ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থীদের নিজ রুম ছেড়ে দিলেন ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জিত

প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০৩:৫৩:৪১ || পরিবর্তিত: ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০৩:৫৩:৪১

ছবিটা জগন্নাথ হলের ৩০১৫ নম্বর রুমের। রুমটিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস থাকেন। গত চার দিন যাবৎ তিনি রুম ছাড়া এবং রুমে অবস্থান করছে কিছু ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থী..... আর এ বিষয়টি  বিজয় একাত্তর হল ছাত্র সংসদের ভিপি সজীব উর রহমানের সাথে কথা বলে জানা যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয় গত ১৩ তারিখ থেকে।

প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা দিতে সারা বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী আসে ক্যাম্পাসে। পরীক্ষার আগের দিন প্রায় কয়েক হাজার ভর্তি পরীক্ষার্থী হল গুলোতে বিভিন্ন ভাবে রাত্রি যাপন করে। পরিচিত কেউ থাকলে তাদের রুমে থাকে আর যাদের তেমন পরিচিত কেউ থাকেনা তারা গনরুম,মসজিদ,বারান্দা এমনকি হলের ছাদেও অনেক কষ্ট করে রাত্রি যাপন করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার আগের দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা দেন কোন ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থীদের থাকার জায়গা না থাকলে উনারা উনাদের রুমে ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থীদের থাকার জায়গা করে দিবেন। তারই ধারাবাহিকতায় রাতে হাকিমের আড্ডায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস সকলের উদ্দেশ্যে বলেন কোন হলে ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থীদের থাকার জায়গা না থাকলে উনার রুমে পাঠিয়ে দিতে এবং পরীক্ষার আগের রাতে নিজের ফেইসবুক টাইমলাইনে স্ট্যাটাস দেন কোন শিক্ষার্থীদের থাকার সমস্যা হলে নির্দ্বিধায় উনার রুমে চলে যেতে।

এরপর জানতে পারেন পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে আগত কিছু পরীক্ষার্থী জগন্নাথ হলের ছাদে ঘুমাচ্ছে। খবর পেয়ে তিনি সাথে সাথে তাদেরকে ডেকে এনে নিজের রুমে থাকার জায়গা করে দেন এবং সারা রাত তিনি বারান্দায় বসে কাটান। ঐ রাতে ৮ জন ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থীকে নিজের রুমে জায়গা করে দেন এদের মধ্যে ৪ জন সি ইউনিট ও চ ইউনিটে পরীক্ষা দিয়ে চলে গেলেও বাকি ৪ জন শিক্ষার্থীর ২০,২১ তারিখ পরীক্ষা থাকায় ওরা রুমেই থেকে যায়।

এমতবস্থায় ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থীদের নিজের রুমে থাকার জায়গা করে দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সংগ্রামী সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস নিজে ঘুমানোর জন্য জায়গা করে নিয়েছে অন্য এক রুমে উনার কর্মীদের সাথে। ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থীদের যেন পড়াশুনায় বিঘ্নতা না ঘটে এই জন্য গত চারদিন যাবৎ তিনি নিজের রুমে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন এবং শিক্ষার্থীদের সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। এই মহৎ কাজে আমি একটুও অবাক হইনি কেননা ক্যাম্পাসে গত চার বছর যাবৎ উনার সাথে পরিচয় হবার পর থেকে এমন অসংখ্য মহানুভব কাজ করতে দেখেছি।

সজিব উর রহমান আরও বলেন,তিনি(সঞ্জিত) অন্যদের মত লোক দেখানোর জন্য বা মিডিয়া কভারেজের জন্য করেন না,কাজ গুলো করেন উনি নিজের উদারতা থেকে। সনজিত চন্দ্র দাস সবসময়ই একটা কথা বলেন উনি খুব সাধারণ পরিবারের সন্তান এবং খুব কষ্ট করে পড়াশুনা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি হয়েছেন। তাই হইতো সাধারণ মানুষের কষ্ট গুলো নিজের মত করে অনুভব করতে পারেন

 

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ