এখনো ডেঙ্গু আতঙ্কে দেশ

প্রকাশিত: ২৫ অগাস্ট, ২০১৯ ০৫:০৮:৩০

এম এ মামুন হাসান,স্টাফ রিপোর্টার: ডেঙ্গু জ্বরে কাঁপছে গোটা দেশ। দেশে এখন ডেঙ্গু আতঙ্ক বিরাজ করছে ঘরে ঘরে ডেঙ্গু। প্রতিদিনিই বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা এবার আক্রান্তের সংখ্যা সর্বোচ্চ রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশে ডেঙ্গু রোগ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর শতশত মানুষ এখন ছুটছেন হাসপাতালগুলোতে - কেউ রোগী হিসেবে ভর্তি হতে, কেউবা ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে।

তবে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হবার ভয় এখন শুধু সাধারণ মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, এ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে হাসপাতালের ডাক্তার আর নার্সদের মধ্যেও। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য মতে, চলতি বছরের এক জানুয়ারি থেকে ২২ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত  ১০৪ জন চিকিৎসক আক্রান্ত হয়েছে। কন্ট্রোল রুম জানায়, চিকিৎসকদের পাশাপাশি ১৩৬ জন নার্স ও  অন্যান্য ৯০ জন স্বাস্থ্যকর্মীসহ মোট ৩৩০ জন স্বাস্থ্যসেবাদানকারী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।

বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন দুজন চিকিৎসক, নয়জন নার্সসহ মোট ১৫ জন। আর চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১০২ জন চিকিৎসক, ১২৭ জন নার্স, ৮৬ জন স্বাস্থ্যকর্মীসহ মোট ৩১৫ জন। বিশেষ করে, প্রতিবছর গ্রীষ্মকালে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। কখনো কখনো এই রোগের প্রকোপ মাত্রা ছাড়িয়ে যায়, নেয় ভয়াবহ আকার। চলতি বছর বাংলাদেশে ডেঙ্গুর যে মাত্রা দেখা যাচ্ছে, তা অনেকের মনেই ভয় ঢুকিয়ে দিয়েছে।

সেই সঙ্গে এই রোগে আক্রান্ত মানুষ ও মৃতের সংখ্যাও বাড়ছে। ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে অতীতের সব রেকর্ড। বাংলাদেশে ডেঙ্গু প্রথম দেখা দেয় ১৯৬৪ সালে। রোগ নির্ণয় সম্ভব হয়নি বলে তখন এটাকে ‘ঢাকা ফিভার’ বলা হতো। ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশে আবার ডেঙ্গু দেখা দেয় এরপর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে এবং মারা গেছে অনেকে।

২০১৭ সালে বাংলাদেশে নতুন রোগ চিকুনগুনিয়ার পাশাপাশি ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব লক্ষণীয়। ২০১৮ সালে বাংলাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগ ছিল ১০ হাজার ১৪৮ জন। এ বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালে বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং যে কোনো বছরের তুলনায় এবার ডেঙ্গু আরও প্রাণঘাতী। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত (২৪ আগস্ট) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৬২ হাজার ২১৭ জন।

হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র নিয়ে চলে গেছেন ৫৫ হাজার ৮৮১ জন। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৪৭ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। তবে বেসরকারি হিসাব অনুযায়ী এ সংখ্যা শতাধিকের বেশি। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৬ হাজার ২৮৯ জন। এর মধ্যে ঢাকার ৪১টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৩ হাজার ৫১৮ জন।

অন্যান্য বিভাগে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ৭৭১ জন। উল্লেখ্য, গত জুনে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেওয়ার পর ব্যাপকতা বাড়ে জুলাইয়ে। সেসময়ে ১৬ হাজার ২৫৩ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। আগস্টের প্রথম সপ্তাহে আগের মাসের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি বেড়ে যায়। এ সময় একদিনেই সর্বোচ্চ দুই হাজার ৪২৮ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।

এই অবস্থা চলতে থাকে সপ্তাহখানেক। ঈদের পরদিন ১৩ আগস্ট এক হাজার ২০১ জন হাসপাতালে ভর্তি হন। এরপর প্রতিদিন এই সংখ্যায় ওঠানামা করলও দেড় হাজারের কাছাকাছি থাকে। আজ শনিবারই ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা এগারশ’র ঘরে এলো। এটা সত্য, শুধু রাজধানী নয়- বাইরেও ডেঙ্গুর থাবা বিস্তৃত হওয়ায় বাড়তি উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

আমরা আশা করব, ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব রোধে মশা নিধনের বাড়তি ব্যবস্থা নেয়া হবে। গড়ে তোলা হবে নাগরিক সচেতনতা। এটা সবাই জানে, ডেঙ্গুর জন্য দায়ী এডিস মশা। বর্ষা মৌসুমে ছাদে বা ফুলের টবে পানি জমে থাকলে তা এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এডিস মশা দিনের বেলায় কামড়ায়।

ফলে দিনের বেলায় যাদের ঘুমানোর অভ্যাস তাদের জন্য এডিস মশার শিকার হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। পরিকল্পিত কার্যকর উদ্যোগই কেবল পারে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা থেকে মানুষকে মুক্তি দিতে। তবে এ ক্ষেত্রে নাগরিক সচেতনতা ও সতর্কতার বিকল্প নেই।

প্রজন্মনিউজ২৪.কম

 

 

 

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ