জাতিসংঘের ব্যর্থতায় আন্তর্জাতিক আদালতের শরণাপন্ন

প্রকাশিত: ২১ অগাস্ট, ২০১৯ ০৪:১২:১৪

কাশ্মীর নিয়ে জাতিসংঘে ব্যর্থ হওয়ার পর এবার আন্তর্জাতিক আদালতের শরণাপন্ন হতে চলেছে পাকিস্তান। পকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি মঙ্গলবার সেদেশের এআরওয়াই নিউজ টেলিভিশনকে বলেছেন, আমরা কাশ্মীরের ঘটনাটিকে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সব আইনি দিক বিবেচনার পর এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীরে ভারতের বিরুদ্ধে ওঠা সব মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এই মামলায় তুলে ধরা হবে।

তবে ভারত অবশ্য বরাবরই এমন অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য অনুরোধ করা হলেও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেননি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।  ৫ আগস্ট কাশ্মীর থেকে ৩৭০ অনুচ্ছেদ প্রত্যাহারের পর বিভিন্ন দেশের শরণাপন্ন হন পকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমরান খান। কিন্তু ইসলামিক দেশগুলোও পাকিস্তানের আহ্বানে সাড়া দেয়নি। চীনের আবেদনে সাড়া দিয়ে গত ১৬ আগস্ট অনানুষ্ঠানিক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে সম্মত হয় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। তবে সেখানে চীন ছাড়া আর কেউ পাশে দাঁড়ায়নি পাকিস্তানের।

জাতিসংঘে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন করেছিলেন ইমরান খান। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে জানিয়ে দেয় বৈঠকে। কাশ্মীর ভারত ও পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক বিষয় বলে মনে করে ব্রিটেন এবং ফ্রান্সও। ১৯৭২ সিমলা চুক্তি মেনে দ্বিপাক্ষিক রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে কাশ্মীর সমস্যার সমাধান বলে বৈঠকে জানিয়ে দেয় রাশিয়াও।

সম্প্রতি ভারতীয় নৌ সেনার সাবেক কর্মকর্তা কুলভূষণ যাদব-সংক্রান্ত মামলায় আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে গিয়ে নিজেদের বিপক্ষে ফল পেয়েছে পাকিস্তান। ভারতের আবেদন মেনে পাকিস্তানের জেলে বন্দি কুলভূষণের মৃত্যুদণ্ডাদেশ স্থগিত করে তার সঙ্গে ভারতীয় দূতাবাসের কর্মকর্তাদের যোগাযোগ করতে দেয়ার নির্দেশ দেন আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালত।

প্রসঙ্গত, ভারতের বর্তমান বিজেপি–শাসিত কেন্দ্রীয় সরকার জম্মু ও কাশ্মীরকে বিশেষ সুবিধা দেয়া সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করে দ্বিখণ্ডিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাজ্যটিকে দ্বিখণ্ডিত করে জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ নামে দুটি আলাদা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল সৃষ্টি করা হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ভারতীয় হাইকমিশনারকে বহিষ্কার, দুই দেশের মধ্য চলা ট্রেন ও বাস যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় পাকিস্তান। নয়াদিল্লির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক হ্রাস করার সিদ্ধান্ত জানায় তারা।

প্রজন্মনিউজ২৪/রেজাউল

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ