একমাস বেওয়ারিশ থাকার পর প্রবাসীর লাশ এলো দেশে

প্রকাশিত: ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০২:৪৯:০৩ || পরিবর্তিত: ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০২:৪৯:০৩

নুরুজ্জামান,সিলেট : সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার বড়চেগ গ্রামের মৃত উস্তার মিয়ার ছেলে আজাদ মিয়া জীবন ও জীবীকার তাগিদে পাড়ি জমান মধ্য এশিয়ার দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতে।

বাংলাদেশের বৃহত্তম শ্রমবাজার সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রায় সাত বছরের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা বন্ধ। ভিসা বন্ধের এই জটিল সময়ে মৌলভীবাজারের আজাদ ভাগ্য বদলের আশায় এ বছরের গোড়ার দিকে ভ্রমণ ভিসায় আরব আমিরাতে আসেন।

এরপর ভিসার মেয়াদ শেষ হলে জমি-জিরেত ভিটে-বাড়ি বন্ধক রেখে সর্বস্বান্ত হয়ে আনা প্রায় ৫ লাখ টাকায় আমিরাতের আজমানের একটি বিল্ডিং মেইন্টেনেন্স কোম্পানি থেকে ইনভেস্টর ভিসা কেনেন। নামে কোম্পানির পার্টনার বা ইনভেস্টর হলেও এখানে তার কাজ অনেক ভাগ্যাহত প্রবাসীর মতো প্রান্তিক শ্রমিকের।

আজাদ মিয়ার মা ও পরিবার থেকে জানানো হয় যে, ঘটনার দিন গত ২৫ জুলাই তিনি কাজ করছিলেন আবুধাবির গ্রিন সিটি আল আইনের আল খাতামে একটি নির্মাণ সাইটে। এসময় সাইটের জন্য আনা ক্যারাভানের চাপায় পড়ে সাইটেই তার মৃত্যু হয়। এরপর প্রায় একমাস লাশটি অযত্নে দূর প্রবাসের লাশ ঘরে পড়ে থাকে।

আরব আমিরাতের রাজধানী আবিধাবির খলিফা মেডিকেল সিটির হিমঘরে দিনের পর দিন লাশটা বেওয়ারিশ হয়ে পড়ে ছিল।এভাবে পড়ে থাকতে থাকতে একসময় বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে নিহত আজাদ মিয়ার পরিবারের অভিরাম আহাজারিতে ।এই নিখোঁজ তরুণটির অনুসন্ধান শুরু হয় এবং পাওয়াও যায় আবুধাবির হাসপাতালের এই লাশ ঘরে।

সন্ধান পাওয়ার পর তা প্রবাসে বৃহত্তর সিলেটের সংগঠন '‘জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের’' দৃষ্টিগোচরে আনা হলে সংগঠনের উদ্যোগে আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাসে যোগাযোগ করা হয়। পরে আরব আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরানের উদ্যোগে গত ২৯ অগাস্ট হতভাগা সেই রেমিটেন্স-সৈনিক আজাদের লাশ বিমানের একটি ফ্লাইটে সরকারি খরচে দেশে পরিবার-পরিজনের কাছে পাঠানো হয়।

আজাদ-কাহনের শেষ এখানেই হতে পারতো আর দু-দশটা দুর্ঘটনার মতো। কর্মস্থলে মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণ আদায়ের দীর্ঘতর বিচারিক প্রক্রিয়ায় ঘটনাটি একসময় ভুলে যেতেন সবাই। একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যটিকে হারিয়ে একদিকে শোকার্ত আজাদের পরিবারের সবাই নিহত আজাদ মিয়ার  পরিবারের সদস্যরা কি শোকের ভার সামলাবেন না অর্থকষ্টের ভার এটা ভাবার কেউ থাকা তো দূরের কথা।  এখানে কিন্তু তা হলো না।

দুঃস্থ প্রবাসী পরিবারের পাশে প্রবাসী সংগঠন: সদ্য গঠিত বৃহত্তর সিলেটের সংগঠন ‘জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিহত পরিবারটির পাশে এসে দাঁড়ালো।গত শুক্রবার সংগঠনের একটি প্রতিনিধিদল  মোহাম্মদ আজাদ মিয়ার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে তাঁর মায়ের হাতে তুলে দিলেন দেড় লাখ টাকার একটি চেক ও নগদ আরও পঞ্চাশ হাজার টাকার অনুদান।

সংগঠনের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা বেলাল উদ্দীন, আহ্বায়ক শাহেদ নূর, সদস্য সচিব সাজেদুর রহমান সাচ্চু তারা জানান,ভিন্ন প্রবাসী সংগঠনও অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। প্রতিটি প্রবাসী সংগঠন এভাবে দুঃস্থ প্রবাসী পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ালে প্রবাসীদের অসহায়ত্ব কমতো।

প্রজন্মনিউজ২৪/শেখ ফরিদ

 

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ