বদলে যাচ্ছে, সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কার্যক্রম

প্রকাশিত: ২৬ অগাস্ট, ২০১৯ ১২:১৬:৪৫

কর্পোরেট পর্যায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ২০২০ সাল থেকে বদলে যাচ্ছে ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কার্যক্রম। আগামী ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং মানদণ্ড ইস্যুর কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতিমূলক কাজ হিসেবে তিনটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নির্ধারণী সংস্থার সদস্যপদ ইতোমধ্যে গ্রহণ করেছে ‘ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল’। অন্যান্য সংস্থার সদস্যপদ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানা গেছে।

সম্প্রতি ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল অর্থ মন্ত্রণালয়ে তাদের কার্যক্রমের বিষয়ে একটি প্রতিবেদন পাঠিয়েছে। ওই প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জনস্বার্থ সংস্থাসমূহের ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কার্যক্রমকে একটি স্বনিয়ন্ত্রিত কাঠামোর আওতায় আনা, হিসাব-নিকাশ পেশার স্ট্যান্ডার্ডস প্রণয়ন, যথাযথ প্রতিপালন, বাস্তবায়ন, তদারকি ও এতদ-সংক্রান্ত অন্যান্য কার্যাবলী সম্পাদনের জন্য একটি কাউন্সিল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং আইন, ২০১৫ প্রণয়ন করা হয়।

আইনের আওতায় প্রজ্ঞাপন জারি করে ‘ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল’ গঠন করা হয়। ইতোমধ্যে সংস্থার অফিস স্থাপন এবং অফিসের প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, চারটি মোটরযান ও অন্যান্য সরঞ্জাম সংগ্রহ করা হয়েছে। ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও দুজন নির্বাহী পরিচালকের নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। বেশকিছু জনস্বার্থ প্রতিষ্ঠানের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যবেক্ষণপূর্বক সতর্ক করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইতোমধ্যে গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এফআরসি’র জনবল কাঠামো এবং খসড়া নিয়োগের বিধি অর্থ বিভাগের অনুমোদনপ্রাপ্তির পর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আগামী ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে মানদণ্ড ইস্যুর কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতিমূলক কাজ হিসেবে তিনটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নির্ধারণী সংস্থার সদস্যপদ ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে এবং অন্যান্য সংস্থার সদস্যপদ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, চারটি পূর্ণদিবস কর্মশালার মাধ্যমে ২৪০ নিরীক্ষককে নিরীক্ষা-সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। জনস্বার্থ সংস্থার আর্থিক প্রতিবেদন ও নিরীক্ষা প্রতিবেদনে দৃশ্যমান সাধারণ অনিয়ম-সংক্রান্ত পরামর্শমূলক ও সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি দুটি জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশ এবং ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে এ সংক্রান্ত অনিয়ম উল্লেখপূর্বক কারণ দর্শানোর চিঠি দেয়া হয়েছে।

১০টি জনস্বার্থ সংস্থার আর্থিক বিবরণী এবং দুটি শিক্ষা ফার্মের ফাইল যাচাই করে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সতর্ক করা হয়েছে। আইসিএবি, আইসিএমএবি ও আরজেএসসি- এর প্রধানের সঙ্গে একাধিক সভা করা হয়েছে। এফআরএ ২০১৫-এর অধীন বিভিন্ন বিধি, প্রবিধান খসড়া প্রণয়ন, পরামর্শক নিয়োগ ও সম্ভাব্য খসড়া বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

প্রতিবেদনে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের সম্ভাব্য প্রধান অর্জনসমূহের মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে- হিসাব ও নিরীক্ষণ পেশার মানদণ্ড, মূল্যায়ন মানদণ্ড ও একচুয়ারিয়াল মানদণ্ড অধিগ্রহণ, প্রণয়ন, প্রচার ও অংশীজনদের সাথে মতবিনিময় করা।

চাকরির বিধি ও সাংগঠনিক কাঠামো অনুসারে অবশিষ্ট দুজন নির্বাহী পরিচালক ও অধস্তন অন্যান্য পদে যথোপযুক্ত জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা। ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং প্রবিধান ও বিধি চূড়ান্ত করা। জনস্বার্থ সংস্থার আর্থিক প্রতিবেদন ও নিরীক্ষা কর্যক্রম পুনরীক্ষণের কার্যক্রম শুরু করা। নিরীক্ষকগণের তালিকাভুক্তি ওয়েবভিত্তিক অনলাইন সফটওয়্যার চালু করা ও নিবন্ধন করা।

ফাইন্যান্সিয়াল রিপোটিং কাউন্সিলের কৌশলগত উদ্দেশ্যসমূহ হচ্ছে- আর্থিক প্রতিবেদনের বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধিকরণে উপযুক্ত মানদণ্ড প্রণয়ন, উন্নয়ন, পরিগ্রহণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। আর্থিক প্রতিবেদনের সত্যতা, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। নিরীক্ষক ও নিরীক্ষা কাজের সর্বোচ্চমান নিশ্চিত করা।

কার্যকর ও উন্নত কর্মপদ্ধতি সম্পন্ন অফিস স্থাপন ও পরিচালনা করা। জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ‘এফআরএ- ২০১৫' আইনের বিধানগুলো অনুসরণ করে অনুমোদিত মানদণ্ড লঙ্গনের ক্ষেত্রে শক্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন উত্থান পর্যায়ে রয়েছে। এ সময় কর্পোরেট খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এসব প্রতিষ্ঠানের ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কার্যক্রম আন্তর্জাতিক পর্যায়ের হওয়া উচিত।

ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের (এফআরসি) চেয়ারম্যান সি কিউ কে মুস্তাক আহমেদ বলেন, চার্টার্ড সেক্রেটারিরা যেন তাদের পেশাগত লক্ষ্য অর্জন করতে পারেন সেজন্য ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল তাদের যথাযথ সহায়তা করবে। এজন্য তারা সবধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর অর্থ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য জনস্বার্থে নিয়োজিত এনজিওসহ বেসরকারি সংস্থা ও সরকারি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাসমূহের কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল প্রতিষ্ঠার বিধান রেখে ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং আইন ২০১৫ বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়। সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বিলটি পাস করার প্রস্তাব করলে কণ্ঠভোটে সেটি পাস হয়।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ-সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়, কর্পোরেট সেক্টর, পাবলিক সেক্টর কর্পোরেশন, সরকারি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, এনজিও, ব্যাংক, আর্থিক ও বীমা প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানসমূহের আর্থিক প্রতিবেদন প্রণয়ন, হিসাবরক্ষণ ও নিরীক্ষা কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা একান্ত প্রয়োজন।

সে লক্ষ্যে ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং আইন প্রণয়নপূর্বক ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল নামে একটি নিরপেক্ষ রেগুলেটরি সংস্থা গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আর্থিক প্রতিবেদনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে যৌথ বিনিয়োগে উৎসাহী হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

এরপর ২০১৭ সালের ৬ জুলাই সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব সি কিউ কে মুস্তাক আহমেদকে ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেয় সরকার। 

প্রজন্মনিউজ২৪/শেখ ফরিদ

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন