফিরত দিয়ে যায়। এমতাবস্থায় ট্রেনে কর্মরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করলে তারা নিরবদর্শকের ভূমিকা পালন করে।

প্রশ্নজাগে, তবে কি এই অপরাধী চক্রের সাথে আমাদের নিরাপত্তাকর্মীদের কোন গোপন বোঝাপড়া আছে??

এগুলো নিয়ে ভাবলেই মনে প্রশ্ন জাগে,বাংলাদেশের সবচেয়ে সম্ভাবনাময়ী রেলখাত কেন আজ লোকশানের পথে হাটছে? কেন রেলভ্রমণে মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে? এরকম অসংখ্য প্রশ্ন আজ শুধু আমার একার না, এই প্রশ্ন গুলো্ আজ দেশবাসীর।

কিন্তু এই প্রশ্নের উত্তর কে দিবে?

হ্যা, এই প্রশ্নের উত্তর সরকারকেই দিতে হবে।এবং রেলওয়ের নানা অনিয়ম,দূর্নীতি, কালোবাজারি সহ নানা সমস্যা থেকে উত্তরণ সরকারকেই ঘটাতে হবে। একমাত্র সরকারের পক্ষেই এ কাজ সম্ভব।

যদি সরকার আন্তরিক ভাবে প্রচেষ্টা চালায়,তবে যে ভূত রেলওয়ে পরিবহনে রাজ্য/আস্তানা গড়েছিলো, সে তার দলবল নিয়ে ঠিকই পালাতে বাধ্য হবে।

প্রজন্মনিউজ২৪/রেজাউল

 

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ